নওগাঁয় গলা ও পায়ের রগকাটা ১ ব্যাক্তিকে উদ্ধার করলো পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস

মহাদেবপুর প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ০৯:৫০:৩১ পিএম
নওগাঁয় গলা ও পায়ের রগকাটা ১ ব্যাক্তিকে উদ্ধার করলো পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস
নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ বাড়ির টিনের চালার উপরে ওঠে ধারালো হাসুয়া দিয়ে নিজের হাত, পায়ের রগ, গোপনাঙ্গ ও গলা কাটাকালে যেভাবে কৌশল খাটিয়ে স্থানিয়দের সহযোগীতায়  গুরুতর জখম ব্যাক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠালেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের মাইবা দিঘী (পাহান পাড়া) গ্রামে।

স্থানিয়রা জানায়, মাইবা পাহান পাড়া গ্রামের মৃত অজিত পাহানের ছেলে বিষু পাহান (৩৫) হঠাৎ করেই বুধবার ভোররাতে পরিবারের লোকজনের অজান্তে হাতে একটি ধারালো হাসুয়া নিয়ে নিজ বাড়ির টিনের চালার উপর ওঠেন। এক পর্যায়ে বিষু পাহানের স্ত্রী জোসনা পাহান স্বামীকে ঘরে দেখতে না পেয়ে ঘর থেকে বের হলে এসময় টিনের চালার উপর থেকে তার স্বামী স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন যে আমি এখানেই আছি কেউ আমাকে নামানোর চেষ্টা করলে আমি তাদের শেষ করে দিব। ঘটনাটি প্রতিবেশীদের জানালে প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাড়ির নিচে অবস্থান নিয়ে বিষু পাহানকে পাহাড়ায় রাখেন এবং সকালে ঘটনাটি স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানান।

ঘটনার খবর পেয়ে মহাদেবপুর থানাধীন নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই জিয়াউর রহমান জিয়া সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে পৌছান এরপর নওগাঁ থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ী সহ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সহ কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌছালে এসময় টিনের চালার উপর থাকা বিষু পাহান সবাইকে উদ্দেশ্যকরে চিৎকার দিয়ে বলতে থাকেন, যে আমাকে নামাতে আসবে তাকেই আমি হাসুয়াদিয়ে শেষ করেদিব এবং নিজেও শেষ হবো। এমন অবস্থায় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা বিভিন্নভাবে কৌশল খাটিয়ে বাড়ির টিনের চালা থেকে বিষু পাহানকে নামানোর জন্য পরিকল্পনা শুরু করেন এবং স্থানিয় কয়েকজন যুবকের সহযোগীতা নিয়ে নামানোর পরিকল্পনা করার মহূর্তেই সকাল সারে ১০ টারদিকে টিনের চালার উপর বিষু পাহান তার হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দিয়ে একের পর এক হাত-পায়ের রগ ও গোপনাঙ্গ সহ গলা কাটতে শুরু করেন। এমন দৃশ্য দেখে দ্রুত টিনের চালার উপর ওঠে জালের ফাঁদে ফেলে (জালদিয়ে পেচিয়ে) টিনের চালার উপর থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় নামানো হয় বিষু পাহানকে। নামানোর পূর্বেই বিষু পাহান হাসুয়া দিয়ে হাতের রগ, পায়ের রগ, গোপনাঙ্গ ও গলা সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে মারান্তকভাবে নিজেই নিজেকে জখম করায়।

এসময় স্থানিয় লোকজন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়িতে করে বিষু পাহানকে দ্রুত নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা করা হয়। পরবর্তীতে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা রেফার্ড করলে বিষু পাহানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

সংবাদ লেখার সময় বিষু পাহানের ভাই রাজশাহী মেডিকেল থেকে ফোনে প্রতিবেদককে জানান, অবস্থা আশংখ্যাজনক বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অপরদিকে এমন ঘটনা ঘটানোর কারন জানতে বিষু পাহানের পরিবার, আত্বীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে কথাহলে তারা প্রতিবেদককে জানান, প্রায় এক বছর পূর্বেও বিষু পাহান এমন উগ্র আচরন করেন, তবে সে সময় চিকিৎসা করানোর পরই গত এক বছর সে ভালোই ছিলো কিন্তু হঠাৎ করেই আবার এমন ঘটনা ঘটালো যা কখনোই কোন স্বাভাবিক মানুষ করতে পারে না, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলেও জানান তারা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, একজন স্বাভাবিক মানুষ এভাবে নিজেই নিজের শরীরে আঘাত করতে পারে না, কিন্তু বিষু পাহান উপস্থিত সকলের সামনে নিজেই নিজের শরীরে ধারালো হাসুয়া দিয়ে যেভাবে আঘাত করেছেন তা খুবই মর্মান্তিক দৃশ্য।

এব্যাপারে মহাদেবপুর থানার ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ঘটনাটি আমি জেনেছি, যদিও বা স্থানিয়রা বলছেন যে বিষু পাহান হঠাৎ করেই মানুসিক ভারসাম্যহীন হয়ে এমনটা ঘটিয়েছেন, তারপরও ঘটনাটিকে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কারন বিষু পাহান কি কারনে এমনটা করলেন সেটিও ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি।

অহিদুল ইসলাম/এসএ/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন