সাড়ে তিনশ বছরের পুরনো মসজিদ

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২০ | ০৩:৩২:৪৫ পিএম
সাড়ে তিনশ বছরের পুরনো মসজিদ
এগারসিন্দুর নামটি এলেই ঈশা খাঁর (১৫২৯-১৫৯৯) প্রসঙ্গ চলে আসে। কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ার এ গ্রামটিতে ঈশা খাঁর দুর্গ ছাড়াও রয়েছে বহু পুরনো বেশ কিছু স্থাপত্য। দুর্গের এক কিলোমিটার দূরে শাহ মাহমুদ মসজিদ। ১৬৬৪ সালে নির্মিত মসজিদটি এখনো নামাজের উপযোগী। চারপাশটা ঘুরে যখন দেখছিলাম, তখন আসরের সময়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মসজিদে নিয়মিত সালাতের পাশাপাশি জুমা ও তারাবির সালাত আদায় হয়।’ মসজিদের ভেতরে শখানেক লোকের জায়গা হয়। মসজিদের বাইরে হাঁটু সমান উঁচু করে সীমানা দেয়াল করা হয়েছে, এর ভেতরই নামাজের উপযোগী খোলা জায়গা।

মসজিদের প্রবেশমুখে বালাখানা, এর সামনে পুকুর। আগে মুসল্লিরা পুকুরেই অজু সারত। পরবর্তী সময়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে অজুখানা করা হয়েছে।

মসজিদের ভেতর ও বাইরে সুলতানি আমলের চিত্রফলক। এক গম্বুজের বর্গাকৃতি নির্মাণশৈলীর মসজিদের চার কোনায় চারটি আটকোনাকৃতির মিনার। মসজিদের দেয়ালে পোড়ামাটির চিত্রফলকও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে পশ্চিম দিকে তিনটি মিহরাব। শাহ মাহমুদ নামে ওই সময়কার এক ধনাঢ্য ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। এ মসজিদ থেকে একটু দূরেই শেখ সাদি জামে মসজিদ। মসজিদটি সাদামাটাভাবেই নির্মিত হয়েছে। শাহ মাহমুদের ভাই শেখ সাদির নামেই মসজিদটির নামকরণ হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ জানান, শাহ মাহমুদ মসজিদ করার ২০ বছর আগেই শেখ সাদি মসজিদটি নির্মিত হয় বলে বাপ-দাদাদের কাছে শুনেছেন। শাহ মাহমুদ ও শেখ সাদি দুই ভাই; দুজনই ব্যবসায়ী। শাহ মাহমুদ ও শেখ সাদির ব্যাপারে স্থানীয়রা বেশি কিছু জানেন না। শায়েস্তা খাঁর আমলে (১৬৬৪-১৬৮৮) এই এলাকা বেশ প্রসিদ্ধ ছিল, দূরদূরান্ত থেকে নদীপথে বাণিজ্যের জন্য ব্যবসায়ীরা আসত। স্থানীয়দের ধারণা, তারা হয়তো পরদেশি ব্যবসায়ী। তাদের যুক্তি, স্থানীয় হলে তাদের বংশধরদের খোঁজ পাওয়া যেত।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন