বয়স্কদের সেবায় ‘এক্সট্রা মাইল এইজ কেয়ার’

নিজস্ব প্রতিবেদক | সাক্ষাৎকার
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১ | ০৮:০৩:৫৯ পিএম
বয়স্কদের সেবায় ‘এক্সট্রা মাইল এইজ কেয়ার’
তাছলিমা সুলতানা সনম। একজন উদ্যোক্তা। সমাজ কল্যাণে মাস্টার্স শেষ করে দীর্ঘ ১২ বছর কাজ করেছেন একটি ব্রিটিশ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে। পরে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ‘এক্সট্রা মাইল এইজ কেয়ার’ নামে সেবা প্রতিষ্ঠান খুলে রাজধানীর বয়স্ক মানুষদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ৬০ জনেরও অধিক দক্ষ সেবাকর্মী রয়েছে। যারা দক্ষতার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন অসুস্থ্য বয়স্কদের। একশ’ জনেরও অধিক বয়স্ক বাবা-মা সেবা নিয়েছেন তার প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান থেকে। আগামীতে আরও বড় আকারে এই সেবার পরিধি বাড়াতে চান তাছলিমা সুলতানা সনম।

সম্প্রতি আলাপকালে তার সেবামূলক কাজের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ‘এক্সট্রা মাইল এইজ কেয়ার’র প্রতিষ্ঠাতা তাছলিমা সুলতানা সনম

সেবামূলক কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার কর্মজীবনের শুরু হয়েছে সেবার মাধ্যমে। নিজের প্রতিষ্ঠানেও মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। এ সময়ের মধ্যে অনেক ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। সবার সহযোগীতা পেয়েছি। যেসব পরিবারের সদস্যদের সেবা দিয়েছে সেই পরিবারের সকলেই আমাকে সহযোগীতা করেছে। এছাড়া সামাজিক ভাবেও এসব কাজের জন্য সমর্থন পেয়েছি।

তাছলিমা সুলতানা সনম বলেন, আমরা কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, মানুষের শেষ বয়সে তারা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ে। যেমন আপনার নিজের বাড়ি, নিজের ঘর, কিন্তু আপনি যখন চলাফেরা করতে পারবেন না তখন কোন কিছুই আর আপনার আপন থাকবে না। বয়স্ক মানুষের এই অসহায়ত্বগুলো আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে। তখন আমি ভাবলাম মানুষের এই বয়সটাতে এসে গুণগত মান সম্পন্ন সেবা খুবই প্রয়োজন।

আমাদের জীবীকার তাগিদে বাহিরে যেতে হচ্ছে। আমরা চাইলেও আমাদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে সঠিকভাবে সময় দিতে পারি না বা সেবা করতে পারি না। যেমন একজন বয়স্ক মানুষ ধীরে ধীরে খাবে কিন্তু আমার অফিসের সময় হয়ে যাওয়ায় আমি সেভাবে সময় দিতে পারছি না। এসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আমরা দক্ষ সেবা কর্মী তৈরি করার চিন্তা করলাম। যারা সর্বনিম্ন এইচএসসি পাশ এবং ট্রেইনিং এর মাধ্যমে বয়স্কদের সঠিকভাবে সেবা করতে পারবে। বিশেষ করে ব্ল্যাড প্রেশার দেখা, ইন্সুলিন দেয়া, ডায়াবেটিস দেখা, ফিজিওথেরাপি করানো, টয়লেটে নিতে সাহায্য করা, গোসল করানো, তার সাথে গল্প করা, সময় দেয়া এবং চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজগুলো করে আমাদের সেবাকর্মীরা। আমরা তাদেরকেই সেবাকর্মী হিসেবে নেই যাদের মধ্যে সেবার মনমানসিকতা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই এই কাজ করতে আগ্রহী হয়। কিন্তু ট্রেনিং করার পর অনেকেই বলে এধরনের কাজ তার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আমরা তাদেরকেই নেই যাদের মধ্যে সেবার মনমানসিকতা রয়েছে। আমাদের এই পথচলায় অনেক জনকে ট্রেনিং করিয়েছি। এখন আমাদের ৬০ জনের মত দক্ষ সেবাকর্মী কাজ করছেন।

এভাবে বয়স্কদের সেবা নিয়ে দেশে অনেকেই কাজ করছে। তবে সরকারীভাবে এখনও এই সেবা খাতটি নিয়ে তেমন চিন্তা করেনি। ঢাকা শহরে অনেক প্রবীণ আছে, যাদের কোন না কোনভাবে সেবা প্রয়োজন। সেটি হতে পারে ব্যক্তিগত সেবা, সামাজিক সেবা বা গৃহস্থালি সেবা। সরকার এখন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে একটি সেবা কোর্স চালু করেছে। যারা ট্রেনিং নিয়ে বিভিন্ন দেশে যাবে। বাংলাদেশের জন্য এখনও তেমন কোন পরিকল্পনা হয়নি। আমাদের মত কিছু ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান ট্রেনিং এর মাধ্যমে সেবাকর্মী তৈরি করছে।
 
তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকাতেই আমি ১০০ জনকে সেবা প্রদান করেছি। যারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের সেবা নিয়ে উপকৃত হয়েছেন। একজন আরেকজনকে রেফার্ড এর মাধ্যমে আমরা ক্লাইন্ট পাই। এ ক্ষেত্রে আমাদের সেবার মান সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

পরিবারের সদস্য ছাড়া সেবাকর্মীদের সেবা করার ক্ষেত্রে কি তেমন আন্তরিকতা থাকে? এমন প্রশ্নে এই উদ্যোক্তা বলেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে একজন বয়স্ক মানুষ যেমন সেবা পাবার কথা আমাদের সেবাকর্মীরা একই আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু আমাদের সেবাকর্মীদের এটা প্রফেশন সুতরাং তারা সেবার মানের দিক থেকে কোন কোম্প্রমাইজ করে না। তাদের সর্বাত্তকটা দেবার চেষ্টা করেন। কারণ কোন পরিবারের সদস্যদের সেবা করার দায়িত্ব নিলে কাজে কোন কমতি হলে আমাকে জবাব দিহি করতে হবে। অনেকের সন্তান বিদেশ থাকে, সেখান থেকে তাদের বাবা-মা কে দেখার জন্য আমাদের দায়িত্ব দেয়। সেক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা কে সকল ধরনের সেবা আমাদের সেবাকর্মীরা আপনজনের মত করে সেবা করেন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া সহ সব রকমের কাজে সহযোগীতা করে। অনেক সময় আমি নিজে বয়স্ক বাবা-মা কে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই এবং সব রকম পরীক্ষা করিয়ে তার পাশে থাকি।

আপনাদের সেবাকর্মীদের উপর আস্থা এবং বিশ্বাসের জায়গাটায় কতটুকু পরীক্ষিত? যা আপনার ক্লাইন্টদের সন্তুষ্ট করবে বলে মনে করেন-

আমি প্রায় ১৫ বছর ধরে এমন সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত আছি। এমনও দেখা গেছে একই পরিবারের অনেক সদস্যই আমার সঙ্গে সেবাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। আমার সেবাকর্মীদের উপর পূর্ণ আস্থা আছে। তার পরেও প্রত্যেক সেবা কর্মীর পুলিশ ভেরিফিকেশন, জীবনবৃত্তান্ত, ঢাকা শহরে দুজন গ্যারান্টার নিশ্চিত করা হয়। এগুলো সব যাচাই-বাছাই করে এবং ট্রেনিং করানোর পর কাজ করতে পাঠানো হয়। কোন পরিবার যদি আমাদের সেবাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় তবে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেই সেবাকর্মীকে পরিবর্তন করে নতুন কাউকে পাঠাই। আমি শতভাগ বিশ্বস্থতার বিষয়ে নিশ্চিত হবার পর সেবাকর্মীদের গ্রহকদের বাসায় পাঠাই। আমাদের গ্রাহকদের চাহিদামত সেবাকর্মী নির্ধারণ করে তাদের কাজে পাঠাই।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে এলাকা ভিত্তিক সেবাকর্মী রয়েছে। যেমন যারা মিরপুরে থাকে সেসব সেবাকর্মীরা মিরপুরের গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকেন। আবার গুলশানের আশাপাশের গুলো গুলশানে, ধানমন্ডির সেবাকর্মীরা ধানমন্ডিতে সেবা দিয়ে থাকেন। এতে করে একজন সেবাকর্মী খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা প্রদান করতে পারে।
 
সেবাকর্মীদের কি কি বিষয়ে ট্রেনিং করানো হয়?
একজন বয়স্ক মানুষের যেসব সেবা প্রয়োজন সব বিষয়ে ট্রেনিং করানো হয়। বয়স্ক মানুষের গোসল করানো, গা মোছানো, টয়লেট করানোর সব টেকনিক শেখানো হয়। বয়স্ক মানুষের প্রেসকিপশন পরে তাকে মেডিসিন খাওয়ানো, চিকিৎসকের দেয়া উপদেশগুলো মেনে রোগীদের সেবা দেয়ার সব রকম ট্রেনিং করানো হয়।

আমাদের এখানে সাধারণ ছেলে-মেয়েরা সেবাকর্মী হতে আসে তবে যারা নার্সিং কোর্স বা ডিপ্লোমা করে আসে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। আমরা বিশেষ চিকিৎসা সেবায় প্রশিক্ষিত নার্সদের নিয়োগ করে থাকি। তবে নরমাল কেয়ারের জন্য আমাদের এখান থেকে ট্রেনিং প্রাপ্ত সেবাকর্মীদের দেয়া হয়। আমরা সেবাকর্মীদের সব রকম কাজেই পারদর্শী করে গড়ে তুলি। যাতে তারা সব রকম সেবা প্রদান করতে পারে।

যেসব সেবা প্রদান করে ‘এক্সট্রা মাইল এইচ কেয়ার’
বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা, ডিমেনশিয়া কেয়ার, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, স্ট্রোক কেয়ার, ক্যানসার কেয়ার, অটিষ্টিক কেয়ার, আই.সি.ইউ এবং সি. সি. ইউ পেশেন্ট কেয়ার, নিউরো পেশেন্ড কেয়ার, বেবি কেয়ার, ফিজিওথেরাপি।

স্বাস্থ্য সেবার মধ্যে রয়েছে- ওষুধ খাওয়ানো, ব্লাড সুগার ও ব্লাড প্রেশার চেক করা, শরীরের তাপমাত্র মাপা, ইঞ্জেকশন পুর করা ও ইনসুলিন দেয়া, অক্সিজেন ও নেবুলাইজার দেয়া, ড্রেসিং করা, টিউব ফিডিং করানো, ফিজিওথেরাপি দেয়া, সাকশান দেয়া, ক্যাথেটার করা, আই.ভি ক্যানোলা ও আই. ভি এবং আই.এম ইঞ্জেকশন দেয়া।

ব্যক্তিগত সেবার মধ্যে রয়েছে- গোসল করোনা, গা মোছানো, খাওয়ানো, টয়লেটিং এ সাহায্য করা, হাঁটা চলাতে সাহার্য করা, হাত ও পায়ের পরিচর্যা করা, মুখ ও দাঁতের পরিচার্যা করা, হুইল চেয়ার দিয়ে ঘোরানো, পোশাক পরিবর্তন ও ডায়পার চেঞ্জ করা, বিছানা থেকে উঠানো-বসানো, শোয়ানো, খাবার গরম করে দেয়া, কাপড় গুছিয়ে রাখা, বিছানা পরিপাটি করে দেয়া। এছাড়াও বই বা খবরের কাগজ পড়ে শোনানো, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, প্রয়োজনের প্রিয় স্বজনদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া এবং হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে থাকা।

সেবার ফি কিভাবে নির্ধারণ হয়, জানতে চাইলে তাসলিমা সুলতানা সোনম বলেন, সেবা গ্রহীতার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং কি কি সেবা লাগবে সেসব বিবেচনা করে সেবার ফি নির্ধারণ করা হয়। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টার মাসিক সেবায় ২০-২৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। এছাড়া ১২ ঘণ্টা সেবা নিলে মাসিক ২৫-৩০ হাজার টাকা নির্ধারন করা হয়। তবে সব ক্ষেত্রে একই রকম সার্ভিস চার্জ নেয়া হয় না। অনেক পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিকে দুইজন সেবাকর্মীর মাধ্যমে ২৪ ঘন্টাও সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া কেউ চাইলে অল্প সময়ের জন্যও সেবা নিতে পারবেন।

সেবা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে এই উদ্যোক্তা জানান, আমরা এবছর থেকে অটিজম শিশুদের সেবা দেয়ার কাজ শুরু করবো। এছাড়া বয়স্কদের কিছুদিন রাখার জন্য সেবা হোম চালু করতে চাই।

করোনা রোগীদের সেবার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, করোনা রোগীদের সেবা করার জন্য আমরা একটা টিম তৈরি করেছিলাম। যারা করোনা রোগীদের সেবা দিতে আগ্রহী ছিল সেসব সেবাকর্মীদের নিয়ে ১০ জনের টিম ছিল। কোভিডের সময়ও যেভাবে মানুষ সেবা চেয়েছে আমরা সেভাবে সেবা দিয়েছি। এখনও দিচ্ছি। কোভিড আক্রান্ত অনেককেই সেবা দিয়েছি।

‘পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্যদের দ্বারা সেবা এই বিষয়টিকে কিভাবে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ,’ এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের শহরে জীবন-যাপনের একটা ধারণা বাবা-মা অসুস্থ হলে গ্রাম থেকে কাউকে এনে সেবার কাজে লাগাবো। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব হয় না। কারণ সকলেই নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকে। কেউ কাউকে সেভাবে সময় দিতে পারে না। আবার কাজের লোকদের দিয়ে সঠিক সেবাটা পাওয়া যায় না। কারণ তারা সঠিকভাবে এই কাজের জন্য দক্ষ না। আমরা দিচ্ছি প্রফেশনাল কেয়ার। আমাদের সেবাকর্মীরা সব রকম সেবা সঠিকভাবে দিতে পারে। এই সেবা নতুন হলেও মানুষ এখন সহজেই নিচ্ছেন। অনেক সন্তান বিদেশে থাকেন তাদের বাবা-মা দেশে একা থাকেন। তারা বোঝেন যে প্রফেশনা কেয়ার ছাড়া সঠিক সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। তাদের বাবা-মায়ের সেবা করার জন্য আমাদের সার্ভিস নিচ্ছেন। আস্তে আস্তে মানুষের চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন আসছে। মানুষ এখন প্রফেশনাল কেয়ার নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে এটি সকলের কাছে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।

সবশেষ তিনি বলেন, আমাদের মত যেসব প্রতিষ্ঠান বয়স্কদের সেবা দিচ্ছেন, এই অল্প সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দ্বারা সকল প্রবীণদের সেবা দেয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বিত্ত্ববানরা যদি এগিয়ে আসেন বা আমাদের সহযোগীতা করেন তাহলে আরও প্রবীণদের সেবা দিতে পারবো এবং শেষ সময়ে এসব বয়স্ক মানুষেরা ভালো সময় কাটাতে পারবেন।

যোগাযোগ:
তাছলিমা সুলতানা সনম
অফিস: রাজ্জাক প্লাজা
৯ম তলা, স্যুট-০৪
২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ স্বরনী, মোগবাজার মোড়, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ই-মেইল: info@extramileagecare.com
ফোন: ০১৭৮৫০৩০৬১৪, ০১৯৭৯৭৩৩৬০১
ফেসবুক পেইজ: https://www.facebook.com/extramileBangladesh

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন