ভার্সিটি পড়ুয়া ইয়াবা আসক্ত তরুণীর যত কাণ্ড!

ডা. সাঈদ এনাম | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ | ১০:৫৬:৫৯ পিএম
ভার্সিটি পড়ুয়া ইয়াবা আসক্ত তরুণীর যত কাণ্ড!
বহু আগে একটা কেইস পেয়েছিলাম উপজেলায়। তখনও সাইকিয়াট্রিস্ট হইনি। বিষয়টি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম।

তরুণী হাসপাতালে আউটডোর রুমে ঢুকেই মাথাব্যথাসহ নানান উপসর্গের কথা একে একে বলতে লাগল। তার কথাবার্তার স্টাইল, পোশাক-আশাকে আভিজাত্য আর আচরণে নেহায়েত উঁচু পরিবারের মনে হলো। যদিও কিছুটা গ্রান্ডুইসিটি, ওভার ভলিউম স্পিচ ছিল।

উপজেলায় আউটডোরে দুই মিনিটের বেশি সময় একটি রোগীকে দেয়া যায় না। খটকা লাগার কারণে তাকে পাশে অপেক্ষা করতে বললাম।

সিরিয়ালের রোগী দেখার পর কথা শুরু করলাম তার রোগ নিয়ে। একপর্যায়ে কথা বলতে বলতে তরুণী ব্যক্তিগত কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করলেন, যা নিতান্তই বলার নয়।

অপরিচিত বা সামান্য পরিচিত কারো সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে আবেগপ্রবণ কথার অনেক গুরুত্ব থাকে।

"আমি বারিধারার প্রাইভেট ভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছি। কাল বাড়িতে এসেছি। পড়াশোনার খরচাপাতি হাতখরচ প্রয়োজন। কিন্তু বাবা দিতে চান না, কৃপণ প্রকৃতির। যদিও বাবার অনেক টাকা আছে। আর কাল সারারাত বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করেছি এই হাতখরচের টাকা নিয়ে। তারা দেননি, সকালে তাই কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে এসেছি। আই উইল নেভার ব্যাক হোম। প্রয়োজনে বাবার সম্পত্তির জন্য, আই উইল টেক দা লিগ্যাল অ্যাকশন। সো কেস ইন হাইকোর্ট অ্যাগেইন্সট মাই ডার্টি পাপা। বাট নাও ফিলিং সিভেয়ার হেডেক নাও" তারপর ফুঁপিয়ে কান্না।

এমন সময় তার বাবা ফোন দিলেন। তরুণী বললেন, "আই এম ইন হসপিটাল। ডোন্ট কল অ্যাগেইন"। লাইন কেটে দিলেন। হাতে দামি ব্ল্যাকবেরি ফোন।

তার বাবা খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে আমার রুমে চলে এলেন। আমার সামনেই বাবা-মেয়ের মধ্যে ফের ঝগড়া উচ্চবাচ্য বিনিময়, টাকা-পয়সা হাতখরচা আরও কিছু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে।

যাহোক পরে বাবাই সব বললেন।

অনেক দিন ধরে মেয়েটা ইয়াবা ট্যাবলেটে আসক্ত। ঢাকার অভিজাত এলাকায় ইউনিভার্সিটিতে পড়ত কিন্তু ইয়াবার জন্য পড়া আর শেষ করতে পারেনি। স্টাডি ব্রেক বলা যায়। অবাধ সম্পর্ক আর অনাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে। বিয়ে করেছিল, সেটা আর টেকেনি। কয়েকটা বন্ধু আছে সেগুলোও এ রকম, অভিজাত সোসাইটির। অনেক কাণ্ডকীর্তি করেছে, করছে। মেরে ফেলতে চেয়েছিলাম কিন্তু মারতে পারি না। একটা মাত্র মেয়ে। বাবার চোখ ছলছল।

আবার শুরু করলেন, "নেশার টাকা না দিলে উচ্ছৃঙ্খলতা করে, আমাদের গালিগালাজ করে এমনকি মারেও। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রেও কয়েকবার দিয়েছিলাম। ক'দিন ভালো হয়। পরে আবার যেইসেই"।

তরুণীর বাবার চোখ বেয়ে জল পড়ছিল। ঘটনা প্রায় ১০ বছর আগের। তখনও ইয়াবা আজকের মতো মহামারি আর সহজলভ্য হয়নি।

লেখক: ডা. সাঈদ এনাম, সাইকিয়াট্রিস্ট

মেম্বার, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন
মেম্বার, ইউরোপিয়ান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন