বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে শেখ হাসিনার প্রতি খোলা চিঠি

বাংলা কলেজ প্রতিনিধি | শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ০১:১০:৫৮ পিএম
বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে শেখ হাসিনার প্রতি খোলা চিঠি
প্রিয় মমতাময়ী নেত্রী,

আপনি অবগত আছেন ১৯৫২ সালে রাজপথে রফিক, শফিক, জব্বারসহ নাম না জানা আরো অনেক শহীদের রক্তের বিনিময়ে আজকের বাংলা ভাষা। পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙ্গালিই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। এটির দ্বিতীয় আর গোটা বিশ্বে ঘটেনি। এর স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যার ফলে প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি গোটা বিশ্বের মানুষ আমাদের দেশের রফিক, শফিক, জব্বারদের স্মরণে শহীদ মিনারে ফুল দেয়। মাতৃভাষার প্রতি সম্মান দেখায়। এই ইতিহাস একজন বাঙ্গালি হিসেবে আমাদের কে যেমন সম্মানিত করেছে ঠিক তেমনি আমাদের জন্য লজ্জার বিষয় এই যে আমরা এখনো আমাদের মাতৃভাষা (বাংলা) চর্চা বৃদ্ধির নিমিত্তে  কোনো বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পারি নি।

বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে ভাষা সৈনিক অধ্যাপক আবুল কাসেম বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার  প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম নিজের জমি দান করেন এই কলেজটি প্রতিষ্ঠার জন্য। এবং তিনি আমৃত্যু কলেজটিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন বিনা বেতনে। তৎকালীন সময়ে অধিকাংশ শিক্ষকরাই বাংলা ভাষা কে ভালোবেসে বিনা বেতনে অধ্যাপনা করেন।
কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমিতে একটি সভা আহ্বান করা হয়। সেখানে বাংলা ভাষার চর্চাকে প্রসারিত করার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১ অক্টোবর ১৯৬২ সালে বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ধাপ হিসেবে বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন বাঙলা কলেজের বাঙলা বানানে ঙ`হবে নাকি ং হবে এটা নিয়ে মত বিরোধ দেখা দিলে ভাষাবিদ ড.মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, `ঙ একটি স্বাধীন বর্ণ, আমার বাঙলা কলেজ ও স্বাধীনভাবে চলবে। তাই বাঙলা বানানে `ং `নয় `ঙ `ই হবে।
প্রথমে বক্সি বাজারে নবকুমার ইনস্টিটিউট এ এটির প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে এটি ঢাকার মিরপুরে স্থানান্তরিত হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পুরো নয় মাস জুড়ে এই কলেজটিতে চলে পাকিস্তানি বাহিনীর তান্ডব। এই কলেজের প্রশাসনিক ভবনের নিচের একাধিক কক্ষকে ব্যবহার করা হয় টর্চার সেল হিসেবে। কলেজের মাঠের ঝোপঝাড়ে ধর্ষণ করা হয় নারীদেরকে। কলেজটিতে রয়েছে একাধিক গণকবর। যা বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফেরদৌসী খান চিন্হিত করে সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, গণকবরগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে মুজিব বর্ষে বাংলাদেশকে উপহার দিবেন।

এছাড়াও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন দীর্ঘ নয়মাস ব্যাপী কলেজটিতে বাঙলা সাইনবোর্ড নামিয়ে উর্দু সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু অত্যন্ত লজ্জার বিষয় এই যে, ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি যে স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত তা আজও অধরা!

বাংলা ভাষার চর্চার নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে নেই কোন ভাষা গবেষণা ইন্সটিটিউট!  ফলে যেমন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের আঞ্চলিক ভাষা তেমনি ছেলে/মেয়েরা শিখছে না প্রমিত বাংলা উচ্চারণ বা লিখনও।

তাই বাঙলা কলেজের সাবেক/ বর্তমান সকল শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি মমতাময়ী নেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা "জাতির পিতার'' জন্ম শতবার্ষিকীতে বাঙলা কলেজটিকে বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় এ রূপান্তরিত করে  দীর্ঘদিনের আশা এবং কলেজটি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করে বাংলা ভাষার চর্চাকে প্রসারিত করুন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাঙ্গালি হিসেবে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি তার প্রেম অার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আপনার একাধিক বার জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ বাঙ্গালি জাতিকে গর্বিত করেছেন।
 
এবার আপনার কাছে আমাদের প্রাণের দাবি এদেশে একটি বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বাংলা ভাষার চর্চাকে প্রসারিত করবেন।

আর সেই বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার যোগ্য দাবিদার বাঙলা কলেজ।
আমাদের বিশ্বাস আপনি আমাদের নিরাশ করবেন না।

ইতি,
বাঙলা কলেজের সকল শিক্ষার্থীদের পক্ষে
জাফর ইকবাল
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,
বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতি(বাকসাস)

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন