পুতুল তৈরী করে স্বাবলম্বী ৫০০ পরিবার

জাফর ইকবাল | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ আগস্ট ২০২১ | ০৩:৩১:৫২ পিএম
পুতুল তৈরী করে স্বাবলম্বী ৫০০ পরিবার
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের ৫০০ মহিলা কারিগর। তাদের তৈরী সুতার পুতুল এখন দেশ বিদেশে সমাদৃত। পুতুল তৈরী করে স্বাবলম্বী হয়ে  গ্রামকে পুতুল গ্রামে পরিনত করেছেন।

ওই গ্রামে গিয়ে জানা যায়, গত ৪ বছর পূর্বে মোয়াজ্জেম হোসেন মিজুর এবি ক্রুসেড নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মনিকা রানী দাস নামের এক গৃহবধু পুতুল তৈরীর ধারনা নিয়ে সুতা এনে পুতুল তৈরীর কাজ শুরু করে। এভাবে ধিরে ধিরে বাড়ীতে বসে বাসার কাজের ফাঁকে পুতুল তৈরী করে ওই ব্যবসায়ীকে সরবরাহ করে করতেন। তার পারিশ্রমিক হিসেবে পুতুল প্রতি বিভিন্ন অংকের টাকা পেতেন। এতে মনিকা দাসের সংসারে অতিরিক্ত আয় যোগ হতে থাকে। তার পুতুল তৈরী দেখে এলাকার বিভিন্ন মহিলারা পুতুল তৈরীতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এখন ওই গ্রামে দুইজন সুপারভাইজারের আওতায় প্রায় ৫০০ কারিগর পুতুল তৈরী করে অতিরিক্ত টাকা আয় করছে। যা দিয়ে পরিবারের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন হচ্ছে এছাড়া সন্তানদের লেখাপড়ার পিছনে খরচ যোগাতে কোন অসুবিধা হয়না।

আব্দুলপুর বানিয়া পাড়া গ্রামের লিপা রায় জানায় আমি প্রায় দুবছর ধরে সুতার তৈরির পুতুল তৈরি করছি, প্রথমে আমার প্রতিবেশি মনিকা দিদির কাছে এ কাজ শিখছি কাজ শিখার পড়ে বাসা থেকে বাধাবিঘ্ন না করে কাজ শিখছি কাজ করি ।সংসারের কাজের পাশাপাশি পুতুল তৈরি করি দিনে দুইটা করি আবার ছোট পুতুল হলে দিনে ৫টা তৈরি করি।পুতুলের টাকা দিয়ে সংসার ভালোই চলে বাচ্চারা টাকা চাইলে দিতে পারি।পুতুলের টাকা দিয়ে ছাগল কিনছি,যখন যেটা নিতে মন চায় তখন সেটা নিতে পারি স্বামীর কাছে টাকা নিতে হয় না।

একই গ্রামের একাদ্বশ শ্রেনির ছাত্রী ভাইগ্য রানি রায় জানায় আমি এসএসসি পরীক্ষার পর আমার মায়ের কাছে পুতুল তৈরির কাজ শিখছি। বাসার কাজে মাকে সাহয্য করি পড়াশোনাও ঠিক মত করি এর ফাকে ফাকে আমি সুতার তৈরি পুতুল তৈরি করি নিজে রোজগার করছি টাকা সে টাকা দিয়ে প্রাইভেটের বেতন দিতে পারছি। বাবার কাছে কোন টাকা নিতে হয়না।

সুপারভাইজার ললিতা রানী রায় ও ঝর্না রানী রায় জানান, এবি ক্রুসেড প্রথমে বিভিন্ন ধরনের পুতুলের নমুনাসহ সুতা ও তুলা সরবরাহ করে থাকে। সেই নমুনা আমরা  কারিগরদের হাতে দিলে তারা তা দেখে যতগুলি পুতুলের চাহিদা থাকে তা তৈরী করে এবি ক্রুসেড এ সরবরাহ করা হয়। তারা আরও জানান, প্রতিটি পুতুল তৈরী মূল্য ১৫ টাকা হতে ৬৫ টাকা পর্যন্ত নির্ধারন করা থাকে। একজন কারিগর সংসারের কাজ সামলিয়ে প্রায় তিনটি পর্যন্ত পুতুল তৈরী করে করতে পারে।

এবি ক্রুসেড এর স্বত্বাধিকারী মোয়াজ্জেম হোসেন মিজু জানান, চিরিরবন্দরে বর্তমানে দুইজন সুপাইভাইজারের আওতায় প্রায় ৫০০ কারিগর সুতার পুতুল তৈরী করে বাড়তি আয় করছেন। তাদের তৈরী পুতুল দেশের বাইরে যেমন আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানীসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়ে থাকে।তিনি এলাকার বেকারত্ব দূরীকরনে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে কয়েকজন সুপারভাইজারের মাধ্যমে এ পেশাকে সম্প্রারিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি/এনএ/দৈনিক বাংলাপত্রিকা


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন