শেরপুরে আখ চাষে লাভবান কৃষকরা, বাড়ছে আবাদ

মোঃ সুলতান হোসাইন | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০:১৯:৪৪ পিএম
শেরপুরে আখ চাষে লাভবান কৃষকরা, বাড়ছে আবাদ প্রায় ৫ বছর ধরে আমন ছেড়ে আখ চাষ করছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গোবিন্দনগর গ্রামের মো. রেজাউল করিম(৫০)। নিজের ২৫ শতাংশ জমিতে খরচ বাদ দিয়ে এক মৌসুমেই ৪০ হাজার টাকার বেশি লাভ হচ্ছে তাঁর। লাভ ভালো হওয়ায় রেজাউলের মতো আরও অনেক চাষি এখন আখ চাষে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ একর, আর আখ চাষ করা হয়েছে ১৩৬ একর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ একর জমিতে আখ চাষ বেশি। এতে ফলন উৎপাদন হয়েছে একহাজার ৯২৫ মেট্রিক টন। গতবছর অর্জন হয়েছিলো ৭৪ একর জমিতে। উপজেলার মরিচপুরান, গোবিন্দ নগর, ছিটপাড়া, নিচপাড়া, ভেদিকুড়া, গেরাপচা এলাকার মাটি আখ চাষের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত তুলাবারং, ফুলপুরি, রৌমারী জাতের আখ চাষ করছেন।

এ ছাড়াও কৃষিঅফিস থেকে দেওয়া বিএসআরআই নামে তিনটি নতুন জাত আবাদ হয়েছে। রোগ বালাইয়ের তেমন একটা ক্ষতি না হলে, এক একরে আড়াই লক্ষাধিক টাকার আখ বিক্রয় করা যায়। উৎপাদন খরচ ৭০-৮০ হাজার টাকা বাদে একরে ২ লাখের কাছাকাছি লাভ হয়। গত কয়েক বছরের চেয়ে চলতি বছর কৃষকরা আখ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। ভালো ফলন এবং ভালো দাম পাওয়ায় আগেভাগেই আখ কেটে বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছেন কৃষকেরা। প্রতিদিন ভোর হলেই কৃষকরা আখ নিয়ে পৌরশহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সামনের মাঠে হাট বসেন। সকাল ৯ টার মধ্যে বেঁচা কেনা শেষ হয়ে যায়। কৃষকরা এরপর ওই জমিতেই আবার সবজি আবাদ করার প্রস্ততি নিতে শুরু করেছেন।
 
কৃষক রেজাউল করিম বলেন, আমার ২৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষে লাভ ৪০ হাজার টাকা। এখন সবজি করার প্রস্ততি নিয়েছি। তাতে সব খরচ বাদে আরো লাভ আসবে ১৫-২০ হাজার টাকা। ওই ২৫ শতাংশ জমি থেকে বছরে আমার লাভ হয় ৫৫-৬০ হাজার টাকা।

গোবিন্দ নগর গ্রামের মোস্তফা কামাল(৩৫) বলেন, আমি ১৫ কাঠা জমিতে ফুলপুরি জাতের আখ লাগিয়েছি। প্রতিদিন সকালে বাজারে নিয়ে  পাইকারী ১ টি আখ ১০-১২ টাকায় বিক্রি করছি। যারা কিনে নিয়ে যায় তারা আবার খুচরা ১ টি আখ বিক্রি করে ২০-২৫ টাকা।  

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ওয়াসিফ রহমান বলেন, গত বছরের চেয়ে চলতি বছর কৃষকরা বেশি আাখ চাষ করেছেন। কৃষকদের আখ চাষে উদ্ধুদ্ধ করতে কৃষি অফিস থেকে পাঁচজন কৃষকের মাঝে তিনটি নতুন জাত বিএসআরআই, ৪১, ৪২ ও ৪৭ প্রদর্শন হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো। তাতে ফলাফল খুবই ভালো। আশাকরছি আগামী বছর উৎপাদন আরো বাড়বে।

শেরপুর সদর প্রতিনিধি/এনএ/দৈনিক বাংলাপত্রিকা


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন