সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২ , ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯
আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২২

ত্রিশালে অরক্ষিত রেল ক্রসিং, তিন বছর ধরে নষ্ট বেড়িয়ার

৩১ জুলাই ২০২২ - সন্ধ্যা ০৬:০৭
...
ময়মনসিংহের ত্রিশাল-নান্দাইল সড়ককে আউলিয়া নগরে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে তিন বছর ধরে বেড়িয়ার নষ্ট থাকার কারনে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপাড় করছে যানবাহনসহ সাধারন মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ত্রিশাল নান্দাইল সড়কের উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের আউলিয়া নগরে বেড়িয়ার নষ্ট থাকার কারনে ঝুঁকি নিয়ে পথচারীসহ হাজারো ছোট বড় যানবাহন চলাচল করছে। ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকাগামী এ রেল পথে সারাদিন ট্রেন যাতায়াত করে। ট্রাফিক গেইটম্যান লোহার লোহার চেইন দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে। দিনের বেলা চেইন দিয়ে নিয়ন্ত্রন করা গেলেও রাতের বেলা হয় সমস্যা। অনেকে লোহার চেইন না দেখে রেল ক্রসিং পারাপাড় হচ্ছে। এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

সিএনজি চালক রায়হান মিয়া বলেন, রেক্রসিংএ গেইট আটকানোর জন্য বেড়িয়ার অনেক দিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আমরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপাড় করছি। লোহার চেইন দিয়ে আটকালেও অনেকেই তা মানছে না। এখানে ছোট খাটো দুর্ঘটনা সব সময় লেগেই আছে। গেইটম্যান থাকলেও সে সব সময় থাকে না। এটা ঠিক না করলে যে কোন সময় ঘটবে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

সাধারন পথচারী অনেকেই বলেন, এ রেল ক্রসিং অনেক ঝুকিপূর্ন। এর আগে অনেকেই এখানে বিপদে পড়েছে। লোহার চেইন দিয়ে পারাপারে নিয়ন্ত্রন করলেও অনেকেই তা দেখে না। গেইটম্যান অনেক সময় না থাকার কারনে দূর্ঘটনা ঘটে। রাতের বেলায় আরো বেশি সমস্যা হয় যানবাহনের লাইট না থাকার কারনে চেইন দেখাযায়না। গাড়ী না থেমে চেইন ছিড়ে নিয়ে চলে যায়। বড় একটা দূর্ঘটনা না ঘটার আগে কর্তৃপক্ষ নজরে আসবে না।

স্কুল শিক্ষার্থী সাফওয়ান সাদাত বলেন, আমাদের স্কুল রেলওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি। তাই এপথ দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করি। অনেক দিন ধরে দেখছি রেলক্রসিংয়ের বেড়িয়ার নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। গেইটম্যান লোহার চেইন দিয়ে রাস্তা আটকায়। চেইন অনেক সময় দেখাযায়না তাই প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা লেগেই আছে। আমাদেরও রাস্তা পারাপাড়ে অনেক সমস্যা হয়। কখন যেন ট্রেন চলে আসে ভয়ে ভয়ে থাকি।

স্থানীয় কয়েকজন দোকাদার বলেন, ত্রিশাল-নান্দাইল এ সড়কে ছোট বড় হাজারো গাড়ি চলা চল করে। সারাদিন রাত্র অনেক ট্রেন চলাচল করে। আগে রাস্তা আটকানোর বেড়িয়ার ভাল ছিল। তিন বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। রেল কর্তৃপক্ষ নজর না দিলে বড় ধরনের দূর্ঘটরার সমম্ভাবনা রয়েছে। আর গেইটম্যান সব সময় থাকেনা। লোহার চেইন দিয়ে আটকালেও অনেকেই না মেনে দ্রুত গতিতে চলে যায়। কয়েকদিন আগে এক মটর সাইকেল আরোহী দ্রুত গতিতে মটরসাইকেল নিয়ে পার হতে চাইলে চেইনে আটকে ব্যথা পায়। এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটে।

ট্রাফিক গেইটম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, এখানে দুটি বেড়িয়ার ছিল। একটি অনেক দিন যাবৎ নষ্ট। আরেকটি ঝং ধরে ভেঙ্গে পড়ে গেছে। কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। লোহার চেইন দিয়ে কোন রকম আটকানোর ব্যবস্থা করেছি। কিন্ত অনেকেই লোহার চেইন অতিক্রম করে চলে যায়। মানতে চায়না। রাতের বেলা চেইন না দেখে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়। আর এখানে কোন ট্রাফিক বক্স নেই। যার কারনে রোদ, বৃষ্টিতে বসে থাকাযায় না। কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানিয়েছি। এর সমাধান না করলে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আউলিয়া নগর স্টেশন মাস্টার হাসান আজিজুর রহমান বলেন, এটা আমাদের রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগের আন্ডারে। আমি তাদেরকে অনেকবার এ বিষয়ে জানিয়েছি। তারা বলেছে বাজেট নাই। অনেক দিন ধরে বেড়িয়ার নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আর এখানে গেইটম্যান আছে কিন্ত ট্রাফিক বক্স না থাকার কারনে অসুবিধা হচ্ছে। আমরা অনেকদিন নিজ উদ্যোগে বাশঁ দিয়ে নিয়ন্ত্রন করেছি। এখন গেইটম্যান লোহার শিকল দিয়ে রেল ক্রসিং নিয়ন্ত্রন করছে। এটা দির্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। আপাদত লোহার শিকল দিয়ে নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে। এখানে ট্রাফিক বক্সের কোন ব্যবস্থা নাই। গেইটম্যানের সমস্যা হয়। আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি/এনপি

পড়া হয়েছে: ৩০০ বার
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরো পোস্ট