চাকরি ছাড়ছেন সাংবাদিকরা

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ০১:০৭:০৮ পিএম
চাকরি ছাড়ছেন সাংবাদিকরা
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশসহ সামরিক জান্তার বিভিন্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে মিয়ানমারের সাংবাদিকরা চাকরি ছাড়ছেন। সেনা প্রশাসনের অন্যায্য হস্তক্ষেপ ও বিধিনিষেধ আরোপে ক্ষুব্ধ হয়ে মিয়ানমার টাইমসের একডজনের বেশি সাংবাদিক তাদের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশসহ সামরিক জান্তার বিভিন্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে মিয়ানমারের সাংবাদিকরা চাকরি ছাড়ছেন। সেনা প্রশাসনের অন্যায্য হস্তক্ষেপ ও বিধিনিষেধ আরোপে ক্ষুব্ধ হয়ে মিয়ানমার টাইমসের একডজনের বেশি সাংবাদিক তাদের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

তারা বলছেন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সেন্সরশিপ আরোপ শুরু করেছে। এদিকে জান্তার হস্তক্ষেপের কারণে মিয়ানমার প্রেস কাউন্সিলের ১১ সদস্যের সবাই পদত্যাগ করেছেন। ইরাবতি।

১৩ ফেব্রুয়ারি সামরিক জান্তা-চালিত তথ্য মন্ত্রণালয়কে কিছু বিধিনিষেধ আরোপিত দিকনির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, গণমাধ্যম যাতে ‘নৈতিকভাবে’ খবর প্রকাশ করে এবং ‘মানুষকে সহিংসতায় উসকে দেওয়ার বিষয় পরিহার করে’।

এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ‘সেনাবাহিনী কর্তৃক বৈধভাবে গঠিত’ স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল (এসএসি) তথা সামরিক প্রশাসনকে ‘ভুলভাবে’ পত্রিকা, সাপ্তাহিক ও অনলাইন গণমাধ্যমগুলো ‘রিজাইম’ বলে উল্লেখ করছে।

ফলে ‘সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, জরুরি অবস্থার বিধানের আওতায় গঠিত এসএসিকে যাতে ‘রিজাইম বা জান্তা’ বলে উল্লেখ করা না হয়।

একই সঙ্গে ‘প্রতিবেদন করার সময় জনগণকে উসকে দেওয়ার মতো কিছু লেখা যাবে না এবং গণমাধ্যমের নৈতিকতা অনুসরণ করতে হবে।’ জান্তার এসব নির্দেশনা দ্রুত অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।

মিয়ানমার টাইমসের শীর্ষ স্থানীয় নিউজরুম এডিটরসহ একডজনের বেশি সাংবাদিক তাদের চাকরি ছেড়েছেন। কারণ, তাদের মনে হচ্ছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর সেন্সরশিপ চাপিয়ে দিচ্ছেন। সাংবাদিকরা চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ জান্তার আয়োজিত একটি প্রেস কনফারেন্সে একজন সাংবাদিককে উপস্থিত হতে বাধ্য করার পর।

পত্রিকাটির সব সাংবাদিক প্রেস কনফারেন্স বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তাকে উপস্থিত হতে বাধ্য করা হয়। মিয়ানমারের বেশিরভাগ গণমাধ্যমই জান্তা প্রশাসনের প্রেস কনফারেন্স বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মিয়ানমার টাইমস হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে পুরনো ও শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর একটি। এটিও ইংলিশ এবং বার্মিজ ভার্সনে প্রকাশিত হয়। এর বিভিন্ন পর্যায়ের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা জানান, তাদের দৈনন্দিন কাজ ও রিপোর্টিংয়ের ওপর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ বাড়ছে।

তথ্য মন্ত্রণালয় ও সামরিক প্রশাসনের নির্দেশিত বিশেষ শব্দ ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যেমন-অভ্যুত্থানের পরিবর্তে ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যবহার করতে বলা হয়। অভ্যুত্থান নেতা না লিখে ‘লিডার অব দ্য মিলিটারি’ লিখতে বলা হয়।

১০ বছর মিয়ানমার টাইমসে কাজ করা একজন সাংবাদিক বলেন, ‘এ অবস্থায় জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি ভালো করে জানানো দরকার। কিন্তু আমরা যদি শক্তিশালী শব্দের পরিবর্তে দুর্বল শব্দ ব্যবহার করি তবে আমাদের রিপোর্টিং অর্থহীন হয়ে যায়।

এমন শর্তাধীন পরিস্থিতিতে কাজ করে যেতে সাংবাদিক হিসাবে আমাদের লজ্জা হয়। প্রাইভেট মিডিয়া হিসাবে আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই।’ পত্রিকাটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা অবশ্য ইউ ওয়াই লিন অবশ্য সেন্সরশিপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়ার বিষয় স্বীকার করেন তিনি।

প্রেস কাউন্সিলের জয়েন্ট সেক্রেটারি ইউ মিয়ান্ত কিয়াও বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে কাউন্সিল সাংবাদিকদের রক্ষায় তাদের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক সাংবাদিক আটক, গ্রেফতার ও হামলার মুখে পড়েছেন। কিন্তু তাদের রক্ষায় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

কিয়াও বলেন, ‘আমরা কাউন্সিল সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া সহজ হচ্ছে না। এটি আমাদের এবং গণমাধ্যমের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। ফলে আমরা কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করেছি।’

এসআর/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন