বড়পুকুরিয়া কয়লা দুর্নীতিতে সাবেক ৬ এমডিসহ ২২ কর্মকর্তা কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক | আইন-আদালত
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২১ | ০৭:১১:৫৮ পিএম
বড়পুকুরিয়া কয়লা দুর্নীতিতে সাবেক ৬ এমডিসহ ২২ কর্মকর্তা কারাগারে
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির প্রায় ২৪৪ কোটি টাকার কয়লা আত্মসাতের মামলায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ছয় এমডিসহ ২২ কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) জেলা স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল করিম চার্জ গঠন এবং পুনরায় জামিন শুনানির সময় আগের দেওয়া জামিন বাতিল করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ওই ২২ কর্মকর্তাকে জেল-হাজতে নেওয়া হয়।

বিশেজ জজ আদালতের পিপি দুদকের আইনজীবী আমিনুর রহমান জানান, কয়লা লোপাটের ঘটনায় দুদকের করা মামলার ২০১৯ সালের ২২ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক সামসুল আলমের পক্ষে আদালতে ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুদকের দিনাজপুরের সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান।

আমিনুর রহমান জানান, ওই মামলায় জামিনে ছিলেন তারা। এরই মধ্যে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুব আলমের মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ ফ্রেব্রুয়ারি চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

জানা গেছে, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত (মেয়াদে) পরস্পরের যোগসাজোশে এক লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯৯ টন কয়লা আত্মসাতে জড়িত ছিলেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক সাত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৩ কর্মকর্তা।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ছয় ব্যবস্থপনা পরিচালক আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব এবং প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ।

এ ছাড়া সাবেক জিএম (প্রশাসন) শরিফুল আলম, আবুল কাসেম প্রধানীয়া, আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী (মাইন অপারেশন বিভাগ), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান হাওলাদার, আরিফুর রহমান (ম্যানেজার, মেইন্টেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার সৈয়দ ইমাম হাসান আত্মসাতে জড়িত ছিলেন।

এ ছাড়া কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, মেইন্টেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের ডিজিএম মোর্শেদুজ্জামান, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম হাবিবুর রহমান, মাইন ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডিজিএম জাহেদুর রহমান, ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক ডিজিএম সত্যেন্দ্র নাথ বর্মণ ও মো. মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার শোয়েবুর রহমান, স্টোর ডিপার্টমেন্টের ডিজিএম একেএম খালেদুল ইসলাম, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার অশোক কুমার হালদার এবং মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ডিজিএম জোবায়ের আলীও আত্মসাতে জড়িত ছিলেন।

এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন