লক্ষ্মীপুরের ইউপি উপনির্বাচন: ভোট কেন্দ্র ছিলো আ.লীগের দখলে

বিএম সাগর, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | ০৭:৪৭:১৪ পিএম
লক্ষ্মীপুরের ইউপি উপনির্বাচন: ভোট কেন্দ্র ছিলো আ.লীগের দখলে
লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ও রায়পুরের কেরোয়া ইউপি উপ-নির্বানকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রগুলো ছিলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলে। সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে রায়পুরের কেরোয়া ইউপি নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম সরকার।

চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী সমর্থিত নৌকা প্রতীকের মো. নুরুল আমিন, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ধানের শীষের মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহম্মদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে মো. হাছান।  রায়পুরের কেরোয়া আওয়ামীলীগের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী কহিনুর আক্তার রেখা এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম সরকার।

সরেজমিনে জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ভোট কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্রের আশেপাশে বহিরাগতদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্যনীয়। তারা সকলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী।

ভোট গ্রহণের আগমূহুর্তে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর লোকজনকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দিতে দেখা গেছে। এ সময় আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন ভোটার বহনকারী একাধিক অটোরিক্সা ভাঙচুর ও চালককে মারধর করেছে। সকাল ৯টার দিকে ভোট শুরুর পর থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও বেলা ১১টার পর থেকে ভোটারশূন্য ছিলো অধিকাংশ কেন্দ্র। এ সময় কেন্দ্রের আশেপাশে ছাত্রলীগের কর্মী সমর্থকরা অবস্থান নেয়। এদের মধ্যে অনেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরকে ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। সকাল প্রায় ১০ টার দিকে চন্দ্রগঞ্জের লতিফপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা রিংকু। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুরের পর ওই কেন্দ্র পুরোপুরি আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে দেওপাড়া কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ছাত্রলীগ নেতা কাজী বাবলুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক কর্মীদের ভোটার স্লিপ হাতে ধরিয়ে ভোটার লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আসার খবর ফেলে তারা লাইন রেখে সটকে পড়ে। ম্যাজিষ্ট্রেট চলে যাওয়ার পর পর তারা আবার লাইনে দাঁড়িয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সব কর্মীদের দিয়ে জাল ভোট দেওয়ানো হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বসুদুহিতা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ভোটার লাইনে প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশাপাশি কিশোরা দাড়িয়ে আছে। বেশ কয়েকজন কিশোর ভোটার স্লিপ হাতে ব্যালট পেপারের জন্য বুথে প্রবেশ করে ভোট দেওযার জন্য। এ সময় গনমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি দেখে তাদের ব্যাটল পেপোর দেননি দায়িত্বরত সহকারী পিজাইডিং কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে তারা বলেন, ভোটার নাম্বাররের সাথে নাম এবং ছবির মিল না থাকায় তাদের ব্যালট পেপার দেওয়া হয়নি। এর কিছুক্ষণ পর ওই কেন্দ্রে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ প্রবেশ করলে লাইন থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় অপ্রাপ্তবয়স্করা। জানা গেছে, এরা সকলে জাল ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে। একই কেন্দ্রের আরেকটি কক্ষে প্রবেশ করে দেখা গেছে এক ব্যক্তি আরেকজনের ব্যালটে সিল মেরে দিতে। এছাড়া বহিরগত ছাড়াও আওয়ামীলীগের দলীয় নেতাকর্মী বিভিন্ন বুথে জটলা করে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বিএনপি সমর্থিত এজেন্টরা অসহায় প্রকাশ করে বলেন, আমরা নিরিহ। কেউ আমাদের সাপোর্ট দেয় না। তাই অনিয়ম হলেও আমরা কিছু বলি না।  

দুপুর ১টার দিকে কফিল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ কেদ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেলে ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ ছিলো। দায়িত্বরত সহকারী প্রিজাইংডিং অফিসার বলেন, ভোটাররা লাইনে এলোমেলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলো। সাংবাদিক আসছে তাই তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়াতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ জন্য ভোট গ্রহণে কিছুটা ধীরগতি হচ্ছে। দুপুর আড়াইটার দিকে দেওয়ান শাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক ভোটারদের লাইন।
এদিকে, ভোট চলাকালীন সময়ে ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি পরবর্তীতের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান। যদিও ভোট গ্রহণের শুরুর পর সকাল ৯টার দিকে নিজের ভোট প্রদান করে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্রসহ ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে বহিরাগতরা টহল দিচ্ছে। কেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীরা। বিএনপি সমর্থিত নারী ভোটাররা হেনস্থার শিকার হয়েছে।
 
অন্যদিকে রায়পুরের কেরোয়া বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র আওয়ামীগের নেতাকর্মীদের দখলে ছিলো। ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১ নং কেন্দ্রে নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এসএম জাকির হোসেন নামে এক সংবাদকর্মী। ঘটনার প্রতিবাদে রায়পুরের কর্মরত সাংবাদিকেরা মানববন্ধন করে।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন