জীবনতরী এবার আলো জ্বালাবে ঝালকাঠীতে

ঝালকাঠী প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ মার্চ ২০২১ | ০৬:২৪:১১ পিএম
জীবনতরী এবার আলো জ্বালাবে ঝালকাঠীতে
মানবতার সেবায় দীর্ঘ ২১ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে ‘জীবনতরী’ নামের ভাসমান হাসপাতাল। এ হাসপাতালটি মুলত উপকূলীয় ও নদী অববাহিকায় বসবাসরত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকে। বর্তমানে এ হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে ঝালকাঠী সুগন্ধা নদীর ঘাটে নোঙ্গর করে কাজ শুরু করেছে।

হাসপাতালের প্রশাসক মোঃ আলাউদ্দিন জানান, শনিবার সকাল থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী তিন থেকে ছয়মাস এখানে অবস্থান করে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। এর আগে গত ২ মার্চ ঝালকাঠীর ডিসি পার্ক সুগন্ধা নদীর ঘাটে নোঙ্গর করে দুইতলা বিশিষ্ট ‘জীবনতরী’ নামের ভাসমান হাসপাতাল। অন্যান্য হাসপাতালের মতো ভাসমান এ হাসপাতালেও রয়েছে রিসিপশন, ডাক্তার চেম্বার, দুটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, রোগীদের বেড, অফিস কক্ষসহ সবকিছু। এছাড়া জরুরী রোগীদের আনা-নেয়ার জন্য ভাসমান এ হাসপাতালে বাঁধা রয়েছে দুটি স্পিডবোড, নদীর পাড়ে রাখা হয়েছে একটি এ্যাম্বুলেন্স।

ভাসমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সাল থেকে জীবনতরী নামে বেসরকারী সংস্থা ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পরিচালনায় ভাসমান হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করে। এ হাসপাতালটি ১২ বেডের অনুমোদিত। এখানে নাক, কান ও গলা অভিজ্ঞ একজন, চোখের একজন এবং একজন অর্থোপেডিকস্ চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া চারজন নার্স, দু’জন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জন জনবল রোগীদের সেবার নিয়োজিত রয়েছেন। ‘জীবনতরী’ নামের এ হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে ভারতীয় ও আমেরিকান লেন্স সংযোজনের মাধ্যমে চোখের ছানির অপারেশন করা হয়। এছাড়া স্বল্পমূল্যে বিশেষজ্ঞ সার্জন দ্বারা নাক, কান, গলা, ঠোঁটকাটা, তালুকাটা রোগীর প্লাস্টিক সার্জারিসহ অপারেশন করা হয়। এ হাসপাতালে বিকলাঙ্গ ও পঙ্গু রোগীদের সহায়ক সামগ্রী নামমাত্র মূল্যে দেওয়া হয়।

হাসপাতালের প্রশাসক মোঃ আলাউদ্দিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সহযোগিতায় ইংল্যান্ড ও হংকংয়ের অর্থ সহায়তায় পরিচালিত ভাসমান হাসপাতালটিতে চোখের সমস্যা, ইএনটি, অর্থোপেডিক, নাক, কান ও গলার সমস্যাসহ ঠোঁটকাটা রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভাসমান এই হাসপাতালে সরকারী ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ভাসমান এ হাসপাতালে জটিল রোগীদের আনা-নেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক নৌপথে স্পীড বোট ও সড়ক পথে এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরিহারযোগ্য প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে মানবতার সেবায় কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৩৩ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে।

মুশফিকুর রহমান পলাশ/এসএ/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন