প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন

সিদরাতুল মুনতাহা | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১০:২৮:২১ এএম
প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন
বিদায় নিচ্ছে শীত, আর ফাল্গুনের হাত ধরে আগমন ঘটছে বসন্তের। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৫৮৫ সালে মোঘল সম্রাট আকবর ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেছিলেন। এর মধ্যে 'বসন্ত উৎসব' অন্যতম। অর্থাৎ ১৪০১ বঙ্গাব্দে বসন্ত উৎসব উদযাপনের রীতি চালু হয়। তারপর থেকেই বাঙালি প্রতিবছর বিভিন্ন উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে বরণ করে নেয় ঋতুরাজ বসন্তকে।

বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হয়, কেননা বসন্ত প্রকৃতিকে এক নতুন সাজে সাজিয়ে তোলে। গাছে গাছে আসে নতুন পাতা, শোনা যায় কোকিলের কুহুকুহু গান, চারিদিকে থাকে শিমুল-পলাশের মতো বিভিন্ন ফুলের সমাহার, দখিনা দুয়ার খুলে বইতে থাকে ফাল্গুনী হাওয়া। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে এই বসন্তের আগমনের মাধ্যমেই নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে প্রকৃতিতে, রঙিন হয়ে উঠে সবকিছু। সেই সাথে রঙিন হয়ে উঠে মানুষের হৃদয়, তরুণ সমাজ মেতে উঠে উৎসবে। এছাড়াও প্রতিবার বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় বসন্তকে।

এই বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাঙালির চিরকালের। কারণ সবসময়ই এই বসন্তের আগমন নিয়ে আসে বাঙালির মিলনের বার্তা। রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বসন্তের রুপ-লাবণ্য-রসে সেজে উঠে সমগ্র বাঙালি, নিজেদের রাঙিয়ে তোলে বাসন্তী রঙে। শুরু হয় বিভিন্ন আনন্দ উৎসব। আবার এই বসন্ত একদিক দিয়ে যেমন আনন্দের, অন্যদিক দিয়ে তেমন বেদনারও। এই বসন্ত নিয়ে আসে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির আগমনী বার্তা। বাঙালি জাতিকে মনে করিয়ে দেয় ভাষা শহীদদের রক্তের ইতিহাস। মনে করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেননা এই সময় থেকেই শুরু হয়েছিল দেশ স্বাধীন করার প্রাণপণ লড়াই।

এই বসন্তকে ঘিরে রয়েছে তারূণ্যের বিভিন্ন রকম চিন্তা-ভাবনা, কবিদের বিভিন্ন কবিতা, আরও রয়েছে বিভিন্ন গান। এই বসন্তকে নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন- "ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দানঃ তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দানঃ আমার আপন হারা প্রাণ; আমার বাধঁন ছেড়া প্রাণ।" এই সবকিছু মিলে বসন্ত আছে বাঙালির মনের অনেকখানি জায়গা জুড়ে। প্রতিবছরের মতো এবার ও অপেক্ষার প্রহর শেষে আগমন ঘটেছে বসন্তের।

এবারও বাঙালি তার চিরায়িত ভালোবাসা দিয়ে বরণ করে নেবে বসন্তকে। আবারও তরুন সমাজ থেকে প্রবীণ সমাজ পর্যন্ত সকলেই যেন প্রকৃতির রঙের সাথে নিজেদেরকেও রাঙিয়ে তোলে এবং মেতে উঠে 'বসন্ত বরণ' উৎসবে সেই আশায় ব্যক্ত করি।

সিদরাতুল মুনতাহা
শিক্ষার্থী
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন