কে এই দরদী মিজান?

জাহিদ হাসান | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ এপ্রিল ২০২১ | ১১:৩৫:৫০ পিএম
কে এই দরদী মিজান? শার্শার আলোচিত নাম উদ্ভাবক মিজানুর রহমান (মিজান) পেশায় একজন মটর মেকানিক। যদিও তিনি এখন দরদী মিজান নামে পরিচিত। হঠাৎ তিনি কিভাবে মানুষের কাছে দরদী মিজান হয়ে গেল, কি তার পরিচয়? সে বিষয়ে তার অতীত এবং বর্তমান নানা দিক উঠে এসেছে। ধারাবাহিক পর্বের আজ থাকছে তৃতীয় পর্ব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিজানের পিতার পেশা ছিল মটর মেকানিকের। সেখান থেকে সেও এপেশায় জড়িয়ে যায়।

তার মটর গেরেজ সম্পর্কে এক ব্যক্তি বলেন, আমি মিজানের গেরেজে আমার বাইক একসময় নিয়মিত কাজ করাতাম এবং তার হাতের কাজ খুবই ভালো ছিলো। কিন্তু মিজান ছিলো একজন অহংকারী ও সন্ত্রাসী টাইপের মানুষ। হঠাৎ রাতারাতি সে জনদরদী বনে গেলো এটা বিশ্বাস হওয়া কষ্টকর।

নারাণপুর গ্রামের সাইদ টুটুল বলেন, সে (মিজান) অনেক বড় মাপের পাপী। তার গল্প পুরোপুরি শুনলে সিনেমার ভিলনও হার মানবে। কিন্তু সে নাকি এখন মানব দরদী। প্রশাসনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিৎ।

তিনি আরো বলে, আমি মিজানের ছেলে সম্রাটের বন্ধু। মিজান তার ছেলেকে কয়েকবার তুলে নিয়ে গেছে। আমরা বন্ধুরাও একবার বাধা দিয়েছিলাম। সম্রাটকে তুলে নিয়ে গিয়ে তার পিতা অনেক নির্যাতন করতো এমনকি তার লেখাপড়াও বন্ধ করে দিয়েছে।

নারাণপুর গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, মিজান একটা বিরাট বড় সন্ত্রাসী। তার বিপক্ষে কথা বলতে ভয় করে। সে কয়েকটা বছর তার শশুর বাড়ির সকল লোককে নানা ভাবে এত পরিমাণ নির্যাতন করেছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। তার ভয়ে লোকজন সন্ধ্যার পর আগান-বাগান দিয়ে বাড়ি ফিরতো। বাজারে কাউকে সামনে পেলেই মারধর সহ তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করতো। হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সে বাদিকে বাধ্য করেছে।


মিজানের হত্যা মামলার আপোষ মীমাংসা সম্পর্কে জানা যায়, মিজান ছিলো বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী। কিন্তু মামলা খেয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাথে যুক্ত হয়ে মামলার সাক্ষী সহ শশুর বাড়ির আত্মীয়দের উপর এক অমানবিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। বাদীরা বিরোধী দলীয় হওয়ায় তার নির্যাতন সহ্য করেছে। তার উপর থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনেক নেতা বাদীদেরকে চাপ সৃষ্টি করেছেন। এমনকি মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং তাকে মিথ্যা মামলা দেওয়ার কারণে ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও মামলাটি আদালতে শেষ পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে।

মিজান হত্যা মামলা আপোষনামার কিছু কাগজ পত্রে দেখা যায়, বিজ্ঞ আদালতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য একটি আবেদন পত্রে এমপি, মন্ত্রী সহ বড় বড় নেতাদের সুপারিশ। এমন একজন সন্ত্রাসীর পক্ষে তারা জেনে শুনে সুপারিশ করেছেন নাকি না জেনে করেছেন সেটাই চিন্তার বিষয় বলে মনে করছেন অনেকেই।

এর আগে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার কারণে দুই জন ফকিরকে অনেক শাসিয়েছেন মিজান বলে জানা যায়।

মিজানের বর্তমান বাড়ি শ্যামলাগাছীর এক ব্যক্তি বলেন, মিজানের কথা আর কি বলবো তাকে সবাই ভয় পায়। তবে সে এখন এখানে থাকেনা। নাভারণে নতুন বউ নিয়ে থাকে। আর তার যে কত গুলো বউ তার ঠিক নেই। কোনটা নিয়ে কখন কোথায় থাকে জানিনা।

এসব বিষয়ে মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয় এবং কোথায় থাকেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি কোথায় থাকি তা আপনাদের বলবো কেন? নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান এবং কোন কথারই উত্তর দেননা।

মিজানের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ১ম পক্ষের স্ত্রীর বিবাহ হয় আমলা মহিলা মাদ্রাসার সুপার মাওলানা জাহাঙ্গীরের সাথে। মিজান এই মাওলানার জীবনও তছনছ করে ছেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মাওলানার এক ছোট ভাই ফরিদুজ্জামান বলেন, মিজান আমার ভাইকে কত গুন্ডা মাস্তান দিয়ে যে হুমকি দিয়েছে, এর হিসেব নেই। এরপর মাদ্রাসায় ভাইয়ের নামে নানা মিথ্যা অপকর্মের লিফলেট বিতরণ ও দেয়ালে পোস্টার মেরে তাকে অনেক মানহানি করেছে।

মিজান সম্পর্কে তার পুত্র সম্রাট বলেন, অতীতে আমার পিতা আমার সাথে অনেক অবিচার করেছে কিন্তু তিনি আমার পিতা সেগুলো আমি আর মনে রাখিনা। আমি তার অতীত নিয়ে কিছু বলতে চাই না, তবে তিনি যদি বর্তমানে গরীব এবং এতিমদের সাহায্যকৃত অর্থ আত্ত্বসাত করে থাকেন তাহলে আমি চাই তার সঠিক বিচার ও শাস্তি হোক।

জানা যায়, ২০০৪ সালে অর্থের লোভে নিজের শালা প্রিন্সকে হত্যার দায়ে প্রধান আসামী হয়ে জেল খেটেছেন মিজান। এরপর জেল থেকে জামিনে বের হয়ে দেখেন, তার স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে তিনি তার শ্বশুর শাশুড়ি সহ ঐ পক্ষের সকল আত্নীয় স্বজনকে হুমকি দিতে থাকেন।

এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন