‘তাপস-খোকন দুজনই লুটেরা, দুর্নীতিবাজ’

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজনীতি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী ২০২১ | ০৫:৫৬:৩৬ পিএম
‘তাপস-খোকন দুজনই লুটেরা, দুর্নীতিবাজ’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন দুজনই লুটেরা, দুজনই দুর্নীতিবাজ।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ডিএসসিসি’র মেয়রপদ দখল করেছিলেন সাঈদ খোকন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিশিরাতের এমপি পদ ছেড়ে কোনো মধুর লোভে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলে নূর তাপস মেয়র পদ দখল করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘সেই মধুভাণ্ডের কাহিনী আরব্য রজনীর গল্পের মতো মনে হলেও সেটিই এখন বাস্তবে ঘটেছে। সাঈদ খোকন বলছেন- মেয়র তাপস শত শত কোটি টাকা লুট করছেন। অপরদিকে মেয়র তাপস বলছেন- শত শত কোটি টাকা লুট করেছেন সাঈদ খোকন।’

‘দুজনই রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে একে অপরের দুর্নীতি, লুটপাটের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। তবে এটি স্পষ্ট যে, তারা দুজনই লুটেরা, দুজনই দুর্নীতিবাজ’ যোগ করেন বিএনপি মুখপাত্র।

তিনি বলেন, ‘এখন দুদক কী করবে? তামাশা দেখবে, না পদক্ষেপ নেবে? দুদক পদক্ষেপ নিতে পারবে না। কারণ দুজনই ক্ষমতাশালী ও শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজন।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার দুদক এদের (তাপস-খোকন) বিরুদ্ধে এক পা-ও অগ্রসর হতে পারবে না। কারণ বিএনপি নিধনের জন্যই দুদককে সাজিয়েছেন শেখ হাসিনা।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে, জনগণের বিরুদ্ধে ইউনিফর্ম পরা সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে আর বেশিদিন মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখা যাবে না। কথায় বলে- ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের আপন ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা যেসব অভিযোগ উত্থাপন করছেন, এসব কথার উদ্দেশ্য যাই হোক, তার বক্তব্যে অনেক সত্য বেরিয়ে আসছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে খোদ ওবায়দুল কাদের সাহেব জিতবেন কিনা, তার আপন ছোট ভাই-ই এ প্রশ্ন তুলেছেন।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এই তিনজন (তাপস-খোকন-কাদের মির্জা) নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আবারও প্রমাণিত হয়েছে- আওয়ামী লীগের টপ টু বটম আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। লুটপাটে কে কাকে টক্কর দিতে পেরেছে এ নিয়েই তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছে।’

ওয়াল-ইলেভেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গতকাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভিশপ্ত কালো দিবসের চৌদ্দ বছরপূর্তি। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অসাংবিধানিক তথাকথিত এক সরকার ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, নাগরিক মর্যাদা লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল।’

‘দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তিকে নির্মূল করার জন্য দীর্ঘ দিনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীন গং এর তথাকথিত অবৈধ সরকার। দু’বছর ধরে দেশকে ছিন্নভিন্ন করে এই গণতন্ত্রবিনাশী গোষ্ঠী মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে একটি পাতানো ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে তাদেরই বশংবদ আরেক গণতন্ত্র হত্যাকারী ও লুটেরা গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে গেছে’ যোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘তথাকথিত ওয়ান-ইলেভেনের পর পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ, জনগণ হারিয়েছে গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। মনে হয় আইনের শাসন নয়, দেশ চলছে এক প্রভুর এক আইনে।’

এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন