নবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক শুরু হয়েছে ত্বীনফল চাষ

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ০৩:২৪:৪৮ পিএম
নবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক শুরু হয়েছে ত্বীনফল চাষ
স্বাদে আর পুষ্টি-গুণে সমৃদ্ধ সেই ত্বীনফলের বানিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে দিনাজপুরের  নবাবগঞ্জে। আরব দেশের জনপ্রিয় একটি ত্বীনফল। সৌদি আরব ও বাংলাদেশে ত্বীনফল নামে ডাকলেও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, তুরস্ক, জর্ডান সহ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্জির নামে খ্বুই পরিচিত এর বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস ক্যারাইকা। ত্বীনফলে আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার, আইরন। একেকটি গাছ ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত একটানা ফল দেয়।


ত্বীনফলের তাৎপর্য পবিত্র কোরআনে বর্নিত আছে। এটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি নতুন ও অপরিচিত নাম। নবাবগঞ্জের উদ্যোক্তা মোঃ মতিউল মান্নান। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। করোনাকালিন সময়ে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বসে না থেকে ছোট বোন মোছাঃ মনিরা আখতারের পরামর্শে গাজীপুর থেকে চারাগাছ সংগ্রহ করে বাগান করেন ত্বীনফলের। প্রতিটি চারাগাছ ৫০০ টাকা করে কিনে চার বিঘা জমিতে ৯০০ চারাগাছ লাগান। বর্তমানে তার বাগানে শোভা পাচ্ছে আরব দেশের জনপ্রিয় এই ত্বীনফল।

বাগানের মালিক মোঃ মতিউল মান্নান জানান- স্বাদে অত্যধিক সুস্বাদু, সুমিষ্ট, এবং রসালো এই ত্বীনফল। চারাগাছ লাগানোর সময় থেকে ৩ মাসেই ফল ধরা শুরু করেছে। যার একেকটির ওজন হবে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত। আর ফল ধরে ৭০-৮০টির মত। ত্বীনফল ডায়াবেটিক, হাঁপানি, ক্যান্সার সহ নানা রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

এছাড়াও জ্যাম, জেলি, পুডিন ও আচারেও ব্যবহার করা হয়। মরুভূমির গরম আবহাওয়ায় চাষ হলেও বাংলাদেশে আবহাওয়াতেও দেখা দিয়েছে এর উজ্জল সম্ভাবনা। আর কয়েক দিনের মধ্যে তিনি বাগান থেকে ত্বীনফল বানিজ্যিক ভাবে বিক্রি শুরু হবে। প্রতি কেজি একহাজার টাকার বেশী বিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই ত্বীনফল ভেষজ গুণসমৃদ্ধ বহু রোগ-প্রতিরোধে ব্যবহার হয়ে থাকে। বানিজ্যিক উৎপাদনের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা। মানুষদের উদ্বুদ্ধ  করতে এ নিয়ে কাজ করছেন তারা।

মোঃ রেজাউল করিম স্বাধীন/এসএ/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন