ভালোবাসা হোক সুস্থ ও প্রতিদিনের

গোলাম মোস্তফা রবি | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ | ১১:০০:১৬ এএম
ভালোবাসা হোক সুস্থ ও প্রতিদিনের
ভালোবাসা মানুষের মানবতার প্রধান ধর্ম। ধনী কিংবা গরিব, ছোট কিংবা বড় সব মানুষের হৃদয়ে স্রষ্টা রুয়ে দিয়েছেন ভালোবাসার বৃক্ষ। ভালোবাসার কোন গানিতিক রূপ নেই। যোগ বিয়োগ করে ভালোবাসা হয় না, ভালোবাসার কোন স্থান-কাল-পাত্র নেই। ভৌগোলিক সীমা রেখার শিকল দিয়েও ভালোবাকে বন্দি করে রাখা যায় না। ভালোবাসার শক্তি পারমানবিক বোমার চেয়েও ভয়ানক। কেননা ভালোবাসার সুইচ কারো নিয়ন্ত্রনে নেই।

ভালোবাসার জগৎ আলাদা ও স্বাধীন মনা। সাধারণ সমাজের চোখে যা অসংগতিপূর্ণ, প্রেমের সমাজে তা খুবই স্বাভাবিক। ভালোবাসার গভীরতা এত বেশি যে সারা জীবন ব্যয় করেও এর সীমা-পরিসীমা নির্ধারণ করা কঠিন। শিল্প-সাহিত্য -সংস্কৃতি সর্বত্রই পাওয়া যায় ভালবাসার উপাখ্যান। ভালবাসাকে কেন্দ্র করে আয়োজনের আর শেষ নেই। কিন্ত সব আয়োজন ছাপিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারীকে করা হয়েছে ভালোবাসা দিবস। যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি কাঙ্ক্ষিত দিন ও সার্বজনীনও বটে। জন্মের পর থেকেই মানুষ বেড়ে উঠে এই ভালোবাসার মাধ্যমে। আর তাই ভালোবাসার জন্য সব হৃদয়ে থাকে ব্যকুলতা ও বিশেষ ধরণের ভাবনা। এর জন্যই ভালোবাসা দিবসের গল্পটাও বেশ রঙিন।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের পটভূমিটি কি আসুন খুঁজে দেখি ইতিহাসের পাতায়। ১৯৯৩ সালের দিকে আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটে। সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব শফিক রেহমান পড়াশোনা করেছেন লন্ডনে। পাশ্চাত্যের রীতিনীতিতে তিনি ছিলেন অভ্যস্ত। দেশে ফিরে তিনিই ভালোবাসা দিবসের শুরুটি করেন। এ নিয়ে অনেক ধরনের মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শফিক রেহমানের চিন্তাটি নতুন প্রজন্মকে বেশি আকর্ষণ করে। সে থেকে এই আমাদের দেশে দিনটির শুরু। বছর ঘুরে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের ভালোবাসায় রাঙিয়ে গেলেও, ভালোবাসা কিন্তু প্রতিদিনের।

জীবনের গতি নির্ধারণ করে ভালোবাসা। মানুষ বেঁচে থাকার মানেই ভালোবাসা। এমন অনেক প্রচলিত ঘটনা, তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে। কিন্তু এই ভালোবাসা নিয়ে বর্তমান সমাজের আবেগ মিশ্রিত অশ্লীলতা ভালোবাসা নয়। এসব কখনো কখনো জীবন কেড়ে নেয় এবং পরিবারকে অপমানিত, লাঞ্ছিত করেও ছাড়ে। সমাজে পরিবারের সম্মান ধূলিসাৎ করে দেয়।

সুন্দর সমাজ গঠনের অন্তরক হয়ে দাঁড়ায়। জীবন যাপনে বাধা সৃষ্টি করে। আমরা এসব বুঝি কিন্তু তবুও আমরা আবেগের বশীভূত হয়ে ছুটে চলি ভালোবাসা নামের এমন বেহায়াপানায় যা মরীচিকা ও অস্তিত্বহীন। রাজধানীর বিভিন্ন পার্কে দেখা যায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা দিনের পর দিন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রেমের দোহাই দিয়ে যুক্ত হচ্ছে অশ্লীলতা। যা সমাজ ধংসের প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ভালোবাসার নাম দিয়ে সমাজে আজ আমরা বিষবাষ্প তৈরি করছি। ভালোবাসার নামে অনেক কিছুই করছে তরুণ সমাজ,যা ভালোবাসার সংজ্ঞায়নে পড়েনা। এক সাথে থেকে লিভ টুগেদার করলেই ভালোবাসা হয়ে উঠেনা, কিন্তু আজ আমরা কিছু অশ্লীলতাকে ভালোবাসা বলছি। এর দায় কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। ভালোবাসা হয়ে উঠুক পবিত্র হৃদয়ের বন্ধন, যেখানে মানুষ মানুষের কাছে আসে। ভালোবাসার না করে যেন কোনো মেয়েকে শিকার না হতে হয় ধর্ষণের, যে সমাজে অশ্লীলতাকে ভালোবাসা নামে চালিয়ে দেয়া হয়, সে সমাজ আমাদের কাম্য নয়।

কোনো ভেজাল ভালোবাসায় আমরা যাতে আবদ্ধ না হয়ে পড়ি, সত্যিকারের ভালোবাসা প্রকাশ হোক শতভাবে, শতরুপে। ভালোবাসায় ভরে উঠুক মানুষের প্রাণ। সকল বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে কাছের মানুষগুলোর জন্য ভালোবাসা থাকুক আজীবন, তাহলেই যে ভালো থাকি আমরা, ভালো থাকবে সবাই। আমাদের সবার মাঝে জাগ্রত হোক ভালোবাসা, যে ভালোবাসায় সবাইকে এক করে নেয়া যায়।

লেখকঃ-গোলাম মোস্তফা রবি
ই-মেইলঃ gmr3354@gmail.com
মোবাইলঃ ০১৮১৩৩০৩৩৫৪

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন