ফরিদগঞ্জে বিএনপি জামায়েত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত সংগঠনে প্রধান অতিথি হলেন আ.লীগ নেতা

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি | রাজনীতি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৪৮:১৪ পিএম
ফরিদগঞ্জে বিএনপি জামায়েত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত সংগঠনে প্রধান অতিথি হলেন আ.লীগ নেতা
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা অনুযায়ী শুদ্ধি অভিযান, ঠিক সে সময়েই ৯নং (উঃ) গোবিন্দপুর ইউনিয়নে জামায়াত বিএনপি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত বিউটিফুল ধানুয়া’র একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বার্ষিকির সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন।

এ নিয়ে অত্র ইউনিয়নে চলছে সমালোচনার ঝড়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী প্রেমিরা বলছেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযান কে বিদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। এর আগেও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির ত্রাস যারা বিভিন্ন ভাবে আওয়ামী পরিবার ও আওয়ামীলীগ কর্মীদের নির্যাতন ও ঘর ছাড়া করেছেন তাদের সাথে এক মঞ্চে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৯নং (উঃ) গোবিন্দপুর ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি জানান, বিউটিফুল ধানুয়া সংগটনটি ইভটিজিং সহ এলাকাতে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এ সংগঠনের কর্মীদের কে এলাকাতে সবাই লাল বাহিনি হিসেবে চিনে বলেও তিনি জানান।

২০১৮ সালে এই বিউটিফুল ধানুয়া সংগঠনের একজন কর্মী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কে ব্যাঙ্গ ও কুটুক্তি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করেন বলে জানা যায়।

বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে জামায়াত বিএনপি পন্থী নিষিদ্ধ হওয়া বিউটিফুল ধানুয়া সংগঠনটি আবার উজ্জিবিত ও আলোর মুখ দেখতে শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে এ সংগঠনটিকে সহযোগীতা করে আসছেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। ৯নং (উঃ) গোবিন্দপুর ইউনিয়নটি স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে বিএনপি জামায়াত ও তাদের পরিচালিত বিতর্কিত সংঘটন কে পুনরায় প্রতিষ্ঠা ও বাঁচিয়ে রাখা কে ইউনিয়ন আওয়ামী পরিবার ও নেতৃবৃন্দদের সাথে চরম উপহাস হিসেবেই দেখছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, নৌকা প্রার্থীক নিয়ে নির্বাচিত হওয়া আওয়ামীলীগের একজন উপজেলার চেয়ারম্যান কিভাবে এমন একটি বিতর্কিত জামায়াত বিএনপির সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা হোন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে তাদের অনুষ্টানে উপস্থিত হোন তা আমাদের বুঝে আসেনা।

স্থানীয় আরেক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘বাপু এরা সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর দল টারে ধ্বংস কইরা দিবো। জামাতের সাথে আপোষ করার জন্য বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে যাই নাই। কার কাছে বিচার দিমু হেরা অহন বড় নেতা, আগে হুনতাম শরিষার ভিতরে ভুত আর এখন দেখতাছি উপজেলা চেয়ারম্যান এর ভিতরে ভুত! এমন নোংরা ঘটনায় আমরা লজ্জিত এবং বিব্রত। আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।’

এমন সমালোচনার জবাবে উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, আমি এ অনুষ্ঠানে আসার আগে যাচাই বাছাই করিনি। ভুল বসত বিউটিফুর ধানুয়া সংগঠনের বেশির ভাগ লোক যে জামায়েত বিএনপি করে তা আমার জানা ছিল না। যেহেতু আমাকে দাওয়াত করেছে  আমি না যেনে বুঝে দাওয়াত গ্রহন করেছি। তিনি বলেন, মানুষ ভুল করবেই। দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আমি সভায় এসে ভুল করেছি তাই সবাই আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

এ বিষয়ে সাংগঠনিক বিধি বিধান জানতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীগ সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটোয়ারি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কে ফোন দিলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন