মুশতাক বলেছিলেন চিন্তা করিস না, ফিরে আসব

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | সারাদেশ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১২:০৯:২৯ পিএম
মুশতাক বলেছিলেন চিন্তা করিস না, ফিরে আসব
‘আমি তো কোনো অন্যায়-অপরাধ করিনি। তোরা চিন্তা করিস না। আমি ঠিকই ফিরে আসব।’ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় লেখক মুশতাক আহমেদ এভাবেই স্বজনদের সান্তনা দিয়ে গিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের প্রায় ১০ মাস পর মুশতাক আহমেদ মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ার সেই বাসায় ঠিকই ফিরে আসেন। তবে লাশ হয়ে, নিথর দেহে। লাশ হয়ে এমন ফিরে আসা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তার স্বজনরা।

মুশতাক আহমেদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুযা ফুফাতো ভাই বলেন, কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, কারাগারে থাকা অবস্থায় ভাইয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেটি যদি ঠিক হয়, তা হলেও বলব হয়তো ঠিক সময়ে ঠিক চিকিৎসা ভাইয়া পাননি। আমাদের কাছে থাকলে হয়তো এমন হতো না। আমরা ভাইয়ার ঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারতাম। শুধু লেখালেখির কারণে এমনটা হতে পারে?’

মুশতাক আহমেদের বাড়ির নাম ‘পরম্পরায়’। ওই বাড়ির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে মুশতাক আহমেদ ও তার স্বজনরা বসবাস করেন। একটি ফ্ল্যাটে বাবা মো. আবদুর রাজ্জাক, মা জেবুন্নাহার ও স্ত্রী লিপা আক্তারকে নিয়ে থাকতেন মুশতাক আহমেদ। স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন লিপা। ওই ফ্ল্যাট থেকেই নয় মাস আগে মুশতাককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় র‌্যাব। বাড়িটির নিচে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল মুশতাক আহমেদের ওই ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে।

তিনি জানান, লেখালেখি আর ছবি তোলা খুব প্রিয় ছিল মুশতাক আহমেদের। নিয়মিত লিখলেও বই প্রকাশে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। নিজের হাতে গড়া কুমিরের খামার নিয়ে বেশিরভাগ সময় কেটেছে তার।

৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই কমিটিকে চার কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গতকাল শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তরুণ কান্তি শিকদার, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম, ময়মনসিংহের কারা উপমহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির, গাজীপুরের জেলা কারাগারের সহকারী সার্জন ডা. কামরুন নাহার ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব আরিফ আহমেদ।

গ্রেপ্তারের পর ১০ মাস ধরে কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন মুশতাক আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মুশতাক সন্ধ্যার দিকে কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত শুক্রবার রাতে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করেন পরিবারের সদস্যরা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন