শাহজাহান আনসারীর প্রার্থিত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন বাতিল করেছেন আদালত

বিশেষ প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ০৮:২৭:৫৫ পিএম
শাহজাহান আনসারীর প্রার্থিত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন বাতিল করেছেন আদালত
কক্সবাজার জেলার শীর্ষ ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণকারী আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ডন শাহজাহান আনসারীর দায়ের করা একটি মামলায় স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পাবার প্রার্থনা বাতিল করে দিয়ে পুর্বের বারিত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে এক রায় প্রদান করেন কক্সবাজার যুগ্ম জেলা জজ আদালত ১ম এর বিজ্ঞ বিচারক।

গত ১৪/০২/২০২১ ইংরেজি তারিখ কক্সবাজার জেলা যুগ্ম জজ ১ম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মাহমুদুল হাসান শাহজাহান আনসারীর দায়ের করা অপর মামলা নং ২১৪/২০২০ ইংরেজি তারিখের মামলার বাদী শাহজাহান আনসারী গত ৩০/১২/২০২০ ইংরেজি তারিখে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করে বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে একখানা আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলার বাদী শাহজাহান আনসারীর দাখিল করা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনার আবেদন না মঞ্জুর করেন এবং গত ২৭/১১/২০১৯ ইংরেজি তারিখের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন মতে বারিত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখার আদেশও বাতিল করেন কক্সবাজার যুগ্ম জজ ১ম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ।

বাদী শাহজাহান আনসারীর দায়ের করা অপর মামলা নং ২১৪/২০২০ ইংরেজি তারিখ এর উপর কক্সবাজার জেলা যুগ্ম জজ আদালত ১ম এর মাননীয় বিচারক গত ১৪/০২/২০২১ ইংরেজি তারিখে দেওয়া ১৬ নং আদেশের বিবেচ্য বিষয় সমুহ তুলে ধরা হল।

আদালতের বিবেচ্য বিষয় সমুহ হল
১। অত্র মামলায় বাদী পক্ষে Prima facie & Arguable case আছে কিনা?
২। Balance of convenience or inconvenience বাদী পক্ষের অনুকূলে কিনা?
৩। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা না হলে বাদী পক্ষে অপূরনীয় ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কিনা?
৪। বাদী পক্ষ প্রার্থিত মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেতে পারেন কিনা?

উপর্যুক্ত চারটি বিবেচ্য বিষয়ের আলোকে বিজ্ঞ আদালত আলোচনা করে নিন্মলিখিত সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

আলোচনা ও সিদ্ধান্ত
পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিধায় আলোচনা, পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে বিবেচ্য বিষয় চারটি একত্রে নেওয়া হল।

বাদী পক্ষের আনিত বিগত ২৭/১১/২০১৯ ইং তারিখের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত, বিবাদী পক্ষের দাখিলী লিখিত আপত্তি ও উভয় পক্ষের দাখিল করা দলিল পত্র সহ পর্যালোচনা নথি পর্যালোচনা করলাম। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনায় আনিত অত্র মোকদ্দমায় ইহা স্বীকৃত যে নালিশী তপশিল বর্ণিত কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা মৌজায় স্থিত ৯ তলা বিশিষ্ট হোটেল জামান সী হাইটস এর মালিক বিবাদী মোং ওয়াহিদুজ্জামান বাদী মোং শাহজাহান আনসারী উক্ত হোটেলটি ০৫/১২/২০১৬ ইং তারিখে হোটেল ভাড়ানামা চুক্তিপত্র মূলে ৩০/১২/২০২১ইং তারিখ পর্যন্ত ২ কোটি টাকার বিনিময়ে ইজারা ভোগ দখলে আছেন উল্লেখে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনায় অত্র মোকদ্দমাটি আনয়ন করেন এবং মোকদ্দমা নিষ্পত্তি কালতক বিবাদী যাতে তাকে উক্ত হোটেল থেকে বেদখল করতে না পারে, তৎমর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করেছেন।

বাদীপক্ষ তার দাবির সমর্থনে বিগত ০৫;১২/২০১৬ ইং তারিখের হোটেল ভাড়ানামা চুক্তিপত্র সহ বিবাদীর বরাবরে টাকা জমা প্রদানের রশিদ আদালতে দাখিল করেন। অপর দিকে, বিবাদী পক্ষ দাবী করেছেন যে, বাদী মোং শাহজাহান আনসারীকে বিবাদী তার হোটেলটি পরিচালনার জন্য কেয়ারটেকার নিযুক্ত করেন এবং ০৫/১২/২০১৬ ইং তারিখের হোটেল ভাড়ানামা চুক্তিপত্রটি জাল ও ফেরবী এবং চুক্তিপত্রটি এডভোকেট বিভূতি ভূষণ শর্মা এর কার্যালয় থেকে যথাযথ ভাবে নোটারাইজড করা হয়নি মর্মে বিজ্ঞ নোটারী এডভোকেট একটি লিখিত প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

বাদী পক্ষে দাখিলি তর্কিত ০৫/১২/২০১৬ ইং তারিখের মূল চুক্তিপত্রটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, উহা 'কড- ৭৩৮৬৯২২, ৭৩৮৬৯২৩, ৭৩৮৬৯২৪, ৭৩৮৬৯৪২ নং ১০০.০০ টাকার ষ্ট্যাম্পে ০৫/১২/২০১৬ ইং তারিখে সম্পাদিত এবং ০৬/১২/২০১৬ ইং তারিখে নোটারী পাবলিক এডভোকেট বিভূতি ভূষণ এর সম্মুখে ৫৪ নং নোটারী রেজিস্ট্রিকৃত। বিবাদী পক্ষে দাখিলি ১০/০৩/২০২০ ইং তারিখের ২৩৯৯ নং সংবাদ স্লিপ পর্যালোচনায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম ট্রেজারী অফিস উপর বর্ণিত ৪টি ষ্ট্যাম্প চট্টগ্রাম ট্রেজারী হতে ২০/০৪/২০১৭ ইং তারিখের সরবরাহ করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ ট্রেজারী অফিস থেকে বর্ণিত ষ্ট্যাম্প সমূহ সরবরাহের প্রায় ৫ মাস পূর্বের তারিখে হোটেল ভাড়ানামা চুক্তিপত্রটি সম্পাদিত হয়েছে মর্মে বাদী দাবি করেছেন যা বাস্তব সম্মত নয় মর্মে আপাতঃ দৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয়।

এছাড়া, নোটারী পাবলিক এডভোকেট বিভূতি ভূষণ শর্মা তার প্রত্যয়ন পত্রে উল্লেখ করেছেন যে, বিবাদী মোং ওয়াহিদুজ্জামান ০৬/১২/২০১৬ ইং তারিখে তার কার্যালয়ে উপস্থিত হননি এবং তার কার্যালয়ে ৫৪ নং নিবন্ধিত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর প্রদান করেননি। অর্থাৎ বাদী পক্ষে দাবীকৃত ০৫/১২/২০১৬ ইংরেজি তারিখের হোটেল ভাড়া নামা চুক্তিপত্রটি বিবাদী কতৃক ০৫/১২/২০১৬ ইংরেজি তারিখে সম্পাদিত হওয়া এবং উহা নোটারী পাবলিক এডভোকেট বিভূতি ভূষণ এর সম্মুখে নোটারাইজড হয়েছে মর্মে আপাতঃ দৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় না। সুতরাং বাদী যথাযথ প্রক্রিয়ায় হোটেল ভাড়া চুক্তিপত্র মূলে বিবাদীর মালিকীয় নালিশী তপশীল বর্ণিত 'জামান সী হাইটস ' নামক হোটেলটি দখলে আছেন এরূপ আপাতঃ দৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় না বরং আপাতঃ দৃষ্টিতে ইহা প্রতীয়মাণ হয় যে, নালিশী তপশীল বর্ণিত হোটেলটিতে বাদী একজন অনধিকার প্রবেশকারী এবং তার দখল একটি অবৈধ দখল (ill possession) উক্তরূপ অবৈধ দখল রক্ষায় তিনি কোন আইনগত প্রতিকার পাওয়ার নয় মর্মে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ Rabeya Khatoon vs Bangladesh represented by the Deputy Commissioner and others মোকদ্দমায় অভিমত প্রকাশ করেন।

অভিমতটি নিন্মরূপ- " A trespasser cannot maintain a suit for permanent injunction Against a rightful owner, both the Courts below misread the provisions of Article 42 of the Constitution, inasmuch of as the plaintiff being a trespasser, cannot get protection of law to retain her ill possession in the suit land." [ Reported in:60 DLR(AD)9]

উপরোক্ত আলোচনা ও অভিমত আলোকে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনায় আনিত অত্র মোকদ্দমায় বাদী পক্ষের আপাতঃ প্রতীয়মান গ্রহণযোগ্য মোকদ্দমা (Prima facie case & Arguable case) নেই মর্মে অভিমত প্রদান করা হলো। যেহেতু বাদী পক্ষের অত্র মোকদ্দমায়
Prima facie case & Arguable case পাওয়া যায়নি সেহেতু মোকদ্দমার সুবিধা অসুবিধার ভারসাম্য ও অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার বিষয়টিও বাদী পক্ষের অনুকূলে নয় মর্মে সাব্যস্থ করা হল। তাই বাদী পক্ষ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রতিকার পেতে হকদার নয় মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলো। অত্রাকারে বিবেচ্য বিষয় ৪টি বাদী পক্ষের প্রতিকূলে সাব্যস্থ করা হল।

অতএব, আদেশ হয় যে, অত্র মোকদ্দমায় বাদী পক্ষে বিগত ২৭/১১/২০১৯ ইং তারিখে দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৩৮ অর্ডার ১/২ রুল ও ১৫১ ধারা মতে আনীত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিবাদীর বিরুদ্ধে দুতরফা সূত্রে (On Contest) না মঞ্জুর (Disallowed) করা হলো। এতদ্বারা, ২৭/১১/২০১৯ ইং তারিখে প্রচারিত অন্তর্বর্তীকালীন স্থিতি অবস্থা আদেশ রদ- রহিত করা হলো। আগামী ০৪/০৪/২০২১ ইং তারিখ বর্ণনা দাখিলের দিনধার্য্য আছে।

শাহজাহান আনসারীর দাখিল করা হোটেল ভাড়া নামা চুক্তিপত্রটি যে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করা হয়েছিল তার উপর একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল জাতীয় অনলাইন পোর্টাল বাংলা পত্রিকায়। আজ আদালতের এই রায়ে প্রমাণিত হল বাংলা পত্রিকা সত্যের পথে ছিরো আগামীতেও সত্যের পথে অবিচল থাকবে।

মো. শহীদুল্লাহ/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন