`নেত্রীর অসম্মান হবে' এটা কখনোই চাইবো না: কাউন্সিলর মোজাম্মেল

ইসহাক আসিফ | সাক্ষাৎকার
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ০৭:৩০:১৯ পিএম
`নেত্রীর অসম্মান হবে' এটা কখনোই চাইবো না: কাউন্সিলর মোজাম্মেল
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এবং দলটির নিবেদিত প্রাণ-ও। সাম্প্রতিক, গণমাধ্যমে ওই ওয়ার্ডে ‘চাঁদাবাজি ও ক্যাডার বাহিনী’ সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। তবে, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ এবং জনপ্রিয়তায় ঈষান্বিত হয়ে এক শ্রেনীর মানুষ (সুবিধাবাদী) ওই সব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানান ওই কাউন্সিলর।
 
বাংলা পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমার কারণে নেত্রীর (আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) অসম্মান হবে- এটা কখনোই চাইবো না। তিনি আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘স্নেহ করে যে দায়িত্ব দিয়েছেন’- সেই দায়িত্ব কখনোই অবহেলা করবো না। নেত্রীর অসম্মান হবে-এমন কাজ কখনোই করবো না।

গণমাধ্যমে দেওয়া তথ্য ও সংবাদ মিথ্যা এবং বানোয়াট দাবি করে মোজাম্মেল হক বলেন, কাউন্সিলর হওয়ার পরে/আগে কোনদিন কোথাও গিয়ে চাঁদাবাজি করিনি। কোন নিজস্ব বাহিনীও নেই আমার। একা-একা চলাফেরা করি। রাতদিন একাই চলাফেরা করি। যে নামে যে সমস্যা একাই সমাধান করি।

গণমাধ্যমে বলছে, ওই কাউন্সিলরের ক্যাডার বাহিনী আছে। তার পক্ষ নিয়ে চাঁদাবাজি করে। এটা’ কখনো সমর্থন করেন না তিনি। বলেন, আমি চাঁদাবাজিতে বিশ্বাসী না। যেহুত, এটা নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। চাঁদাবাজ-মাদক ব্যবসায়াী’-এদেরকে জীবন দিয়ে হলেও প্রতিরোধ করবো।

২১ ফেব্রুয়ারী (রোববার) সকালে রাজধানীর ফকিরাপুলে এক রেস্টুরেন্টে মোজাম্মেল হক বলেন, এক শ্রেনীর লোক (রাজনীতিক নেতা-কর্মী) আছেন তাঁরাই ওই অপপ্রচারগুলো চালাচ্ছেন। এসবের কারণ হিসেবে তিনি বলেন,  ক্লাব পাড়ায় দিলকুশা স্পোর্টিং নামে একটা (পুরাতন) ক্লাব আছে। ওই ক্লাবে কমিটিও ছিল। ক্লাবটির সভাপতি একে এম মমিনুল হক সাইদ বাইরে (বিদেশ) চলে যাওয়ার পরে ক্লাবটি অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। এমন অবস্থায় যে কেউ ক্লাবের দোকান থেকে ভাড়া, নিচ্ছে। যা-ইচ্ছে তাই করছে। এবিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছি। কারণ একটা নিয়ম এবং গঠনতন্ত্র আছে। গঠনতন্ত্রের বাইরে কেউ কোন কমিটি করতে পারবেনা। কেউ-কেউ কমিটি করে ক্লাবের দোকান গুলো থেকে ভাড়া আদায় করতেছিলো। পরবর্তীতে ওইগুলো বাতিল করেছি।

দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও রতন ইন্ডাস্ট্রিরিয়ালের মালিক সালাউদ্দিন রতনকে (শিল্পপতি) সৎ ছেলে দাবি করে ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, আমি তাকে দায়িত্ব অর্পন করেছি। সে ক্লাবের টাকা-পয়সা নিজের কাছে ঠিক ঠাক রাখছে। স্টাফদের বেতন ও বিদ্যু বিল দিচ্ছে। সবকিছু নিয়মিত চালাচ্ছে।
 
দিলকুশা ক্লাবের ফাস্ট ডিভিশন টিম উঠছে। কিছুদিন পর খেলাও শুরু হবে বলে- জানান মোজাম্মেল। তিনি বলেন, এসবের কারণেই এত অপপ্রচার চালাচ্ছেন তার বিরুদ্ধে। তিনি আরও বলেন,  এসবের কারণে পিছনে লেগেছে। তাদেরকে লটেপুটে খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। যার জন্য এসব কথা বলছেন।

‘এসডি ভিশন’ নামে কোম্পানীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মোজাম্মেল হক বলেন, সিটি করপোরেশন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ নিয়েছেন ‘এসডি ভিশন’ কোম্পানী । শুধু সাক্ষর করে দিয়েছি ওই কোম্পানীকে। এখানে কোন হাত নেই আমার।
 
৫-৬ জন ব্যক্তি ওই কোম্পানীর পার্টনারশীপে আছেন বলেও জানান তিনি। বলেন, সেখানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান পার্টনারশীপ। মতিঝিল থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মান্নান হাওলাদার চেয়ারম্যান। এরকম ৫-৬ জন পার্টনার। মতিঝিলের ছেলে নাম নুরু সে ওই কোম্পানীর পার্টনার। এখন ঝামেলা আসছে যে, আমিই চাঁদাবাজি করছি।

কখনোই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন ওই ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক। বরংচ, তিনিই এগুলোর বিরুদ্ধে উচ্ছেদের কথা বলেছেন এবং ‘জিরো টলারেন্স’ ভূমিকায় আছেন। এমন দাবি করে তিনি বলেন, এগুলো উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কথা বলছি ‘ উচ্ছেদ করলেই ভালো’। কারণ এগুলো নিয়ে হানাহানি, মারামারি এবং পক্ষ-বিপক্ষ অহেতুক একটা ঝামেলা থাকে। রাস্তাঘাটে মানুষ চলাফেরা করতে পারে না। ফুটপাতে গিয়ে আমি নিজেই অবাক হয়ে যায় এগুলো কি?

চাঁদাবাজির পক্ষে না, চাঁদাবাজি করতেও চায় না। এসবের সঙ্গে জড়িতের কোন ইচ্ছেও নেই-জানিয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমি নব্য আওয়ামী লীগার না। ঢাকাইয়া ছেলে। বাপ-দাদার জন্মস্থান ফকিরাপুলে। বাবাও দিলকুশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী (বর্তমান সেচ্ছাসেবক লীগ) প্রধান ছিলেন। বাবা যদি মনে করতেন ২-৪ টা বাড়ি করবেন তাহলে আরামবাগ, মতিঝিল-ফকিরাপুলে  তিনি সব চাইতে বেশি ধনি থাকতেন। তারই সন্তান আমি। ডিএসসিসির ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক ৯৬’ সালে আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন মতিঝিল থানার। তিনি তখনও চাঁদাবাজিতে নিজেকে জড়িয়ে নেন নি বলেও জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক/এনপি/বাংলাপত্রিকা


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন