ময়মনসিংহে ধর্ষণ বিরোধী আইনে সচেতনতা বেড়েছে

ফজলে এলাহি ঢালী, তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০ | ০৪:৫২:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে ধর্ষণ বিরোধী আইনে সচেতনতা বেড়েছে
ময়মনসিংহে ধর্ষণ রিরোধী নতুন আইনে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের দ্বারস্ত হয়ে বিচার প্রার্থনার হার অন্য সব সময়ের চাইতে কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।সামাজিক ন্যায়বিচারের পাশাপাশি ধর্ষণ বিরোধী আইনের প্রয়োগে আগের চাইতে অনেক বেশী তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। ধর্ষণের মত এমন অপকর্ম সংগঠনে পর অভিযোগ প্রাপ্তির পরপরই সংশ্লিষ্ট থানাগুলো আসামী ধরতে তৎপরতা দেখাচ্ছে।

ময়মনসিংহের অনেক থানাতেই অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা হয়েছে। এসব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন জানিয়েছেন নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে প্রতিটি থানা এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু হয়েছে। তবে এই কয়দিনেই ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় ধর্ষণের কারনে প্রায় ১০টির অধিক মামলা দায়ের হয়েছে। একে একে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন শশুর, খালু, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, শিশু, এক কথায় বিভিন্ন বয়সের মানুষ। প্রতিটি ঘটনায় মামলা হয়েছে, পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর তারাকান্দা থানাধীন ১নং তারাকান্দা ইউনিয়নের পিঠাসূতা গ্রামে শশুর রহুল আমিন(৫৫) কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন গৃহবধু। পুলিশ ধর্ষককে ঢাকা জেলার আশুলিয়া হতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত রহুল আমিন এখন কারাগারে। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভাগ্নীকে ধর্ষণের অভিযোগে খালু সোহাগ এখন কারাগারে। এই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়েরের পর ১০ নভেম্বর ফুলবাড়িয়া হতে সাহাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থানায় এ্যাসাইনমেন্ট করে দেবার নাম করে নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ১১ নভেম্বর ধানক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ একই গ্রামের অব্দুল মন্নাছের পুত্র মাহমুদুল্লাহ (১৯)-র উপর। এ বিষয়ে গ্রামে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভিকটিমের পিতা।

অপরদিকে, একই থানায় বাড়িতে ডেকে নিয়ে ২য় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষন করেছে প্রতিবেশী এক কিশোর। ১০ নভেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়ায় ঘটে এই ঘটনা। ধর্ষণের এই ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মামলা করলে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অপরদিকে একই থানায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে চাচা শশুর। ১ নভেম্বর রাতে ঘটে এই ঘটনা। পুলিশ চাচা শশুরকে আটক করেছে এবং তিনি আদালতের মাধ্যমে এখন কারাগারে আছেন।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে কথিত কবিরাজের কাছে ধর্ষণের স্বীকার হয়েছেন চিকিৎিসা নিতে আসা এক নারী। গত ৪ নভেম্বর ভিকটিমকে ধর্ষণ করে কথিত এই কবিরাজ। কথিত এই কবিরাজ এখন কারাগারে। অপরদিকে নান্দাইলেই খারুয়া ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামে ১১ নভেম্বর প্রতিবন্ধী চাচাতো বোনকে ধর্ষণ করে হুমায়ুন নামের যুবক। পুলিশ হুমায়ুনকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় এক নারী(২৪)কে শেরপুর যাবার গাড়ীতে তুলে দেবার কথা বলে জঙ্গলে নিয়ে গনধর্ষণ করেছে কয়েক বখাটে। গত ১৪ নভেম্বর এই ঘটনায় জাফর ও হাসান নামে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ময়মনসিংহ শহরে গত ১ নভেম্বর মোবাইলে ভিডিও দেখানোর কথা বলে মালগুদাম এলাকায় অপু নামের এক যুবক ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায়ও কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন