পাহাড়ী ছেলে ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে লেখা পড়া

তাপস ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি | সাক্ষাৎকার
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২০ | ০১:৪৪:৩৩ পিএম
পাহাড়ী ছেলে ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে লেখা পড়া
বেশ কষ্টের জীবন নিয়ে গড়ে উঠা সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা। গেল কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ীদের মনে কৌতুহল সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে বাংলা পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা।
 
বাংলা পত্রিকা: ফেসবুকে আপনার জীবনের বাস্তবতা নিয়ে যা লেখা হয়েছে তা কি সত্যি?
সুদত্ত: আসলে আমি যে ভাইরাল হয়েছি নিজেই জানিনা।

বাংলা পত্রিকা: তাহলে এ নিয়ে আপনার মতামত কি? আপনি কি নিষেধ করছেন?
সুদত্ত: ঠিক তা না। আমি চির দু:খী মানুষ আমার মত করে আমি বাঁচতে চাই। আমি অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে চাইনা।
 
বাংলা পত্রিকা: আপনার সম্পর্কে যদি আমাদের জানাতেন?
সুদত্ত: ৭ম শ্রেণী থেকে ঢাকায় আছি। বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে বড় হয়েছি। বর্তমানে সহীদ সরকারী সোহরোওয়ার্দী কলেজ থেকে অনার্স ফাইনাল দিয়েছি। এতদিন পর্যন্ত ঢাকায় এবং বর্তমানে রিক্সা চালাই।
 
বাংলা পত্রিকা: পরিবারে কয়জন আছেন?
সুদত্ত: বাবা নাই এক বছর আগে ক্যান্সার রোগে মারা গেছেন। মা বেঁচে আছেন। আমরা চার ভাই বোন। তার মধ্যে তিন ভাই এক বোন। সবার ছোট বোনটি আর সবার বড় আমি।

বাংলা পত্রিকা: আপনার ঠিকানা বা জন্ম স্থান কোথায়?
সুদত্ত: রাংগামাটি জেলা কাপ্তাই উপজেলার গর্জনীয়া পাড়া। বাবা মৃত রায় মোহন তঞ্চঙ্গ্যা, মাতা মনপুতি তঞ্চঙ্গ্যা।

বাংলা পত্রিকা: ভাই বোনেরা কি করে?
সুদত্ত: এক ভাই ঢাকা এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অর্থনীতি অনার্স ৪র্থ বর্ষে, আরেক ভাই এইচএসসি পাশ করে আর্থিক সমস্যার কারণে পড়াশুনা বন্ধ। বোনটি এসএসসি পাশ করে রাজস্থলী কলেজে ১ম বর্ষে।

বাংলা পত্রিকা: বর্তমানে আপনি কোথায় থাকেন?
সুদত্ত: ফার্মগেট।

বাংলা পত্রিকা:- আর্থিক অভাবে প্রায় দেখা যায় বর্তমানে অনেকে খারাপ পথে পা বাড়ায়। এতে আপনার মতামত কি?

সুদত্ত: দেখুন যারা সত্যিকারে শিক্ষায় সুশিক্ষিত হয় তারা কোন দিন খারাপ কিছু করতে পারে না। গরীব বা ধনী যে কেউ। যদি কেউ করে থাকে তাহলে তার ভিতরে সত্যিকারে জ্ঞান বা মনুষ্যত্ত্ব কিছুই নেই সে যতই ভদ্র হোক।

বাংলা পত্রিকা: আপনার বাস্তবতা থেকে প্রজন্মকে কিছু বলুন।
সুদত্ত:- কি আর বলবো সবাই বুঝে। কষ্ঠের মাঝেও নিজেকে ভাল রাখতে হবে। অভাব বা কষ্ঠকে জয় করতে পারলেই জীবন স্বার্থক। খারাপ কিছু করে নিজের ক্ষনিকের ভাল হলেও জাতির এবং দেশের সুফল বয়ে আনে না। ভালভাবে চলুন, ভাল কিছু করুন তাহলে দেশের জাতির উন্নয়নসহ সুফল আর শান্তি আসবে।

বাংলা পত্রিকা: ধন্যবাদ আপনাকে।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন