স্থানীয় সংসদের নাম থাকায় মামলা নেয়নি পুলিশ, নিহতের স্বজনেরা হতাশ

মোবারক হোসাইন | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ জানুয়ারী ২০২১ | ১২:৫৩:২৯ পিএম
স্থানীয় সংসদের নাম থাকায় মামলা নেয়নি পুলিশ, নিহতের স্বজনেরা হতাশ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় শ্যামাচরণ বর্মণ (৬৫) নামের এক মৎস্যজীবীকে গলা কেটে হত্যা, জলমহালে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনার অভিযোগে স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তাঁর ছোট ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন সহ ৬৩ জনকে আসামি করে গত শনিবার সন্ধ্যায় ধর্মপাশা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়।

এই অভিযোগটি করেন নিহতের ছেলে ও সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি  চন্দন বর্মণ (৩০)। কিন্তু অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করেনি পুলিশ বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সুনই জলমহালে ইজারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
 
আরও পড়ুন:ধর্মপাশার সুনই জলমহাল হত্যা কাণ্ড: এমপি-চেয়ারম্যানসহ ৬৩ জনকে আসামি করে অভিযাগ

আরও পড়ুন:ধর্মপাশায় জলমহাল নিয়ে বিরোধে গলা কেটে হত্যা: যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ! 
           
উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের মনাই নদী প্রকাশিত সুনই জলমহালটি জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাধীন। ১৪২২বঙ্গাব্দ থেকে ১৪২৭বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য এটি ইজারা পায় সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণ যথারীতি জলমহালটির খাজনা পরিশোধ করেন। একই সমিতির সভাপতি দাবি করে উপজেলা চেয়ারমানের অনুসারী সুবল বর্মন (৩০) তিনমাস আগে জলমহালটির পাড়ে দুটি ঘর নির্মাণ করেন। তবে জলমহালটি নিয়ে একই সমিতির দুটি পক্ষের উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় আদালতের আদেশে এটি স্থিতিবস্থা রয়েছে।
           
এ বিষয়ে মামলার বাদী সুনই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি চন্দন বর্মণের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সমিতির সহ-সভাপতি নিহত শ্যামাচরণ বর্মণের ছোট ভাই মনীন্দ্র চন্দ্র বর্মণ (৫৫) বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আমাদের সুনই জলমহালের খলায় ঢুকে আমার ভাইকে গলা কেটে  হত্যা করা, খলা ঘরে অগ্নিসংযোগ, হামলা করে আমাদের মারধর করা সহ যা ঘটনা ঘটেছে তার সবকিছুতেই সাংসদ (এমপি) ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশ রয়েছে। ওসি সাহেব আমাদের বলেছিলেন, এমপির নাম বাদ দেন মামলা নেব, নয়তো নেব না। আমাদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত না করায় ওই রাতেই অভিযোগটি আমরা ফেরত নিয়ে এসেছি। এ ঘটনায় আমরা আদালতে মামলা করবো।
 
উপজেলা চেয়ারম্যান রোকনের মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাংসদ রতন এ ঘটনায় জড়িত নেই বলে সাংবাদিকদেরকে জানিয়ে বলেন, প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে একটি পক্ষ এ ধরণের প্রচারণা চালাচ্ছে। সুনই জলসহাল নিয়ে একই সমিতির দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে। আমি ঘটনার দিন ধর্মপাশায় ছিলাম না। এতে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।

ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগটিতে বেশ কিছু ত্রুটি থাকায় এটি সংশোধন করে পরে তা নিয়ে এসে থানায় জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোববার রাতে নিহত পরিবারের কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় রাতে থানার এসআই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৬০-৬৫জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা হয়েছে।
           
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ওই জলমহালটিতে এক জেলেকে হত্যার ঘটনায় থানার ওসির কাছে দেওয়া লিখিতভাবে অভিযোগটি বাদী পক্ষের লোকজন সংশোধন করার জন্য নিয়ে গেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি। অভিযোগটি পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুকনা কেন তাঁদেরকে খোঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন