নিষ্ঠুর বাবা !

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ | ০৫:৫৮:৪২ পিএম
নিষ্ঠুর বাবা !
এ কেমন বাবা যে নিজের শিশু সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করে? বলছিলাম সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিশু তুহিনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা।আমি বাকরুদ্ধ, বিস্ময়ে হতবাক! মানুষও কি এমন কাজ করতে পারে? সামাজিক যোগাযোগ মাথ্যমে ভাইরাল গাছে ঝুলন্ত শিশু তুহিনের রক্তাক্ত দেহের ছবির দিকে দৃষ্টি দেওয়া যায়না। নিজের লোকের কাছে যেখানে শিশুরা নিরাপদ নয় সেখানে অন্যের কথা কী বলবো। বুয়েটের নিহত শিক্ষার্থী আবরারের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি তার মাঝেই এমন বিভৎস ঘটনা ঘটলো। বাবা-চাচারা সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

অথচ সেই বাবার কোলেই নিরপরাধ, মাসুম শিশু তুহিনকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলা হলো। অবুঝ এই শিশুটিকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চেয়েছিল বাবা। কিন্তু উপরওয়ালা শিশুটির নির্মম হত্যাকে সহ্য করেননি। যে কারণে ঘটনার সাথে সাথেই অপরাধীর মুখোশ উন্মোচন করে দিলেন।

বাবার কাছে সন্তান কত অমূল্যের একটা বস্তু। সন্তানের চিন্তায়, তার ভবিষ্যত জীবন গঠন নিয়ে কত পেরেশান থাকেন বাবা। চেষ্টার অন্ত থাকেনা সন্তানকে একটি সুন্দর জীবন দিতে। অথচ এই বাবা কী করলেন? সন্তানের জীবনটাই বলি দিলেন। এমন নির্মম ঘটনা অন্ধকার যুগেও ঘটেছে বলে জানা নেই।

কেন এমন নৃশংসতা আমাদের সমাজে ঘটছে? এর কারণ উদঘাটন করা জরুরি।

বাবারাতো এমন হওয়ার কথা নয়। তারাতো সন্তানের জন্য নিজের জীবনকেই বিপন্ন করতে দ্বিধাবোধ করেননা। অস্থির থাকেন সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে।সেই জায়গাটিতে সমাজ দেখলো উল্টোটাই।বাবার হাতে অনিরাপদ নিজের সন্তান! এমন নিষ্টুর বাবা যেন কারো না হয়।
সন্তান অসুস্থ হলে বাবার সেকি ছুটোছুটি ডাক্তারের কাছে। নির্ঘুম রাত কাটান সন্তানের পাশে থেকে। জীবনের সব আয়, উপার্জন ঢেলে দেন সন্তানের জন্য-এমন বাবাই তো সবার কাছে পরিচিত। কিন্তু বাবা যদি নিষ্টুর হন মানবিক পরিচয়টা আর থাকেনা। তখন সেটা হয়ে যায় নিষ্ঠুরতা। পরিচিতি পায় মানবতাহীন এক নির্দয় পাষণ্ডরূপে। হয়ে যায় পশুর চাইতেও অধম।
সমাজের মানুষকে এসব মানুষরূপী পশুদের বর্জন করতে হবে। প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে হবে। করতে হবে কঠোর বিচার।

আমাদের দেশে মামলার ভারে বিচারালয়গুলো ভারাক্রান্ত। যেকারণে বিচারকাজ শেষ করতে প্রচুর সময় লেগে যায়। এজন্য দ্রুত বিচার শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইতিমধ্যে তুহিন হত্যার দায়ে বাবা-চাচাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, নেয়া হয়েছে রিমাণ্ডে।
সাধারণ মানুষ এসব অপরাধীর বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানাচ্ছে। ওদের এমন শাস্তি হোক যেন আর কোন নিষ্ঠুর বাবা তৈরী না হয়। দেশের মানুষ এসব নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।

বাবার নামে কবিতা, কত উপন্যাস আর গান রচিত হয়েছে তার কোন হিসেব নেই।বাবা বটবৃক্ষের মতো সন্তানকে ছায়া দিয়ে যান জীবনভর। বাবাকে তো নিষ্ঠুর কল্পনা করা যায়না। কিন্তু এমন ঘটনা আমাকে, আপনাকে শংকিত করে তোলে। ভাবিনি এমন নৃশংস দৃশ্য দেখতে হবে।

বহু সন্তান বাবা-মা কে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে।

এনিয়ে অনেক ঘটনা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সমালোচনা হয় সর্বত্র। এটা যেমন নিন্দনীয় তেমনি বাবাদের নিষ্ঠুর হওয়াটাও মেনে নেয়া যায়না।

আমাদের মাঝে নৈতিক চরিত্রের ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। দিন দিন হিংস্রতা আর পশুত্বতা আমাদের গ্রাস করছে। যা রোধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা মুশকিল।

প্রত্যেক বাবা সন্তানের জন্য আশা-ভরসার স্থল হোক। কোন নিষ্ঠুর বাবার জন্ম যেন আর না হয় সে কামনাই করতে হবে আমাদের।

সন্তান হোক বাবার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। বাবা হোক সন্তানের কল্যাণকামী। নিষ্ঠুর বাবা চাইনা। পৃথিবীর সব বাবার কোল হোক সন্তানের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন