বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ , ১৫ আষাঢ় ১৪২৯
আপডেট: ২৭ জুন ২০২২

সখিপুর হাসপাতালের আরএমও ডা. মেহেদি হাসান থেকেও নেই

৭ মে ২০২২ - বিকাল ০৫:২৬
...
টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা: মেহেদী হাসান যেন দায়িত্বে থেকেও নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে মেহেদী হাসান সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সাবেক কর্মকর্তা ডা: মুহাম্মদ আব্দুস সোবহান তার দুর্নীতির কাজে সহযোগিতার জন্য স্থানীয়ভাবে ডা: মেহেদী হাসানকে আরএমও থেকে বাদ দিয়ে ডা: আজিম উদ্দিনকে স্থানীয়ভাবে আরএমও হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।

জানা যায়, ডা: আজিম উদ্দিন ঢাকা ডিজিতে ওএসডি এবং সিভিল সার্জন ঢাকায় প্রেষণে ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়। ডা: আজিমউদ্দিন আরএমও হওয়ার পর থেকেই ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ এর নিকট মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি করায় ভিজিট বন্ধ করে দেন। হাসপাতলের ডায়েট ঠিকাদারের নিকট মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে না দেওয়ায় ডায়েট ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

ডা: আজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৪ জন ডাক্তার অনাস্থা প্রদান করেন এবং এ অনাস্থা পত্র টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন এর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।

সে হাসপাতালের নার্স অন্যান্য স্টাফদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে অন্যত্র বদলি করে দিবে বলে ভয় দেখায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ভয়ে কেউ কোন কথা বলতে সাহস পায় না। এমনকি হাসপাতালে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে।

নতুন ইউএইচ এফও যোগদান করার পর তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে চার্জ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ রোগীদের টেস্টের নামে বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিয়ে কমিশন বাণিজ্যে মত্ত থাকে। হাসপাতাল কোয়ার্টারে অবৈধভাবে বসবাসরতদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। এমনকি কাউকে কোন কোয়াটার বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, আর এম ও ডা: আজিমউদ্দিন ইউএইচএফও কেই চার্জ করে আর আমরা তো চুনিপুটি, বদলির ভয়ে কোন কথাই বলতে পারি না। সে কথায় কথায় বলে ডিজিতে তার লোক আছে যে কোন সময় যে কাউকে বদলি করতে পারবে। আর আমাদেরকে সব সময় ভয়-ভীতি হুমকি-ধামকি দিয়ে রাখে।

ডায়েট ঠিকাদার খান রফিক বলেন, ডা: আজিমুদ্দিনকে কমিশন না দিলে ডায়েটের বিলে সে দস্তখত করে না।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে যোগদানকৃত ডা: মেহেদি হাসান বলেন, আমার বাড়ি ভূঞাপুরে। স্থানীয়ভাবে আরেকজনকে আর এম ও হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের প্রভাবে আমি কিছু বলতে সাহস পাচ্ছি না।

অভিযুক্ত আর এম ও ডাক্তার আজিম উদ্দিন বলেন, সখিপুরে কোন সাংবাদিক নেই, আমার সাংবাদিকতার উপর পড়াশোনা আছে তাই কখন কি করতে হবে আমি ভাল জানি।

এনপি

পড়া হয়েছে: ৩৪২ বার
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরো পোস্ট