তাপস-খোকনের দুর্নীতি প্রমাণ পেলে যে আইনে ব্যবস্থা!

নিজস্ব প্রতিবেদক | জাতীয়
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১ | ০২:৩০:৪৪ পিএম
তাপস-খোকনের দুর্নীতি প্রমাণ পেলে যে আইনে ব্যবস্থা!
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের দুর্নীতির প্রমাণ পেলে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে তিনি এ কথা জানান।

সম্প্রতি ডিএসসিসির সাবেক ও বর্তমান মেয়রের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা।

জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন ও বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দুজন ভিন্ন মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই দুজনের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকতে পারে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে, তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আমরা আশা করি একটা সময়ের ব্যবধানে এটা সমাধান হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাঈদ খোকন ও শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হতে পারে। তবে কোথাও যদি দুর্নীতি হয় এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায় তা হলে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন তারা।’

গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীর কদম ফোয়ারার সামনে এক মানববন্ধনে সাবেক ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান মেয়র দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন। এই টাকা বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তিনি লাভ করেছেন এবং করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মেয়র তাপস সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯, ২য় ভাগের ২য় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ৯ (২) (জ) অনুযায়ী মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘তাপস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন। আমি তাকে বলব, রাঘব বোয়ালের মুখে চুনোপুঁটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দু্নীতিমূক্ত করুণ। তারপর চুনোপুটির দিকে দৃষ্টি দিন।’

এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জানুয়ারি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, ‘তিনি (সাঈদ খোকন) ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে অনেক কথা বলেছেন। এতে আমার মানহানি হয়েছে। আমি আইনি পদক্ষেপ (মামলা) নেব।’

ওইদিনই দুই আইনজীবী আদালতে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলার আবেদন করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত। এর মধ্যে ওই দুটি মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস।

এদিকে, সাঈদ খোকনের বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার দুপুর আড়াইটায় ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগ।

এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন