দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ মিলছে!

জাহিদ হাসান | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ এপ্রিল ২০২১ | ০২:২৩:৩৩ পিএম
দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ মিলছে! মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এবং সামাজিক সহযোগীতার দায়িত্ববোধকে পূঁজি করে নিজের আখের গোছাতে ব্যবসা করে চলেছে যশোরের শার্শা উপজেলার মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। অসহায় মানুষের ছবি দেখিয়ে বৃ্ত্তবান এবং সহযোগীতা করতে আগ্রহীদের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে অসহায় ব্যক্তিকে যথাযথ প্রাপ্য বুঝিয়ে না দিয়ে নিজে হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিজের অপকর্ম ঢাকতে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন মিজানুর রহমান। অসহায় মানুষদের প্রাপ্য অর্থ নিজের করে নিচ্ছেন তিনি।

জানা যায়, সারা শার্শা ব্যাপি ১লক্ষ পিস কোরআন শরীফ দান করবেন বলে কথা দেন মিজানুর রহমান এবং কিছু কোরআন শরীফ দান করে তার উদ্ধোধনও করেন। কোরআন শরীফ বিতরণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন এই মিজানুর রহমান।

কোরআন বিতরণ বিষয়ে এক ব্যক্তি জানান, মাত্র ৩ হাজার কোরআন শরীফ বিতরণ করে মিজান প্রচার করছে ৩০হাজার কোরআন শরীফ বিতরণ করেছে। যেটার সঠিক তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে আসল তথ্য।

মিজানুর সম্পর্কে গেট শ্যামলাগাছী গ্রামের আনারুজ্জামান বলেন, আমি পেশায় একজন ভিক্ষুক, আমার দুইটা মেয়ে নিয়ে আমি খুবই অসহায়। এক ব্যক্তি আমার মেয়ের জামাকাপড় কেনার জন্য ১ হাজার টাকা দেয় মিজানুরের কাছে। কিন্তু সে কয়েক মাস ধরে আমাকে ঘুরাচ্ছে। আজ দেয় কাল দেয় বলে টাল বাহানা করছে। এছাড়াও মিজান আমাকে বলেছে তাকে ২০হাজার টাকা দিলে সে আমাকে একটি ভ্যান পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে। আমি পরে সব বুঝিতে পারি যে অন্য জায়গা থেকে ফাও ভ্যান নিয়ে এসে আমার কাছ থেকে টাকা খাবে।

বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজগ্রাম গ্রামের তরুণ সমাজসেবক কামরুজ্জামান বাবলু সামাজিক কাজে সহযোগীতা করেন। তিনি বলেন, আমি তাকে (মিজানুর রহমান) কয়েকবার ভালোই সাপোর্ট দিয়েছি কিন্তু এখন আর দেইনা। আমার ম্যাসেঞ্জারে আরো কয়েকবার টাকার জন্য বলেছে কিন্তু আমি আর দেয় না। আমার কাছেও মিজান সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য এসেছে, প্রথম দিকে সে ভালো ছিলো কিন্তু এখন তার কথা কাজের সাথে মিল পাচ্ছিনা যার কারণে আমি সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছি।

মিজানুর রহমান সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আরো জানা যায়, বেনাপোলের উত্তর কাগজপুকুর গ্রামের রস্তন সরদারের ছেলে প্রতিবন্ধী মহাসিনকে একটি হুইল চেয়ার দেওয়ার জন্য মিজান ফেসবুকে পোস্ট দেয়। এই পোস্টের মাধ্যমে মালোয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তি মহাসিনকে একটি হুইল চেয়ার দেয়। মিজান তাকে হুইল চেয়ারটি দিয়ে একটি ছবিও পোস্ট করেন। কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই মিজান তাকে একটি ভ্যান দেওয়ার আশ্বাসে হুইল চেয়ারটি নিয়ে নেই এবং ঝিকরগাছার এক প্রতিবন্ধী মেয়েকে হুইল চেয়ারটি দিয়ে দেয়। কিন্তু ঝিকরগাছার ঐ মেয়ের জন্যও মিজান সাহায্য চেয়ে চেয়ারটির টাকা অন্য কারো কাছ থেকে নিয়েছিলো।

এ বিষয়ে মহাসিনের সাথে দেখা করলে তিনি বলেন, হুইল চেয়ারটি আমার দরকারে আসছে না তাই মিজান ভাই আমার কাছ থেকে ৪৫০০ টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন এবং ২০ হাজার টাকা দিলে আমাকে একটি ভ্যানের পাইয়ে দেওয়ার ব্যাবস্থা করে দেবেন বলেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, শীতকালীন সময়ে কম্বল বিতরণের নাম করে ৪০০/৫০০টাকা করে হিসাব দেখিয়ে কম্বল বিতরণ করেন মাত্র ১৩০/১৪০ টাকা দরে নাভারণ থেকে কম্বল এনে।

তিনি আরো বলেল, মিজান ১ বস্তা মাস্ক বিতরণ করে প্রচার করছেন, সে এপর্যন্ত ৫লক্ষ টাকার মাস্ক বিতরণ করেছে। সে কি জানে ৫লক্ষ টাকার মাস্ক কতগুলো হয়?

এসব অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আনারুজ্জামান এর একটি মেয়েকে কাপড় দিয়েছি, এবার অন্য মেয়েকেও জামাকাপড় দেওয়ার জন্য নিয়ে আসতে বলেছি। আনলে ছবি তুলে জামা দিয়ে দেব।

মহাসিনের হুইল চেয়ার সম্পর্কে তিনি বলেন, তার হুইল চেয়ারটি কোন কাজে না লাগায় আমি বিক্রয় করে তাকে ৪৫০০টাকা দিয়ে দিয়েছি। অন্য অভিযোগ গুলে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সব ঠিকমতোই খরচ করেছি, সাংবাদিক শিশির আমার ১ লক্ষ কোরআন শরীফ বিতরণের মহৎ কাজটি বানচাল করতে নানা রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরানের কাছে উদ্ভাবক মিজান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা মতে তিনি কিছু জিনিস আবিষ্কার করে নানা পুরষ্কার পেয়েছে এবং একটি ফ্রী খাবার বাড়ি চালায় জানি। তবে কোথা থেকে অর্থ এনে কিভাবে চালাচ্ছে বা দুর্নীতি করছে কিনা জানিনা। তবে কোন অভিযোগ পেলে সে বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত করবো।

মিজানের ফেসবুক ওয়াল ঘুরে দেখা যায় তিনি প্রতিনিয়ত তার পূর্বের ভাল কাজগুলোর ছবি পোস্ট করছেন। এক লক্ষ কোরআন শরীফ বিতরণের কথা বারবার পোস্ট করে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। সকল অপকর্মকে ঢাকতে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছেন। প্রচার করছেন তার পবিত্র কোরআন শরীফ বিতরণের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে অন্য ধর্মের এক সাংবাদিক তার নামে নানা অপবাদ সহ চক্রান্ত করছেন।

মিজানুর রহমানকে নিয়ে বিস্তারিত থাকছে তৃতীয় পর্বে।


ঝিকরগাছা প্রতিনিধি/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন