‘১৯৪৭ থেকে ১৯৭১’ সংগ্রামে একটি কবিতা, যাতে নিহিত ছিল মুক্তি

ফজলে এলাহি ঢালী | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ০৭:০২:৪৩ পিএম
‘১৯৪৭ থেকে ১৯৭১’ সংগ্রামে একটি কবিতা, যাতে নিহিত ছিল মুক্তি
ওহে তুমি আসল কথা বল।যে কথা আমি শুনতে চাই। যাতে আমি মুক্তি পাবো,সেখানে থাকবেনাকো পরাধীনতার শৃঙ্খল, মুক্ত বিহঙ্গের মত উড়ে বেড়াবো অকাশে। কিন্তু বলেনি কেউ, তাদের কন্ঠে বাজেনি সেই বাশির সুর যাতে আছে বাঙ্গালীর স্বাধীনতা আর মুক্তির গান। তবে যে দিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে শুনলাম অমিত প্রতিভাধর সেই কবির কন্ঠে মুক্তির কবিতা যাতে কবি আবৃত্তি করে শুনিয়ে ছিলেন সেই কথা যা এতদিন বলেনি কেউ। ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’’  সহজ ছিলনা কিছুই। কবির হেটে আসা পথে আমরা চলতে শুরু করেছিলাম ভাগীরথির তীরের পলাশীর প্রান্তর থেকে ঢাকার রেসকোর্স পযর্ন্ত।

১৭৫৭ সাল বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলার স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে মুখোমুখি যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন ইংরেজদের। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের ষরযন্ত্রে নবাব পরাজিত হলেন। অস্তমিত গেলো বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো বাংলা। বেনিয়া শাসকদের হাতে শাসিত হলো প্রায় ২ শত বছর। তারপর এল বঙ্গবঙ্গ। এবার ঘোষিত হলো ঢাকা হবে বাংলার রাজধানী।তবে কলকাতা কেন্দ্রীক রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবিদের চরম বিরোধতিার মুখে ১৯১১ সালে রহিত হলো বঙ্গবঙ্গ। এবারও কেউ বলেনি। কারো কন্ঠেই শোনা হলোনা মুক্তির কবিতা।

১৯৪৭ সাল বেনিয়াদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় উপমহাদেশ মেনে নিল পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের দ্বিজাতি তত্ব। হিন্দু প্রধান অঞ্চল হলো ভারত আর মুসলিম প্রধান অঞ্চল নিয়ে হলো পাকিস্তান। আবারো বন্দিত্ব মেনে নিলো বাংলা। এবারও কেউ বলেনি।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষনা করলো “উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”। ফুসে উঠলো বাংলার জনতা। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ জনতার উপড় পাকিস্তানী শাসকরা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী চালালো গুলি।তাজা রক্তের উপড় দাড়িয়ে বাঙ্গালী রচনা করলো মুক্তির সনদের। কবির মননে রচিত হতে থাকলো মুক্তির কবিতা।

কবি দৃঢ়চিত্তে হাটতে শুরু করলেন। মননে তার মুক্তির গান।এরপর ১৯৬৬ কবির ৬ দফা,।বন্দি হলেন কবি।১১ দফার দাবিতে সোচ্চার হলো ছাত্র জনতা। মুক্তি পেলেন কবি। পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠি ভয়ানক ভয়ে ভীত হয়ে উঠলো। ১৯৬৯ –এ হলো অভ্যুথান। ১৯৭০ সালে কবির নেতৃত্বে বাংলার মানুষ নির্বাচনে অংশ নিল। কবির নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ৩১৩ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসনে বিজয়ী হলো। ক্ষমতা হস্তান্তরের নামে প্রহসন চালালো ইয়াহিয়ার সরকার। কবি প্রস্তুত।

৭ ই মার্চ ১৯৭১ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কবি পাঠ করে শোনালেন মুক্তির কবিতা “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা, আমি এদেশের মানুষের অধিকার চাই।কি পেলাম অমরা, আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য। আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব দুঃখী নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে তার বুকের উপড় হচ্ছে গুলি। আর যদি একটা গুরি চলে, আর যদি আমার লোককে এভাবে হত্যা করা হয়। তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল-প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্ঘ গড়ে তুলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুকে মোকাবেলা করতে হবে। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দিবো তবু এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছারবো ইনশাল্লাহ। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। কবির কবিতার ভয়ে ভীত পাকিস্তানীরা ২৫ মার্চ রাতে হামলা চালালো নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপড়। শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাস যুদ্ধের পর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ৯২ হাজার পাকিসৈনিক নিয়ে আত্নসমর্পন করলো পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উচু করে দাড়ালো ১লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের বাংলাদেশ।আমরা বিজয় উল্লাসে মেতে উঠেছি। মহান বিজয় দিবস অমর হোক।

মুক্তির এই কবিতার অমর কবি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লেখকঃসাংবাদিক।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন