‘ধর্ষণের জন্য দায়ী নারীর পোশাক’, যে ব্যাখ্যা দিলেন অনন্ত জলিল

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | বিনোদন
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০ | ১২:১১:৩০ পিএম
‘ধর্ষণের জন্য দায়ী নারীর পোশাক’, যে ব্যাখ্যা দিলেন অনন্ত জলিল
ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন চিত্রনায়ক ও পোশাক ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল। এক ভিডিও বার্তায় চলমান ধর্ষণ বিরোধী প্রতিবাদ নিয়ে বলতে গিয়ে এ মন্তব্য করেছিলেন তিনি। পরে সমালোচনার মুখে সেই ভিডিও মুছে দিয়ে সংশোধিত ভিডিও পোস্ট করেছেন অনন্ত। এরপর তিনি এ বিষয়ে নতুন আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেন, সঙ্গে জুড়ে দেন প্রথম ভিডিওর কিছু অংশ।

অনন্ত জলিল তার নতুন ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ, বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিকল্প কিছু নেই।’

তিনি লিখেন, ‘পরিবারের দায়িত্ব নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। নারী-পুরুষ উভয়েই পরিবার ও সমাজের জন্য অনিবার্য। পরিবার টিকিয়ে রাখার জন্য যেমন নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, পরিকল্পনা, ত্যাগ ও সংযমের প্রয়োজন। একজনকে উপেক্ষা করে বা বাদ দিয়ে কেবল পুরুষ কিংবা নারীর পক্ষে বেশিদূর এগুনো সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই নারী-পুরুষের সৌহার্দ্যপূর্ণ সমঝোতামূলক সম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক।’

বাংলা চলচ্চিত্রের এ চিত্রনায়ক ও প্রযোজক লিখেন, ‘গতকালকের ভিডিওতে আমি মূলত মেয়েদেরকে শালীনতা বজায় রাখার জন্য বলতে চেয়েছি। অনেকেই বিষয়টিকে পজিটিভভাবে নিয়েছেন আবার অনেকেই নেগেটিভভাবে নিয়েছেন। আমি কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না। তাই আমি উক্ত বিষয়টি কারেকশন করে দিলাম। কেউ ভুল বুঝে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।’

নতুন ভিডিওতে অনন্ত জলিল বলেন, ‘আমি শুধু মেয়েদেরকে না, সারা দেশের মানুষকেই সম্মান করি। এটা মুখে বলার কথা না। আমি ২০০৮ সাল থেকে মিডিয়ায়, ২০০৮ সালে ‘‘খোঁজ দ্য সার্চ’’ এর শুটিং করি, এখন ২০২০। অনন্ত জলিলের ক্যারেক্টার সবার জানা।’

তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েদেরকে সম্মান করি। মেয়েরা মায়ের জাত। গতকাল সন্ধ্যায় আমি একটি ভিডিও আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম। সেই ভিডিওতে আমি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ও বেড়ে চলা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কিছু কথা বলেছি। এবং নারীরা কি করলে ধর্ষণের শিকার হবে না সেই বিষয়ে কিছু মতামত দিয়েছি। পরবর্তীতে মেয়েদের এই অংশটি আমি বাদ দিয়ে এডিটিং করে পুনরায় ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে দেই।’

অনন্ত বলেন, ‘আমি একটি ব্যাপারে মর্মাহত। ভিডিওতে তিন মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আমি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে বলেছি। যারা পোশাক নিয়ে সমালোচনার কথা বলেছেন তাদের চোখে এই তিন মিনিট ৪৯ সেকেন্ড চোখে পড়েনি। যত সমালোচনা হয়েছে... তাহলে আমি যে তিন মিনিট ৪৯ সেকেন্ড ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে বললাম কঠোর কথাগুলো, সেগুলো নিয়ে তো অ্যাপ্রিশিয়েটও করতে পারতেন। তাহলে এখানে কী দাঁড়াল? নেগেটিভটাই আপনাদের কাছে বড়? এটা আমার সমালোচকদের কাছে প্রশ্ন। আমার মনে হয় এ প্রশ্নের জবাব আপনাদের কাছে পেয়ে যাব।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন