৯০ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা মহানায়িকা সুচিত্র সেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | বিনোদন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল ২০২১ | ০৬:১৮:৩৮ পিএম
৯০ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা মহানায়িকা সুচিত্র সেন তরুণীর দীর্ঘশ্বাস, যুবকের সেনসেশন, বয়স্কদের নস্টালজিয়া বা সিনেমাপ্রেমীদের ঘোর। তিনি বাংলাদেশের মেয়ে সুচিত্রা। তিনি মহানায়িকা সুচিত্রা সেন।

১৯৩১ সালের ৬ই এপ্রিল বৃহতর পাবনার বর্তমানের সিরাজগঞ্জ মহকুমার নানা বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৫২- ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্র জীবনে উপহার দিয়েছেন ৫৩ টি বাংলা ও ৭ টি হিন্দি মিলিয়ে মোট ৬০ টি অনবদ্য ছবি।

বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন ভাবধারা সৃষ্টির এই মানুষটি যদি জন্ম না নিতেন তাহলে সেলুলয়েডে রোমান্টিক জুটি কতটা প্রাণবন্ত হতে পারে তা হয়ত আমাদের ভাবনার অতীত থেকে যেত। আর সেই প্রানবন্ত জুটির নাম উত্তম সুচিত্রা। যদিও পরবর্তীতে উত্তম সুচিত্রা নয় সুচিত্রা উত্তম হিসেবে এই জুটি বেশী পরিচিত ছিল। সত্যজিৎ রায় প্রয়োজককদের উত্তম সুচিত্রার বিপরীতে সুচিত্রা উত্তম লিখতে বাধ্য করেন।

সাড়ে ৭৪ ছবির ফ্রেমে প্রথম এক সাথে দেখা যায় উত্তম সুচিত্রা জুটিকে। ৩০ টিরও বেশী ছবিতে জুটিবদ্ধ হয়েছিলেন উত্তম সুচিত্রা। উত্তম কুমারের সুচিত্রা, হারানো সুরের রমা, সাত পাকে বাধার অর্চনা, উত্তর ফাল্গুনীর দেবযানী বা পান্না বাইয়ের পুষ্পকন্যা। কেমন ছিল সে যাত্রা?

নানা বাড়িতে জন্ম হলেও রেওয়াজ অনুসারে জন্মের বেশ কিছুদিন পর আসেন পাবনা শহরের গোপালপুরের পৈত্রিক বাড়িতে। এখানেই তার শৈশব কৈশর কাটে। লেখাপড়া করেন পাবনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। বাংলাদেশের আলো বাতাসে বেড়ে উঠা এই চিরসবুজ নায়িকা ৪৭ এর দেশভাগের আগে পাড়ি জমান কলিকাতায়।

কলিকাতায় গিয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার দিবানাথ সেনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর রমা দাশগুপ্ত হয়ে যান রমা সেন। বিয়ের আড়াই বছর পর চলচিত্র জগতে যাত্রা শুরু।

জেনে নেই সুচিত্রা সেন সম্পর্কে কিছু আজানা তথ্যঃ

১৯৫২ সালে নির্মিত হয় তার প্রথম সিনেমা শেষ কোথায়। অজ্ঞাত কারণে এই ছবিটি আজও মুক্তি পায়নি। এরপর অভিনয় করেন একাধিক চল্লচিত্রে। সাত নম্বর কয়েদি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় রমা থেকে হয়ে উঠেন সুচিত্রা। চলচ্চিত্র নির্মাতা নীতিশ রায় তার নাম দেন সুচিত্রা

১৯৬৩ সাল মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সাত পাকে বাঁধা ছবির জন্য স্বীকৃতি পান সুচিত্রা। আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী প্রথম বাঙ্গালী অভিনেত্রী তিনি।

বলিউডে দেবদাস উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে বহু ছবি। পার্বতী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে আসেন সুচিত্রা। বলিউডে সুচিত্রা সেনের প্রথম ছবি দেবদাস। তার অভিনয় শৈলীর কারণে তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বলিউডের শিল্পীরাও।

সত্যজিৎ রায়ের চৌধুরানী ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল সুচিত্রার। শুটিং ডেট না দিতে পারায় সেই ছবিটিই আর বানাননি সত্যজিৎ রায়।

শোনা যায়, ২০০৫ সালে তাকে দাতা সাহেব পালকি পুরস্কার দেয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। কিন্তু জনস্মমুখে আসতে চান না বলে সুচিত্রা সেন সেই পুরস্কার আর গ্রহন করেননি।

রুপকথার চরিত্রের মতোই, আবার হারিয়ে গেলেন সুচিত্রা। কলকাতা তাকে দেখেনি বহু বছর। দিনের পর দিন বছরের পর পর বছর থেকে গেছেন আড়ালে। তার সম্মোহনী সৌন্দর্যের আগল ভাঙেনি জীবদ্দশায়।

বয়সের সাথে নিজেকে পাল্টে গড়ে নেননি নতুন কোন চরিত্রে। অভিনয় জীবনে কখনও পার্শ্ব অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেননি। পর্দার অভিনয় জীবনে নিজের যে চূড়ান্ত রোমান্টিক রুপটি গড়েছিলেন স্বেচ্ছায় অন্তড়ালে সেই রূপটি ধরে রেখেছিলেন শেষ পর্যন্ত। আগ্রহের মিশিলে ভক্তদের কল্পনার রানীও তাই সুচিত্রা।

জীবনের শেষ ২৬ টি দিন এই কিংবদন্তি নায়িকার কেটেছে হাসপাতালে। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি তার প্রয়াণ হয়। সেই সঙ্গে সমাপ্ত হয়েছিল সুচিত্রা উত্তমের অসমাপ্ত রসায়ন। সুচিত্রা চলে গিয়েছেন রেখে গিয়েছেন তার অনবদ্য অভিনয়, মন ভুলানো হাঁসি আর বাংলা সিনেমার স্বর্ণময় অধ্যায়।  

এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন