আওয়ামী লীগের সংগ্রাম, উন্নয়ন ও অর্জনে গৌরবদীপ্ত পথচলার ৭৩ বছর

মিঠুন বাড়ৈ

আপডেট: ২৩ জুন ২০২২ - দুপুর ১২:৩১
...
ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকীর দল। দলটির ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসন-বিরোধী আন্দোলন, ৬৪-এর দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৪ বছরের আপসহীন সংগ্রাম-লড়াই এবং ১৯৭১ সালের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ তথা সশস্ত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা হলেও দীর্ঘ একুশ বছর লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জয়ী হয়ে ২৩ জুন দলটি ক্ষমতায় ফিরে আসে। ২০০১ এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর আর এক দফা বিপর্যয় কাটিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়ে ফের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় আওয়ামা লীগ।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুযারি এবং ২০১৮-এর ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে টানা তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছে এ দলটি।বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে যে দুটি নাম সমুজ্জ্বল হয়ে ধরা দেবে সে দুটি নাম সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। অত্যাচারিত নির্যাতিত একটি জাতিকে শোষকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করে, সে জাতিকে স্বাধীন করার এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে সুদক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াবার যে সাহস তার পুরোটাই এসেছিলো বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে।

এরই ধারাবাহিকতায় উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবদান রেখে চলেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। আর সেই উন্নয়ন ধারায় যুক্ত হয়েছে আরো একটি নাম 'স্বপ্নের পদ্মা সেতু'। যার পুরোটাই আজ দৃশ্যমান বাস্তব।

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিরা নানামুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তা বানচাল করার চেষ্টা করে গেছে। আন্তজার্তিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ কর্মসূচি স্থগিত করেছে।

তবে থেমে যাননি জনগণের আশার একমাত্র বাতিঘর শেখ হাসিনা, জনগণকে এক মুহুর্তের জন্যও নিরাশ হতে দেয়নি। নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের যে চ্যালেঞ্জ, তা সফল করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। দেশের ২১ টি জেলার মানুষের যোগাযোগ দুর্ভোগ লাঘব করবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

অর্থনৈতিক খাতে অন্যরকম মাত্রা আসবে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে। দেশ এগিয়ে যাবে বিদ্যুৎ গতিতে।স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিরা আজ দেখে নিক, ৭৫ এর ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করেও তারা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে বিনষ্ট করে দিতে পারেনি। বরং সেই স্বপ্নকে লালন করে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মাদার অফ হিউম্যানিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।জয়তু দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

লেখকঃ

মিঠুন বাড়ৈসহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।