কেরানীগঞ্জে লকডাউন ও করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ | ০৫:৪০:৪৩ পিএম
কেরানীগঞ্জে লকডাউন ও করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি সারাদেশে চলছে সরকার ঘোষিত লকডাউন। লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও সাধারণ জনগণকে কোনভাবেই শতভাগ লকডাউন মানানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণে-অকারণে ঘর থেকে বেরোচ্ছে মানুষ, বেড়েছে যানবাহনের চলাচল। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তম দিন কেরানীগঞ্জে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে সরকার ঘোষিত লকডাউন। মূল সড়কগুলোতে অবাধে চলছে রিক্সা ভ্যান প্রাইভেট গাড়ি, মোটরসাইকেল, মাঝেমধ্যে দু'একটি ভাড়ায় চালিত সিএনজি ও লক্ষ্য করা গেছে।

পাড়া-মহল্লার সমস্ত দোকানপাট খোলা, অলিতে-গলিতে চলছে আড্ডা গল্পগুজব। ৩০লক্ষাধিক লোকের অধ্যুষিত কেরানীগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

আজ সপ্তম দিন সকাল ১১টায় কদমতলী লায়ন শপার্স ওয়াল্ডের সামনে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) সানজিদা পারভীন তিন্নিকে বিজিবি ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে দেখা গেছে। এসময় বিনা কারণে ঘর থেকে বের হওয়া ও মাস্ক না থাকার অপরাধে ২০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে গত ২৩ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত মোট ৪২৪ মামলায় মোট ২৯৯১০০ টাকা জরিমানা ও ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও কেরানীগঞ্জের সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (RMO) ডাঃ মশিউর রহমান বলেন, কেরানীগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় কিছুটা ভালো। আমরা প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি সেম্পল কালেক্ট করছি, গত ২৪ ঘন্টায় রিটেস্ট সহ ২৩ জন করোনা পজিটিভ হয়েছে, এ হার শতকরা ২৪ শতাংশ।

গত বছরের ৫ই এপ্রিল কেরানীগঞ্জ সর্বপ্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ২৮৪৫ যেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। কেরানীগঞ্জে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে জিনজিরা ২০ শয্যা হাসপাতালে ১৮ জন রোগী ভর্তি আছে বাকিরা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেবনাথ বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমত লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারের নির্দেশনা শতভাগ পালন করে যাচ্ছি। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কেরানীগঞ্জের প্রবেশমুখ ধলেশ্বরী ব্রিজের টোলপ্লাজায়, পোস্তগোলা ব্রিজের হাসনাবাদ ও বাবুবাজার ব্রিজের কদমতলী চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে। আমি সহ ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলো ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। এখন সাধারণ জনগণ যদি নিজ থেকে সতর্ক না হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলে তাহলে প্রশাসনের একার পক্ষে লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব না।

টিটু আহম্মেদ/এনএ/দৈনিক বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন