‘নামায’র ইতিকথা

মোঃ মিজানুর রহমান, অভয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি | ইসলাম
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ মে ২০১৯ | ১০:২৩:২৮ এএম
‘নামায’র ইতিকথা
‘নামায’ ফার্সি শব্দ। আরবীতে হলো সালাত। সালাতের প্রতিশব্দ হিসেবে বাংলায় ‘নামায’ এর প্রচলন সর্বত্র। মহান আল্লাহ তায়ালা নামাযকে জ্বিন ও মানব জাতির জন্য আবশ্যপালনীয় অর্থাৎ ফরজ করেছেন। নামায হলো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রদর্শনের উপায়। সালাত ব্যক্তিজীবনে অর্থাৎ ইহকাল ও পরকালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সালাত মানুষকে আল্লাহর প্রতি অনুগত থাকার শিক্ষা দেয়, সেই সাথে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনকে করে কলুষহীন ও পবিত্র। যে জীবন সালাতের নূরে আলোকিত তার পরকালে অণুপ্রবেশ ঘটে নিষ্পাপ শিশুর মতো। তাই সালাতকে বলা হয় জান্নাতের চাবি। মহান আল্লাহ তায়ালা সালাত আদায়ের প্রতি এতই গুরুত্ব দিয়েছেন যে, পবিত্র কোরআন শরীফের ১১৪ টি সূরার ৩৮ টিতে ১২৬ জায়গায় সালাত আদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। সালাত যথাযথ  গুরুত্বের সাথে আদায় না করাটা নি:সন্দেহে অত্যন্ত গুনাহের কাজ। অতএব, আমাদের প্রত্যেকেরই কর্তব্য নিয়মিত ও সহীহভাবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা। সহীহ শুদ্ধভাবে সালাতে মনোনিবেশ করলেই মানুষ মহান আল্লাহর সন্ধান পাবে এবং পৃথিবীতে সৎপথে চলার দিশা খুঁজে পাবে। পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করবে।

সালাত হলো ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। ইসলামের স্তম্ভগুলো হলো কলেমা, নামাজ, রোযা, হজ্জ্ব ও যাকাত। প্রত্যেকটি স্তম্ভ প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য অবশ্যপালনীয়, যদিও হজ্জ্ব ও যাকাত শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সামর্থবান মুসলিম নরনারীর জন্য প্রযোজ্য। দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে মোট সতেরো রাকাত এবং শুধুমাত্র জুমার দিনে পনেরো রাকাত ফরজ নামায আদায় করতে হয়। প্রতি ওয়াক্তের ফরজের সাথে সুন্নত, কোন কোন ওয়াক্তে নফল এবং এশার ওয়াক্তে বিতরের ওয়াজিব নামায আদায় করতে হয়। কিন্তু ফরজের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এই ফরজ নামায কিভাবে, কোথা থেকে, কোন প্রেক্ষিতে এসেছে এবং তা আদায়ের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কী নির্দেশ আছে, তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। যদিও জানাটা বাধ্যতামূলক নয়, জানলে আমাদের ঈমান মজবুত হতে সহায়ক হবে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়ের উৎসাহ ও আসক্তি বহুগুণে বেড়ে যাবে, এই ধারনায় আমার এই প্রচেষ্টা।

“ফজর” ফজরের ফরজ নামায দুই রাকাত। এই নামাযের প্রচলন হয় হযরত আদম (আ:) এর সময় থেকে। আমরা জানি হযরত আদম (আ:) ও বিবি হাওয়া জান্নাতে ছিলেন। কিন্তু আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শয়তানের প্ররোচনায় তাঁরা নিষিদ্ধ ফল খেলে আল্লাহতায়ালা তাঁদের দুজনকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করে দুনিয়ায় পাঁঠিয়ে দেন। তাঁদেরকে রেখেছিলেন পৃথিবীর দুই ভিন্ন প্রান্তে কে কোথায় আছে সে সম্পর্কে তাঁরা একদমই কিছু জানতেন না। পৃথিবীতে তখন রাত্রিকাল, চারিদিকে ঘোর আন্ধকার। হযরত আদম (আ:) জান্নাতে থেকে অন্ধকার সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকায় তিনি অত্যন্ত ভয় পেয়েছিলেন। সেই অন্ধকারে ভয়ে ভয়ে রাত কাটানোর পর এলো সুবেহ সাদেক, তিনি পূর্বকাশে আলো দেখতে পেলেন। তখন হযরত আদম (আ:) এর মন থেকে অন্ধকারের ভয় দূরীভূত হয়। অন্ধকারের ভয় থেকে মুক্তি ও পৃথিবীকে আলোকিত দেখতে পেয়ে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার জন্য দুই রাকাত নামায আদায় করেন। এরপর থেকে আল্লাহর বান্দাদের প্রতি ফজরের দুই রাকাত নামাজ আদায় ফরজ হয়ে যায়।
 
‘জোহর’- জোহরের নামাযের প্রচলন হয় হযরত ইব্রাহিম (আ:) এর সময় থেকে, হযরত ইব্রাহিম (আ:) কে মহান আল্লাহ পাক স্বপ্নের মাধ্যমে নির্দেশ দেন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁকে তার সর্বাধিক প্রিয় বস্তুটি কোরবানী দিতে। হযরত ইব্রাহিম (আ:) মহাবিপাকে পড়ে গেলেন তাঁর প্রিয় বস্তু নির্ধারন করতে গিয়ে, শেষ পর্যন্ত তিনি দেখলেন তাঁর প্রিয় বস্তু আর কিছু নয়, তাঁর আদরের শিশু পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ:)। হযরত ইব্রাহিম (আ:) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শিশু পুত্রের মায়া বিসর্জন দিয়ে স্ত্রী ও পুত্রকে জানিয়ে সর্ব আদরের পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ:) কে কোরবানী দিতে মনস্থির করলেন। পুত্রকে কোরবানী দিতে মক্কার অদূরেই মিনা নামক স্থানে নিয়ে গেলেন। সন্তানের মায়া যেন তাঁর অন্তরাত্বাকে দূর্বল করতে না পারে সেই কারনে তিনি নিজের চোখ কালো কাপড়ে বেঁধে নিলেন। তিনি যখন তাঁর পুত্রের গলায় ছুরি চালালেন বারবার চেষ্টা সত্বেও গলা কাটছিলো না। এমন সময় মহান আল্লাহর আদেশে ফেরেশতারা হযরত ইসমাঈল (আ:) এর স্থানে জান্নাত থেকে একটা দুম্বা এনে ধরলে তা কোরবানী হয়ে যায়। হযরত ইব্রাহিম (আ:) চোখের বাঁধন খুলে দেখলেন তাঁর প্রিয় পুত্রের পরিবর্তে দুম্বা কোরবানী হয়েছে এবং মহান আল্লাহর রহমতে তিনি এই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও শিশু পুত্রকে জীবিত পাওয়ার আনন্দে আত্মহারা হয়ে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য চার রাকাত নামায আদায় করেন। প্রথম রাকাত মহান আল্লাহর কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য, দ্বিতীয় রাকাত আদরের পুত্রকে জীবিত পেয়ে, তৃতীয় রাকাত মহান আল্লাহ তাঁর কোরবানী কবুল করেছেন এই খুশিতে এবং চতুর্থ রাকাতে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন তাঁকে এমন ধৈর্য্যশীল সন্তান দান করার জন্য। আল্লাহ পাক সন্তুষ্ট হয়ে এরপর থেকে তাঁর বান্দাদের উপর এই চার রাকাত নামায ফরজ করে দেন।

‘আছর’আছর নামাযের প্রচলন হযরত ইউনুস (আ:) এর সময় থেকে। ভয়াল এক ঝড় তুফানের দিনে জাহাজ থেকে সমুদ্রে তিনি পড়ে যান এবং একটি মাছ তাকে গিলে ফেলে। সেই মাছের পেটে ভয়াবহ অবস্থায়ও নবী হযরত ইউনুস (আ:) মহান আল্লাহর নাম ভোলেননি। তিনি জিকিররত ছিলেন ‘ইসমে আজম’ পাঠ করায়- ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালেমিন’। তাঁর জিকিরে সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহর নির্দেশে মাছ তাঁকে একটি নির্জন দ্বীপে পেট থেকে বের করে রেখে দেয়। সেখানে তিনি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য চার রাকাত নামায আদায় করেন। প্রথম রাকাত মাছের পেটের থেকে মুক্তি লাভের জন্য দ্বিতীয় রাকাত গভীর সমুদ্রের পানির তলদেশ থেকে মুক্তির জন্য, তৃতীয় রাকাত ঝড় ঝঞ্ঝার ভয়াবহতা থেকে মুক্তি লাভের জন্য এবং চতুর্থ রাকাত রাতের অন্ধকার থেকে মুক্তি পাবার জন্য। মহান আল্লাহ পাক সন্তুষ্ট হয়ে এরপর থেকে এই চার রাকাত নামায তাঁর বান্দাদের জন্য ফরজ হিসাবে নির্ধারিত করেন।

‘মাগরিব’ আল-কুরআনের সূরা ইউসুফে উল্লেখ আছে হযরত ইউসুফ (আ:) কে বালক আবস্থায় তাঁর ভাইয়েরা কুয়ার মধ্যে ফেলে দিলে এক ব্যবসায়ী কাফেলা তাঁকে তুলে নিয়ে মিশরে বিক্রি করে দেয়। বড় হওয়ার পর তাঁর বিচক্ষণতার পরিচয় পেয়ে মিসরের রাজা তাঁকে মন্ত্রীত্ব দেন। দেশে দূর্ভিক্ষ দেখা দিলে তাঁর ভাইয়েরা মিসরে যান খাদ্যের সন্ধানে। হযরত ইউসুফ (আ:) ভাইদের চিনতে পারেন এবং পিতার অন্ধত্ব সম্পর্কে জানতে পেরে কেনানে ফেরার সময় নিজের একটি জামা ভাইদেরকে দেন। তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আ:) জামাটি চোখে স্পর্শ করার সাথে সাথে দৃষ্ঠি শক্তি ফিরে পান এবং তখন তিনি তিন রাকাত নামায আদায় করেন যার প্রথম রাকাত পড়েন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ায়, দ্বিতীয় রাকাত পড়েন ছেলে বেঁচে থাকার সংবাদ পেয়ে এবং তৃতীয় রাকাত পড়েন ছেলে ইসলামের পথে থাকায়। আল্লাহ তাঁর নামায কবুল করে তা সকল বান্দাদের উপর ফরজ করে দেন। মাগরিবের তিন আরাকাত নামায নিয়ে আরো একটি প্রচলিত কাহিনী হল-একবার হযরত দাউদ (আ:)  একটা ভুল করে আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করেন আল্লাহর ক্ষমা প্রাপ্তির পর চার রাকাত নামাযের নিয়ত করেন। কিন্তু তিনি তিন রাকাতের পর অজ্ঞাত কারনে নামায শেষ করেন। আল্লাহ তাঁর নামায কবুল করে সকল বান্দার উপর তা ফরয করে দেন।

“এশা” এশার চার রাকাত ফরজ নামাযের প্রচলণ হয় হযরত মুসা (আ:) এর আমল থেকে। তিনি আল্লাহর নবী হযরত শোয়াইব (আ:) এর নিকট দশ বছর কাটিয়ে সন্তান সম্ভবা স্ত্রী সহ মিসরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় হযরত মুসা (আ:) এর মন চারটি দুশ্চিন্তায় ভারাক্রান্ত ছিল। (১) তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর জন্য ২) দূরবর্তী দূর্গম পথ তাঁদের হেটে যাত্রা করার জন্য ৩) তাঁর ভাই হারুন (আ:) এর জন্য এবং ৪) শেষ দুশ্চিন্তার কারন ছিল বাদশা ফেরাউন। এমন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি তুর পাহাড়ের নিকট পৌছালেন। সেটি ছিল শীতের রাত তাদের কাছে আগুন জ্বালাবার কোন ব্যবস্থা ছিল না। এদিকে তার স্ত্রীর প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসছিল। এমন সময়ে তিনি তুর পাহাড়ের চুড়ায় আগুন দেখতে পান। স্ত্রীকে পাহাড়ের নিচে রেখে মুসা (আ:) তুর পাহাড়ের চুড়ায় যান আগুন আনতে। সেখানে তিনি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে কথা বলার সুযোগ পান এবং নবুওয়াত লাভ করেন। মহান আল্লাহর করুনায় তাঁর চারটি মুসিবত দূর হয়ে যায়। হযরত মুসা (আ:) শুকরিয়া আদায়ের জন্য চার রাকাত নামায আদায় করেন। আল্লাহ তাঁর নামায কবুল করেন এবং সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর বান্দাদের উপর এশার চার রাকাত নামায ফরজ করে দেন।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে সতেরো রাকাত নামায ছাড়াও সুন্নত নামায আছে। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) প্রতি ওয়াক্তে ফরজের সাথে যে নামায নিয়মিত পড়তেন, তা তাঁর উম্মতের জন্য সুন্নত। তাই এই সুন্নত নামায আমরা আদায় করে থাকি। এ ছাড়াও আছে বিভিন্ন ফরজ ও সুন্নতের সাথে নফল নামায। প্রিয় নবীজী (স:) এর সাহাবীগণ ফরজ ও সুন্নতের সাথে এই নফল নামায আদায় করতেন। আর এশার ওয়াক্তের সহিত বেতেরের তিন রাকাত ওয়াজিব নামায যা আল্লাহ তায়ালারই হুমুক।
 
নামাযকে শ্রেষ্ট ইবাদত বললে অত্যুক্তি হয় না। হযরত আদম (আ:), হযরত ইব্রাহিম (আ:), হযরত ইউনুস (আ:), হযরত ঈসা (আ:), হযরত ইয়াকুব (আ:), হযরত মুসা (আ:) এবং সর্বশেষ নবী কারিম (সা:) নামায পড়েছেন। আমাদের নামাযের হুকুম যদিও আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন পাকের মাধ্যমে দিয়েছেন। প্রকৃত পক্ষে আমরা নামায পেয়েছি উর্ধ্বোকাশ থেকে ২৭ রজব শবে মেরাজের রাত্রিতে আল্লাহ তায়ালা হযরত নবী কারিম সাল্লাল-লাহু আলাইআসসালাম কে নিজ সান্নিধ্যে ডেকে নিয়ে দেয়া ‘তোহফা’ রুপে। অর্থাৎ শেষ নবী (সা:) ও তাঁর উম্মতের উপর সমন্বিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ হয় পবিত্র শবে মে’রাজ থেকে। হযরত রাসুলুল্লাহ (সা:) কে নবুয়তের দশম বর্ষে তাঁর পঞ্চাশ বছর তিন মাস বয়ো:ক্রমকালে আরবী রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাত্রে অর্থাৎ ২৭ রজব রাত্রে পিয়ারা হাবিব হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সাক্ষাৎ ও কথা বলার উদ্দেশ্যে হযরত জিবরাইল ফেরেশতার দ্বারা স্বীয় সান্নিধ্যে উপস্থিত করেন, এরই নাম শবে মে’রাজ। শব অর্থ রাত্রি এবং মেরাজ অর্থ উর্ধ্বাকাশে আরোহন।

‘জুম্মার নামাজ’ মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা জুমার মাধ্যমে আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ  (স:) কে যে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, তারই আলোকে প্রতি শুক্রবার জোহরের ওয়াক্তে জুমার নামায পড়া হয়। জুমার নামাযে ফরজ পড়তে হয় দুই রাকাত। সেই কারনে জুমার দিনে পাঁচ ওয়াক্তে মোট পনেরো রাকাত ফরজ নামায আদায় করতে হয়। হযরত রাসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন দিবস সমূহের মধ্যে জুমা দিবস সবচেয়ে উত্তম। সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে গন্য করা হয় জুমাকে। শুক্রবার তাই আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিবস।  

ঈদ-উৎসব
মহানবী (সা:) পবিত্র মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পূর্ব থেকেই মদিনায় বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের আপন সম্প্রদায়ের স্বতস্ত্রতা প্রকাশ ও ধর্মীয় উৎসবের নামে নির্দিষ্ট দিবসে আনন্দ উৎসব পালন করতো। তাদের মধ্যে ‘নাইরোজ’ ও ‘মেহেরযান দিবস’ অন্যতম এবং সর্বাধিক সমাদৃত। দিবস দুইটি এক সময় তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতিক রুপ লাভ করে, কিন্তু তাদের এ উৎসব দুইটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে পালিত হলেও, ধর্মীয় রীতিনীতির কোন উপস্থিতি সেখানে ছিল না। বরং একান্তই আনন্দ, উৎসবের নামে চলতো অশ্লীলতা, বেহায়পনা ও উচ্ছৃঙ্খলতা। মহানবী (স:) মদিনায় আগমন করে গভীরভাবে এই অবস্থা পর্যবেক্ষন করেন এবং তাদের প্রচলিত ধর্মীয় মোড়কে গড়ে ওঠা অশুদ্ধ সংস্কৃতির বিলোপ সাধনের যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহনের চিন্তা করতে থাকেন। ঠিক তেমনই এক শুভক্ষণে বিশুদ্ধ বর্ণনার ভিত্তিতে ঐতিহাসিক দ্বিতীয় হিযরীতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ-উল আযহা নামক গোটা বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতের সর্ববৃহৎ দ্বীনি সংস্কৃতিক কর্মসূচীর ঐতিহাসিক ঘোষনা প্রদান করেন। মহানবী (স:) দ্বার্থহীন কন্ঠে বলেন, জেনে রাখ, হে বিশ্ব মুসলিমগণ, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিজস্ব আনন্দ উৎসব দিবস আছে। আর আমাদের আনন্দ উৎসব দিবস হলো এটাই (ঈদ-উল ফেতর ও ঈদ-উল আযাহা), মহান আল্লাহ উত্তম দুটি দিবস তোমাদেরকে দান করেছেন, যা তোমাদের পূর্বে প্রচলিত দিবসগুলো থেকে সর্বোত্তম।

এভাবেই বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে ঈদ উৎসবের প্রবর্তন। মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতির আনন্দ ও খুশির জন্য বছরে দুইটি দিন নির্ধারিত করে দিয়েছেন। ঈদ-উল ফেতর ও ঈদ-উল আযাহা।
 
আরবী পবিত্র শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে মুসলিম জাতি ঈদ-উল ফেতর উৎসব পালন করে থাকেন। কারন পবিত্র মাহে রমজানের রোজা পালন শেষে আনন্দ খুশি প্রকাশের জন্য এ ঈদ-উল ফেতরের উৎসব পালিত হয় এবং জিলহজ্জ্ব মাসের দশ তারিখে মুসলিম জাতি ঈদ-উল আযাহার উৎসব পালন করে থাকেন। এ উৎসব প্রকৃতপক্ষে হযরত ইব্রাহিম (আ:) ও হযরত ইসমাঈল (আ:) এর কুরবানীর মহিমার স্মৃতিবাহক দিনটিকে ঈদ-উল আযাহা বা কোরবানীর উৎসব হিসাবে পালিত হয়। এই দিন জাতি আল্লাহর নির্দেশে গরু, উট, দুম্বা, ছাগল আল্লাহর রাহে কোরবানী করে।

এছাড়াও রয়েছে রমজান মাসে তারাবির নামায, তাহাজ্জ্বতের নামায, জানাযার নামায, তাসবিহের নামায, চাস্তের নামায, এস্তেষ্কার নামায ইত্যাদি।

 

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন