‘জান্নাতুল ফেরদৌস’ দৃঢ়চেতা মানুষটি পুরস্কার প্রাপ্তিতেও বিনয়ী

ফজলে এলাহি ঢালী | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ০৫:০৩:২২ পিএম
‘জান্নাতুল ফেরদৌস’ দৃঢ়চেতা মানুষটি পুরস্কার প্রাপ্তিতেও বিনয়ী
ময়মনসিহের তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। যিনি তারাকান্দায় পথ চলেন দায়িত্বজ্ঞানে, সমস্যা নির্ধারনে অনন্য। ইতিমধ্যেই যিনি তারাকান্দার পথে চলতে চলতে তারাকান্দাবাসীর কাছে আপনজনে পরিণত হয়েছেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারী দৃঢ়চেতা মানুষটি পেয়েছেন স্থানীয় সরকার-২০২০ পুরস্কার। ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসানের উপস্থিতিতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। পুরস্কার প্রাপ্তির পর আরও বিনয়ী তিনি। তিনি বললেন, ‘এই পুরস্কার আমার নয়, এই পুরস্কার আপনাদের তথা তারাকান্দাবাসীর।’

কর্মগুনেই যিনি আলো ছড়িয়েছেন। মানবিকতা যার হৃদয় জুড়ে। তাঁর চিন্তার প্রান্তর অতল গহীনসম। কর্তব্য কাজে সাহস, বুদ্ধিমত্তা আর নেতৃত্বগুনেও যিনি অনন্য। তারাকান্দার প্রতিটি আলপথে যার সৃজনশীলতা আর নান্দনিকতার উজ্জল ও প্রজ্ঞাময় চৈতন্যের প্রজ্বলনে উদ্ভাসিত করেছেন নিজেকে। সাবলীল তার বাচনভঙ্গী, অমলীন হাসিতে যিনি ছাপিয়ে গেছেন নিজেকে। যিনি পথ দেখান নিজের অধিনস্তদের। সময় পেরিয়ে যাবে তারপরও যিনি উজ্জল্য ছড়াবেন তারাকান্দায়। পেশাদারিত্বের পাশাপাশি মানবিকতার বিস্তৃত আভায় যিনি একেছেন অনন্য এক ক্যানভাস। কি রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, কি কাজের চাপ বারবার তিনি ছাপিয়ে গেছেন নিজেকে।

২০২০ সালের মে মাসের ২৬ তারিখ, তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জলাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করছেন এই চৌকস কর্মকর্তা। তারই স্বীকৃতিস্বরুপ পেলেন এই পুরস্কার। যোগদানের পরপরই তিনি তারাকান্দার শান্তিনগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য উদ্যোগী হন। জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের অপরিনামদর্শিতাই আমাদেরকে জলাবদ্ধতার স্বীকার বানাচ্ছে। আমরা নিজেরাই পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতিপথকে বন্ধ করেছি। আগে আমাদেরকে পানির স্বাভাবিক গতিপথকে উন্মুক্ত করতে হবে তাহলেই জলাবদ্ধতা কমবে তারাকান্দার।

তারাকান্দার প্রাণকেন্দ্রের একটি এলাকা শান্তিনগর। বর্ষা এলেই জলমগ্ন থাকতো পুরো এলাকা। তখনও সপ্তাহ পেরোয়নি, ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগী হলেন। এডিপি থেকে বরাদ্দ নিয়ে ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করলেন।

ফেনেরা বিলের সাথে কমিউনিটি বেসিসে ৩ কি.মি খাল খননের মাধ্যমে ১০০০ একর জমির জলাবদ্ধতা নিরসন করলেন। তিন গ্রামের কৃষিতে নিয়ে এলেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন। একসময় যে জমি জলাবদ্ধ থাকতো এখন তা কৃষির উপযোগী। বানিহালা ইউনিয়নে খনন করা হলো খাল। কাকনী ইউনিয়নে খাল খননের মাধ্যমে শতশত একর জমি রক্ষা করলেন। বালিখা ইউনিয়নে আরও ২টি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। কামারিয়া ইউনিয়নের সোয়াই নদীতে অবৈধ বাঁধ অপসারনের মাধ্যমে ৮ কি.মি. এলাকা উদ্ধার করেছেন।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সোয়াই নদী এলাকায় পৌছে দেখতে পাই কোথায় নদী, আবার কোথাও নালাও নয়। যেভাবে পেরেছে বাঁধ দিয়ে নদীকে শাসন করেছে। সোয়াই নদীর বাঁধ অপসারনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা  মুক্ত হয়েছেন ৭ টি গ্রামের মানুষ’।

দেশের সার্বিক মৎস্য খাতে অন্যতম ভূমিকা আছে তারাকান্দা উপজেলার। প্রতিনিয়তই মৎস্য সম্পদে ও উৎপাদনে যা অন্য সব উপজেলাকে ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু সড়কের সাথে পাড়বিহীন ফিসারী যা উপজেলাময় একটি বড় ধরনের সমস্যা। সরকারী অনেক রাস্তাই ঝুঁকিতে আছে এসব পাড়বিহীন ফিসারীর কারণে। তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস এসব পাড়বিহীন ফিসারীকে সরিয়ে নিতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এর পর চালিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান।

জলাবদ্ধতা বিষয়ে বিনয়ী এই উপজেলা নির্বাহী জানিয়েছেন, ‘সমস্যাগুলো মানুষই সৃষ্টি করেছে, এখন তারাই ভোগান্তিতে পড়েছে। যেভাবে জলাবদ্ধতা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন প্রশাসনের সহিত কাজ করছে তাতে মনে হয় তারাকান্দার জলাবদ্ধতার অচিরেই একটি স্থায়ী সমাধান হবে’।

তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন