নাঙ্গলকোটে অন্তত ২০ টি ব্রীজ ঝুঁকিপুর্ণ; যাতায়াতে দুর্ভোগ

মোঃ বশির আহমেদ, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০ | ০৭:৩৮:৩৬ পিএম
নাঙ্গলকোটে অন্তত ২০ টি ব্রীজ ঝুঁকিপুর্ণ; যাতায়াতে দুর্ভোগ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন সড়কে অন্তত ২০ টি ব্রিজ, কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়ায় যাতায়াতে জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত দুই বছর ধরে এসব ব্রিজ -কালভার্টগুলো ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ গুলো নির্মাণে কোন প্রদক্ষপ নিচ্ছেন না।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ডাকাতিয়া নদী বেষ্টিত  উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে চারটি ব্রিজ ও জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে তিনটি ব্রিজ সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ ও কালভার্টগুলো দিয়ে যাত্রীবাহি মাইক্রোবাস, এ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, মালবাহী ট্রাক, পিকআপভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ছোট-বড় যানবাহনকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ব্রিজ ও কালভার্টগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষকে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্রিজগুলোর অধিকাংশের রেলিং নেই। কোথায়ও ষ্টিলের পাত, সিমেন্টের ঢালাই, কাঠ ফেলে কোনভাবে যানবাহন ও যাত্রীদের যাতায়াতের উপযোগী করে রাখা হয়েছে। আবার কোন-কোন ব্রিজের উপর দিয়ে যানবাহন চলাতো যায়না। হেঁটে যাতায়াত করারও ব্যবস্থা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজগুলোর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনকে পার হতে দেখা যায়। ব্রীজ ভাঙ্গার কারণে অনেকে অধিক পথ ঘুরে মালামাল আনা নেয়া করে। এতে অধিক ভাড়া ও বেশি সময় নষ্ট করতে হয়।

উত্তর সাতবাড়িয়া গ্রামের রমজান আলী, কবির আহম্মেদ, ছালে আহম্মদ ও চৌকুড়ি গ্রামের ইসমাইল, আবদুল মতিন বলেন, গত প্রায় দুই বছর থেকে উত্তর সাতবাড়িয়া ও নাইয়ারা ব্রিজ দিয়ে কোন ভাবে যানবাহন এবং এলাকাবাসীকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতাযাত করতে হচ্ছে। ব্রিজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যে কোন মুহুর্তে দুর্ঘটনায় জীবনহানির আশংকা রয়েছে। তারা দ্রুত ব্রিজগুলো পুনঃনির্মাণের দাবি জানান।

জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রীজ-কালভার্টগুলো গত ২৫- ৩০বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়। গত দুই বছর থেকে ব্রীজগুলোর বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পড়ায় এলাকাবাসীকে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ইতিপূর্বে স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ-কালভার্টগুলো নির্মাণে  বার-বার তথ্য প্রেরণ করা হলেও দীর্ঘদিনেও ব্রিজ-কালভার্টগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে না।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বক্সগঞ্জ-কাবিলাখালী-সাতবাড়িয়া সড়কে সাতবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রিজ, সাতবাড়িয়া-মন্নারা সিজিয়ারা-শিহর বাজার সড়কে ডাকাতিয়া নদীর উপর সাতবাড়িয়া ও নাইয়ারা ব্রিজ, সাতবাড়িয়া-রঘুনাথপুর বাজার তপোবন সড়কে খালের উপর ব্রিজ, মলংচর-বাসডাঙ্গা -বৈরাগী সড়কে খালের উপর (বাসডাঙ্গা) ব্রিজ, আদ্রা ইউপির মানিকমুড়া বাজার-ঘোড়াময়দান সড়কে খালের উপর ঘোড়াময়দান ব্রিজ, নাঙ্গলকোট জিসি-লুদুয়া আরএইচডি খালের উপর লুদুয়া পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন ব্রিজ, বাইয়ারা-মানিকমুড়া সড়কের দুয়ারিয়া নামকস্থানে খালের উপর ব্রিজ, একই সড়কে এক কিলোমিটারের মধ্যে আরেকটি ব্রিজ, ঢালুয়া-চান্দগড়া- চডিয়াবাজার সড়কে চাঁন্দগড়া ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে প্রায় ৮/১০টি  কালভার্ট ভেঙ্গে পড়ায় এলাকাবাসীকে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার মাহিনী-লক্ষিপদুয়া সড়কের তালতলার কালভার্ট, বটতলী ইউনিয়নের বটতলী-রাজারবাগ সড়কের কালভার্ট, মান্নারা-ভবানিপুর সড়কে খালেক মেম্বার বাড়ি সংলগ্ন কালভার্টসহ ৮-১০টি কালভার্ট দীর্ঘদিন থেকে ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহনসহ এলাকাবাসীকে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল হক বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে কয়েকটি ব্রীজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তবে গ্রামীণ সড়কে একশ মিটার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ব্রিজ-কালভার্টগুলো নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন ব্যয় তৈরী করে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
 
বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন