ফুলতলায় তরুণ কৃষি উদ্দোক্তা আরিফের সফলতার গল্প

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১ | ১২:১০:১৮ পিএম
ফুলতলায় তরুণ কৃষি উদ্দোক্তা আরিফের সফলতার গল্প
পিছিয়ে থাকার সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তাইতো শূন্য হাতে শুরু করে এখন সফল উদ্যোক্তা। তবে এই সফলতার পেছনে রয়েছে শ্রম ও আনন্দ সুখের অনেক কাব্য। তাদেরই একজন ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মোঃ আরিফুজ্জামান (আরিফ)। তিনি জানিয়েছেন পিতার অনুপস্থিতিতে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প।

আরিফুজ্জামান আরিফ ফুলতলা উপজেলার ২নং দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের গাড়াখোলা ৫নং ওয়ার্ডের মোঃ শুকুর মোল্ল্যা এর গরিব ঘরের একজন মেধাবী সন্তান। পরিবারের মেধাবী সন্তান আরিফ ছোট বেলা থেকেই গ্রামের সকলের কাছে আরিফ খুব আদরের ও প্রিয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে (আর জি রহমান) নামে পরিচিত।

আরিফুজ্জামান আরিফ ২০১৫ সালে গাড়াখোলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এস এস সি পাশ করেছে, আলিম পাশ করেছেন যশোর আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে।বর্তমানে আরিফ ফাজিল ৩য় বর্ষের ছাত্র।

সব কিছু ভালো চলতেছিলো হঠাৎ করে আরিফের পিতা না ফেরার দেশে পারি দেন। ২০২০ সালে জুলাই মাসে তার পিতার মৃত্যু হয়। তখন আরিফ বেসরকারি একটি অনলাইন মার্কেটিং কাজ করতেন এবং তার হাত খরচ চলে যেতো। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলেন আরিফের পিতা, হঠাৎ করে তিনি লিভার সমস্যা জনিত কারণে মারা যান। আরিফের সোনালী স্বপ্ন ছিলো পড়াশোনা করে বড় কিছু করে নিজের পরিবারের পাশাপাশি অসহায়দেরকে সাহায্য করবে। কিন্তু অজান্তেই এক ঝড় এসে আরিফের স্বপ্নের চারপাশে কালো আকার ধারন করে।

পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস পিতা আর না থাকায় আরিফের উপর সেই আয়ের উৎসের দায়িত্ব চলে আসে।আরিফ সব কিছু তার কাছে একটা বড় চ্যালেন্জ হিসেবে সামনে দাড়িয়েছে।

কোথাও কোনো কাজের সুযোগ পাচ্ছিল না আরিফ কিছুদিন পরে পিতার অনুপস্থিতিতে আরিফের মা তাকে ডেকে তার পিতার কৃষি ফসলের জমি কথা বলে। তখন আরিফ তার মায়ের কথা শুনে মায়ের দোয়া নিয়ে তার পিতার রেখে যাওয়া কৃষি জমিতে জান।

কৃষি ফসলের জমিতে আরিফ নিরবে পিতার স্নেহময় বৃক্ষছায়ায় কিছু সময়ে বসে থাকেন। তারপর আরিফ নিজের চেষ্টা ও বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে কাজ শুরু করেন। প্রথমে আরিফ তার পিতার রেখে যাওয়া সাড়ে ৩ বিঘা জমি পরিমান ঘেরে সাদা মাছের চাষ করেন।মাছ চাষ করতে বেশিরভাগ রাত ঘেরের পাড়ে কাটাতে হয়েছে আরিফ কে। এই শীতে অনেক কষ্টের পর সাদা মাছে মোটামুটি একটা চাহিদা পুরণ করতে পেরেছে।

তারপর আরিফ সিদ্ধান্ত নেন ধান চাষ করবেন। তার ধারাবাহিকতায় আরিফ এবার ধান চাষ করেন। আরিফ স্থানীয় কৃষক গনের পরামর্শে ফসলের জমিতে ধান খুব ভালো ফলতে শুরু করেছে।

আরিফের এমন তরুণ বয়সে কৃষি উদ্দোক্তা হওয়ার পেছনে তার মায়ের অনুপ্রেরণা ও তার কাছে বড় ভাই বেশকিছু বন্দু এবং তার নিজের সাহসী ও দৃঢ় বিশ্বাসই হচ্ছে সফলতার মুল।

আরিফের কৃষি ফসলের জমিতে আরিফ কে মৌখিক ভাবে পরামর্শ প্রদান করেন ফুলতলা উপজেলার উপ সহকারী কৃষি অফিসার কাজী নজীর হোসেন, গাড়াখোলা ব্লগ।

আরিফুজ্জামান আরিফ এর তরুন বয়সে এমন পদক্ষেপ ও দৃঢ় সাহসিকতায় তার সাফল্যের মুল অস্ত্র। আরিফুজ্জামান যুব সমাজের অহংকার তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে রোল মডেল হয়ে অন্য তরুনের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন। কোনো কাজকে ছোট করে না দেখে দৃঢ সাহস ইচ্ছে শক্তি এবং লক্ষ কে স্থির করে পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনে সফলতা অর্জন করা যায় এটার বড় উদাহরণ আরিফুজ্জামান আরিফ। কৃষি কাজের পাশাপাশি তিনি মোটামুটি একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে ও পরিচিত।

শেখ জিল্লুর রহমান/আরইউ/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন