শার্শার সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ইন্ধনে প্রকল্পে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

সাইবুর রহমান (সুমন) শার্শা প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | ১১:৩৪:৩৫ পিএম
শার্শার সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ইন্ধনে প্রকল্পে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ
শার্শা উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমানের ইন্ধনে অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কোর্স প্রকল্পে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।

গত ১৮ অক্টোবর রবিবার সকালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় বেনাপোলে ৭ দিনের গরু মোটাতাজাকরণ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়। অভিযোগকারী গরু মোটাতাজাকরণ প্রশিক্ষণ কোর্সের শিক্ষার্থী ও বেনাপোল পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজুর রহমান (৩০) জানান, প্রকল্পের আওতায় গরু মোটাতাজাকরণ প্রশিক্ষণ কোর্সের ৭দিন সময়সীমা থাকলেও উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পরদিনই শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষকের স্থলে ট্রেনিং দিতে আসে কর্মকর্তা হাবিবের ব্যাক্তিগত লোক শরিফুল। ৭ দিনের ট্রেনিং শেষে কোর্স করার সনদ প্রাপ্তিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কর্মকর্তা হাবিবের মনোনীত প্রায় ১০ জন প্রার্থীর প্রশ্ন উত্তরের লেখা খাতা দেখে শিক্ষার্থীরা হৈ চৈ শুরু করেন।

কারন জানতে চাইলে শরিফুল উচ্চ স্বরে জানান, এ গুলো হাবিব স্যারের লোক। এমন কি তারা ট্রেনিং এ উপস্থিত না থাকলেও ৭ দিনের অগ্রিম উপস্থিতি স্বাক্ষর গ্রহন করা হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচায়ে মঙ্গলবার সকালে প্রশিক্ষন স্থলে গিয়ে দেখা যায়, ১০/১২জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নিচ্ছেন শরিফুল। সাংবাদিকদের উপস্থিতি বুঝে কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে তা জানালে তড়িঘড়ি চলে আসেন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ভূলবসত শিক্ষার্থীরা হাজিরা ফর্মে ৭দিনের স্বাক্ষর করেছেন। ভূলবসত ১০জন শিক্ষার্থী কিভাবে ৭ দিনের স্বাক্ষর করলো ও আপনার অফিসিয়াল কাগজ বা লেখা প্রশ্নপত্র বহিরাগত লোকের হাতে কেন এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদত্তর দিতে পারেনি।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আরব আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোর্স কোঅর্ডিনেটরের উপস্থিতিতে প্রশিক্ষণরতরা সাক্ষর করবেন। ট্রেনিং এ প্রশিক্ষক না থাকা এবং কোর্স শেষ হওয়ার পূর্বেই পরীক্ষার খাতা পূরনের বিষয়টি দুঃখ জনক ঘটনা। অভিযোগ খতিয়ে দেখে তিনি দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন বলে আরো জানান।

উল্লেখ্য প্রশিক্ষন কোর্সের ২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জন বেনাপোল নূর শপিং মলের প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী। বাকী ৯ জন অন্যত্র ব্যাবসায়ীক বা প্রাইভেট চাকুরীজিবী। কেবলমাত্র ৩ হতে ৪জন বেকার যুবক।

জাহিদুল ইসলাম, কামরুজ্জামান সহ কোর্সের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের কে কোর্স শেষে ৫শতাংশ সুদে ক্ষুদ্র ঋনের ব্যাবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে আইডি কার্ডের কপি ও ছবি সংগ্রহ করেন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমেরন সহযোগী শরিফুল। কোর্স শেষের পূর্বেই কর্মকর্তার ইন্ধনে শরিফুলের নানা অনিয়ম প্রশ্নবিদ্ধ ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে দাবী করেন প্রশিক্ষনরতরা।

ইতিপূর্বে গোগা গ্রামের মাহাবুব নামের এক ব্যক্তি শার্শা উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস হতে লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শার্শার বিভিন্ন এলাকা হতে সদস্য ভর্তি ফি বাবদ জন প্রতি ২০০টাকা উত্তলোন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে আরো জানা যায়।
 
বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষন করে অনিয়ম রোধে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন ৭দিন মেয়াদী গরু মোটাতাজাকরণ কোর্সের প্রশিক্ষণরতরা।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন