প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী ফারককে গুলি; অভিযোগের তীর ইয়াবা ডন রাসেলের দিকে

বিশেষ প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১২:২৯:৩০ এএম
প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী ফারককে গুলি; অভিযোগের তীর ইয়াবা ডন রাসেলের দিকে
টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাবিব পাড়া রাস্তার মাথায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন রাসেল সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে প্রকাশ্যে মোঃ ফারুক নামের এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফারুকের সঙ্গে থাকা মহসীন আলী এ অভিযোগ করেন।

এই ঘটনায় এলাকার মানুষের মাঝে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

রবিবার বিকাল ৫.৩০টার দিকে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী সাবরাং সিকদার পাড়া নিবাসী মোহাম্মদ হোছনের ছেলে মোঃ ফারুককে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া স্টেশনের হাবিব পাড়া রাস্তার মাথায় একই এলাকার বাসিন্দা মৌঃ আবদুল গফুরের ছেলে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন সদ্য জেল ফেরত রাসেল একদল সন্ত্রাসী নিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও গুলি করে মারাত্মক জখম করে বলে খবর পাওয়া গেছে। ফারুকের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় জনসাধারণ এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা ফাকা গুলি করে পালিয়ে যায় বলে ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এগিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ফারুককে পড়ে থাকতে দেখে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জখমী ফারুকের অবস্থা আশঙ্কা জনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। ফারুকের অবস্থার অবনতি ঘটায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকও রাত আনুমানিক ১টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতাল সূত্রে এসব তথা জানা যায়।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি অপারেশন মোঃ খোরশেদ আলম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে এখনো কোন এজাহার বা অভিযোগ দায়ের করেননি বলে জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি অপারেশন মোঃ খোরশেদ আলম।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) বিকাল ৫টার দিকে মাছ ব্যবসায়ী ফারুক ও তার অপর সঙ্গী সাবরাং সিকদার পাড়ার মৃত নাজির হোছনের ছেলে মহসিন আলী সহ দুই জন ব্যাটারী চালিত রিকশায় করে টেকনাফে মাছ ক্রয় করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। ফারুকদের বহনকারী ব্যাটারী চালিত রিকশাটি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া স্টেশনস্থ হাবিব পাড়া রাস্তার মাথায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা একটি নোহা মাইক্রোবাস থেকে নেমে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন রাসেলের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ফারুককে বহনকারী ব্যাটারী চালিত রিকশাটির গতিরোধ করে এবং ফারুককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। ফারুককে মারতে দেখে পাশে থাকা মহসীন আলী আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে গিয়ে মৌলভী পাড়া স্টেশনে উপস্থিত মানুষদের ঘটনা সম্পর্কে জানান এবং ফারুকের আর্তচিৎকার শুনে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা ফারুককে ছেড়ে দিয়ে একাধিক ফাকা গুলি করে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ঘটনার প্রত্যেক্ষ দর্শীরা।

ফারুকের সঙ্গে থাকা মহসীন আলী জানান, মূলত ইয়াবা ডন রাসেলের উদ্দেশ্য ছিল ফারুককে সন্ত্রাসীদের বহনকারী নোহা মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে খুন করে লাশ গুম করা।

সন্ত্রাসীদের হামলায় ফারুকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরির আঘাত এবং পায়ে গুলি করে বাম পায়ের হাটুর নিচে মারাত্মক জখম করা হয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারী এই ইয়াবা চক্রটির প্রধান হোতা মৌঃ আবদুল গফুরের নেতৃত্বে ফারুকদের ক্রয় করা একটি জায়গা জবর দখল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। সেই সময় মৌঃ গফুরের ছেলে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন রাসেল ইয়াবা মামলার আসামী হিসাবে কক্সবাজার কারাগারে অন্তরীণ ছিল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেই এই ঘটনা সংঘটিত করেছে বলে জানা গেছে।

আমাদের প্রতিনিধি সরজমিন উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল এবং ইয়াবা ডন রাসেলের সাবরাং সিকদার পাড়া এলাকার জনসাধারণের কাছে ঘটনার পূর্ব সূত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে অনেকেই জানান, মৌঃ আবদুল গফুরের পরিবারটি একটি চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি ও অপরাধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা অন্যতম একটি অপরাধী পরিবার।

সূত্রে আরো জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার একসময়ের হত দরিদ্র পরিবারটি আজ ইয়াবার গুণে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। তারা টাকার জোরে এমন কোন অপরাধ নেই যে করেনা। এই পরিবার সাবরাং সিকদার পাড়া বাজারে শাক বিক্রি করে নিজেদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতো।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, এই পরিবারটি ইয়াবা পরিবার হিসাবে এলাকায় চিহ্নিত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত চিহ্নিত ইয়াবা কারবারিদের ১১৫১ জনের তালিকায় মৌঃ আবদুল গফুরের ছেলে রাসেলের নামও রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের হত্যা করার পর আত্মগোপনে চলে যায় ইয়াবার কারবারীরা। তবে আবারও টেকনাফ এলাকার তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিরা এলাকায় ফিরে এসেছে। মেজর সিনহা হত্যার আগে পুলিশি অভিযান থেকে বাঁচতে তালিকাভুক্ত চিহ্নিত ইয়াবা ডন রাসেল আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। সিনহা হত্যার পরে এলাকায় ফিরে আসে এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করে কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি লাভ করে আরো বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাসেলের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় না থাকায় স্বশরীরেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে আহত ফারুকের অবস্থা আশঙ্কা জনক বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। এই জঘন্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবরাং এলাকার মানুষদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যবসায়ী ফারুকের অবস্থা গুরুত্বর থাকায় তার বক্তব্যও নেয়া সম্ভব হয়নি।

মো. শহীদুল্লাহ/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন