সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন ফখরুল

দৈনিক বাংলাপত্রিকা | রাজনীতি
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ | ০২:৪৯:০২ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন ফখরুল
পুলিশ বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিলে কুমিল্লার নানুয়া দিঘীর পাড়ের মণ্ডপের ঘটনাটি নির্মম অমানবিকতার দিকে গড়াতো না বলে মনে করে বিএনপি। আজ রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন,সরফত আলী সপু, গৌতম চক্রবর্তী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‌‘দুর্গাপূজার প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেওয়ার পরও কেন পবিত্র কোরআর অবমাননা, মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটলো। কুমিল্লার সাধারণ মানুষের মতো আমরাও একমত যে, পুলিশ বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিলে নানুয়া দিঘীর পাড়ের মণ্ডপের ঘটনাটি নির্মম অমানবিকতার দিকে গড়াতো না।’

তিনি বলেন, ‘এখন একটি প্রশ্ন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরীফ পূজামণ্ডপে নিয়ে গেছে? সরকারের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসের পর কেবলমাত্র ক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট দুষ্ট চক্র ছাড়া দেশের জনগোষ্ঠীর কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ই এই কদর্য কাজ করবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমি এই ঘটনা জানার পরপরেই একটি বিবৃতিতে বলেছিলাম, সরকারের মদদেই কুমিল্লার নানুয়ার দীঘীর পাড়ের পূজামণ্ডপে চক্রান্তমূলক কুৎসিত কাজটি করা হয়েছে।’

‘এর বড় প্রমাণ ঘটনার পরপরই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা অতিসত্বর পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এই অনুরোধে সাড়া না দিয়ে পুলিশ পাঠিয়েছে অনেক পরে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নীতি আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে’ যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি আরও বলেন, ‘পবিত্র কোরআন অবমাননা, পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে নিরাপত্তা বিধান না করে হামলা-ভাঙচুর-সংঘাত ও সংঘর্ষকে উসকিয়ে দিয়ে দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চক্রান্তে মেতে উঠেছে সরকার। গণতন্ত্রের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে গণধিকৃত সরকার সাম্প্রদায়িক সংঘাতের উপকরণ ছড়িয়ে সহিংস রক্তাক্ত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্তার ভূমিকায় অভিনয় করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুদৃষ্টি পেতে চায়। কিন্তু বর্তমান যুগে কিছুই ঢেকে রাখা যায় না। অবগুন্ঠন উন্মোচিত হয়ে সত্য প্রকাশ পাবেই। কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনার রেশ ধরে সারা দেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে তা যে সরকারের ন্যাক্কারজনক পরিকল্পিত নীলনকশা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটি আজ জনগণের কাছে স্পষ্ট। ’

এ সময় দেশব্যাপী রক্তাক্ত হিংসাশ্রয়ী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনার জের ধরে চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমুহনী, ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম, সিলেট, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, হামলার চেষ্টাসহ নানাবিধ সংঘাত-সংঘর্ষ ও পুলিশি আক্রমণে বিক্ষুব্ধ মানুষের ওপর লাঠি পেটা, গুলি, টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং বেধড়ক গ্রেপ্তারসহ বর্বরোচিত আক্রমণে হতাহতের ঘটনা শুধু নির্দয় আচরণই নয়, এটি কাপুরুষোচিত।

এই অরাজকতা সৃষ্টিকারীরা বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্যকে ম্লান করেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে। তাদের উপাসনালয় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপের ঘটনায় উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনাসহ দেশব্যাপী রক্তাক্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লা পূজামণ্ডপের ঘটনার জের ধরে- ওইদিন রাতে চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে সহিংস সংঘাতে চারজন নিহত হয়। প্রতক্ষ্যদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হাজীগঞ্জে পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ, যুবলীগও বিক্ষুদ্ধ জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ ছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন