মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন প্রেমবাগের ফরিদুল

মোঃ মিজানুর রহমান, অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি | সাক্ষাৎকার
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২০ | ০১:৪৬:১৪ পিএম
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন প্রেমবাগের ফরিদুল
যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ১ নং প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের প্রেমবাগের এম ফরিদুল ইসলাম ক্ষুধা, দারিদ্র ও মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন, এলাকায় তিনি ফরিদ ভাই নামেই পরিচিত। ইউনিয়নের শিশু, বৃদ্ধ, কিশোর ও যুব সমাজের কাছেই তিনি শ্রদ্ধার প্রাত্র। ইউনিয়নের বিভিন্ন সংষ্কার মূলক কর্মকান্ডে তিনি অতপ্রোতভাবে জড়িত। সমাজ সংষ্কারে তিনি অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাতে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় স্বশীরে যেয়ে বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল, জার্সি সহ খেলার সামগ্রী দিয়ে খেলার জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকেন। অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নে প্রেমবাগ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। তার পিতা মরহুম সৈয়দ আব্দুল ওয়াদূদ ও মাতা মরহুম জয়নব বেগম। ৭ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম।

বর্তমানে তিনি অভয়নগর উপজেলার ১নং প্রেমবাগ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বরত আছেন। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব হুসাইনম মোহাম্মদ এরশাদ সাহেবের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অনুপ্রেরনায় তাকে রাজনীতি করার উৎসাহ যুগিয়েছে এবং তারই লক্ষ্যে সামাজিক সংষ্কার ও উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। বিশেষকরে যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহাতা থেকে বাঁচাতে তিনি প্রেমবাগে প্রতিষ্ঠিত করেছেন “প্রেমবাগ সোনালী স্বপ্ন ক্লাব” যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি নিজেই। ক্লাবের মূল স্লোগান “খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে খেলায় চল”।

এলাকার হতদরিদ্র মানুষকে তিনি বিভিন্নভাবে সহায়তা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, যৌতুক নিরোধ, নির্যাতিত নারীদের আইনী সহায়তা প্রদান সহ বিভিন্ন সহায়তা করে থাকেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগৌষ্ঠিকে কর্মস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মূলক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বাল্য বিবাহ ও যৌতুকের কূফল সম্পর্কে তিনি সাধারণ মানুষকে বুঝান। বর্তমানে তিনি নিটল হোয়াইট সিমেন্ট লিঃ এর রংপুর বিভাগের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান হিসাবে কর্মরত আছেন। যখনই সময় পান তিনি ছুটে আসেন তার নিজ ইউনিয়ন প্রেমবাগে, যতটুকু সময় এলাকায় থাকেন তত সময় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি সমাজ উন্নয়ন ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকেন।

এম. ফরিদুল ইসলমের সাথে একান্ত স্বাক্ষাৎকারে প্রেমবাগ ইউনিয়ন সহ তার রাজনৈতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অত্র ইউনিয়নের জাতীয় পার্টি থেকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।

চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পেলে তিনি সমাজের কি কি উন্নয়ন করবেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রেমবাগ ইউনিয়ন বাসী যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসাবে গুরুদায়িত্ব দেয় তাহলে আমার সর্বপ্রথম দায়িত্ব থাকবে অত্র ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত করব, মাদক একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংশ করতে যথেষ্ট। তাছাড়া সমাজে বাল্য বিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন, ভূমিহীনদের আবাসন ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের সংষ্কার সহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কাজ সহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা দ্বার্থহীনভাবে বলেন।

এছাড়া সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগৌষ্টিকে সর্বাত্বক সহযোগিতার মাধ্যমে অত্র ইউনিয়নকে পৌরসভার আদলে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসাবে রুপান্তরের কথা ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রেমবাগে ইউনিয়নে দীর্ঘদিন যাবত যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ইউনিয়নটি সর্বদিক থেকে পিছিয়ে। সঠিক নেতৃত্বের জন্য একটি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি বিশ্বও বদলে যেতে পারে। পৃথিবীর ইতিহাস আসলে নেতৃত্বের ইতিহাস। একজন যোগ্য নেতা ও তাঁর নেতৃতের হাত ধরে একটি নতুন সভ্যতার জন্ম হতে পারে, শুরু হতে পারে নতুন যুগের। একজন মানুষের মাঝে যদি সঠিক নেতৃত্বের গুনাবলী থাকে তবে একদল অযোগ্য লোককেও তিনি অনেক বড় অর্জনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। মানুষ একা কিছু করতে পারে না। একজন মানুষের স্বপ্ন যত বড় তার কর্মপরিধিও তত বড় হতে হয়। সত্যিকার নেতা তাঁর নিজের স্বপ্ন ছড়িয়ে দিতে পারেন বহু মানুষের মাঝে। আর তার বাস্তব প্রমান প্রয়াত নেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসাইন মোহাম্মদ এরাশাদ সাহেব, তারই নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজ সংষ্কারের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি।

সার্বিক জনমত জরিপে জানা গেছে, প্রেমবাগ ইউনিয়নে যে কয়জন রাজনীতিবীদ আছে তার মধ্যে ফরিদুল ইসলাম অন্যতম। তার মত সমাজ সংষ্করামনা মানুষ এই বর্তমান সমাজে খুবই প্রয়োজন।

এসআর/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন