বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ , ১৫ আষাঢ় ১৪২৯

পলিথিনের মোড়ানো ঘরে ১০ বছর বসবাস, আশ্রয়ের আকুতি সাফিয়া’র

আপডেট: ১৫ মে ২০২২

দু-বেলা জুটে না অন্ন, নেই কাজ, নেই মাথা গোজার ঠাঁই। জরাজীর্ণ নড়বড়ে পলিটিন কাগজের মোড়ানো ঘরে ১০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে বিধবা সাফিয়া খাতুনের পরিবার।

একটি পলিথিনে কলাগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে তৈরি ছাপড়া বেঁধে অসহায় হতদরিদ্র পরিবারটি দিনের পর দিন খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা ৩নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গনমান পুররা গ্রামের মৃত আ: আজিত এর স্ত্রী সাফিয়া খাতুন। আব্দুল আজিত জীবিত থাকাকালীন সময়ে প্রথম স্ত্রী সন্তানদের জায়গা-জমি লিখে দিয়ে, নিঃস্ব হয় আব্দুল আজিত। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর, দ্বিতীয় সংসার করেন সাফিয়াকে নিয়ে। সাফিয়ার ঘরে জন্ম নিয়ে একটি ছেলে সন্তান, নাম রাখলেন রমজান, দ্বিতীয় স্ত্রী সন্তানকে কোন জাগা জমি দিতে পারেননি অজিত।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১০বছর বয়সী রমজান অসহায় মাকে নিয়ে অন্যের জমির উপর একটি কাগজের ছাপড়া বেঁধে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বসবাস করছে।

পলিথিন মোড়ানো ও জরাজীর্ণ ঘরে মাটির বিছানায় নেই শোয়ার বালিশ, নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। পলিথিনে মোড়ানো ছাপড়ার ভিতরে বসবাসের নেই উপযোগী, ঝড় বৃষ্টি এলেই মুহূর্তের মধ্যেই ঘরে ভিতরে থইথই করে পানি। ওই ঘরেই বসবাস করতে সাফিয়ার।

বাধ্য হয়ে ছাপড়ার সাথেই খোলা টয়লেটে মলমূত্র ত্যাগ করছে পরিবারের সদস্যরা। বিধবা সাফিয়া খাতুনের একমাত্র ছোট ছেলে রমজান ঘরের অভাবে অন্যের জায়গাতে অবস্থান করছে।

ছেলে গোবিন্দপুর চৌরাস্তা বাজার চা দোকানে কাজ করে। মায়ের সাথে জরাজীর্ণ ঘরেই থাকছেন। আর্থিক দৈন্যতার জন্য ঘর বাঁধার সামর্থ্য নেই বিধবা সাফিয়া।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবুঝ শিশু রমজান এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন সাফিয়া। তিনি জানান, ভোটের সময় অনেক সাহেবরা আমার কাগজের ঘর দেখে ঘর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর আমার আর ঘরের দরকার নেই।

এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে আবদুল কাশেম জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে এমন জরাজীর্ণ পলিথিনের মোড়ানো ঘর আছে বলে আমার জানা নেই।মানবিক কারণে এই অসহায় পরিবারের জন্য সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

হারুন-অর-রশিদ বলেন, এভাবে মানুষ থাকতে পারে আমার জানা নেই, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। বাংলাদেশ সরকার যদি একটু এই অসহায় পরিবারের দিকে তাকায় তাহলে খুবই উপকার হয়।

৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মকুল বলেন, আমি শুনেছি, এমন একজন লোক আছে, কিন্তু কোথায় থাকে সেটা আমি জানি না। তবে আপনাদের মাধ্যমে শুনতে পেয়ে আমি বিষয়টি দেখব।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও রাবেয়া পারভেজ এর সঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, আমি বিষয়টি আপনার মাধ্যমে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আমি ঘরের ব্যবস্থা করে দেব।

এ ব্যাপারে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করা যায়নি। তার মুঠোফোনটি বন্ধ ছিল।

শামীম সরকার/এনপি

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সর্বশেষ প্রকাশিত ভিডিও