পুরান ঢাকায় এরফান সেলিমের ‘টর্চার সেল’

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | সারাদেশ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ | ১০:৩৬:০৮ পিএম
পুরান ঢাকায় এরফান সেলিমের ‘টর্চার সেল’
পুরান ঢাকার চকবাজারের একটি বহুতল ভবনের ছাদের একটি কক্ষ থেকে হাতকড়া, ছোরা, দূরবীন, হকিস্টিক, লাঠি, মানুষের হাড়, রশি, ইয়াবা খাওয়ার কয়েলসহ কিছু জিনিস উদ্ধারের পর র‌্যাব বলছে, এই কক্ষকে ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে এরফান সেলিম।

এরফান নিজেও একজন জনপ্রতিনিধি; পুরান ঢাকার সোয়ারি ঘাট, মিটফোর্ড রোড ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি।

আগের রাতে ধানমণ্ডিতে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে ‘মারধরের’ জেরে সোমবার দুপুরে সোয়ারি ঘাটের দেবী দাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব।

নয়তলা ওই ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা মিলিয়ে থাকতেন এরফান চৌধুরী। সেখানে লাইসেন্সহীন দুটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

ওই বাসা থেকে ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে গ্রেপ্তার করে মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহারের জন্য বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযান শেষে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে ওই বাড়ি থেকে এরফান ও জাহিদকে বের করেন র‌্যাব সদস্যরা।

এর আগে, নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমকে মারধরের ঘটনায় মামলায় গ্রেপ্তার হন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ এরফান। আজ সোমবার ভোরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম নিজেই বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম (৩৭), তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ (৩৫), হাজী সেলিমের মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু (৪৫), গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ (৩০) অজ্ঞাতপরিচয়ের দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইরফানের গাড়ি ওয়াসিমকে ধাক্কা মারার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিম সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামান এবং গাড়ির সামনে দাঁড়ান। নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনই মেরে ফেলব।’

এরপর বের হয়ে ওয়াসিমকে কিলঘুষি মারেন এবং তার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা মারধর করে ওয়াসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যান। তার স্ত্রী, স্থানীয় জনতা এবং পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডির ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উদ্ধার করে আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন