রিকশাচালককে বাঁচাতে গিয়েই ‘দ্য বস’ গ্যাংয়ের হাতে খুন হন সোহাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০৮:৫৮:২৪ পিএম
রিকশাচালককে বাঁচাতে গিয়েই ‘দ্য বস’ গ্যাংয়ের হাতে খুন হন সোহাগ
রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ি খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় এমন উঠতি কিশোরদের হাতে গত ২৭ আগস্ট প্রাণ দিতে হয়ছে কলেজছাত্র মো. সোহাগকে (২০)। চাঞ্চল্যকর সোহাগ হত্যার ঘটনায় দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেকে অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তারা হলেন মো. মাহবুবুল ইসলাম রাসেল ওরফে কাটার রাসেল (২০) ও মো. হৃদয়কে (২২)।

আজ মঙ্গলবার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল। তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ি খ্রিস্টানপাড়া রোডের ডাক্তার বাড়ি মোড়ে কিশোর গ্যাং গ্রুপ ‘দ্য বস’ এর হৃদয়, রাসেলসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আড্ডা দিচ্ছিল। আনুমানিক রাত ৮টা ৩৫ মিনিটের দিকে একই রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটি রিকশা চাকা থেকে কাঁদা ছিটকে হৃদয়ের গায়ে লাগে। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে রিকশাচালককে মারধর করতে থাকে।

শাফী উল্লাহ বুলবুল আরও জানান, একজন অসহায় রিকশাচালককে এভাবে মারতে দেখে নিহত মো. সোহাগ এগিয়ে আসেন এবং মারধরে বাধা দেন। সোহাগের এমন আচরণ মেনে নিতে না পেরে হৃদয় ও রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে ফোন করে তাদের গ্যাংয়ের সদস্য নাদিম, সানি, মেহেদী, সাদ, সাব্বিরসহ বেশ কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে আসে এবং সকলে মিলে নিহত সোহাগের ওপর চড়াও হয়।

এ সময় নাদিমের কাছে থাকা ধারাল ছুরি নিয়ে রাসেল ওরফে কাটার রাসেল নিহত সোহাগের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে এবং একপর্যায়ে সবাই পালিয়ে যায়। তখন সোহাগ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ওই রিকশার চালক, আরোহী এবং আশেপাশের লোকজন তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত আনুমানিক ১০টায় তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পরে নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। 

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, উত্তরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল মো. সোহাগ। পাশাপাশি টঙ্গী বাজার এলাকায় তার ভগ্নিপতির দোকান দেখাশোনা করতেন। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট, সর্বদা হাসিখুশি ও মিশুক স্বভাবের। ঘটনার দিন গরুর খাদ্য কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বাসা থেকে বের হন।

গ্রেপ্তার আসামি রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, সে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফায়দাবাদ আলিয়া মাদ্রাসায় দাখিল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। বর্তমানে সে উত্তরা আইডিয়াল কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। সে হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন কিশোর গ্যাং গ্রুপ ‘দ্য বস’ এর সদস্য। এই গ্রুপ ‘হৃদয় গ্যাং’ নামেও পরিচিত। হৃদয়ের গ্যাংয়ের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তাদের সঙ্গে ওঠাবসা করার সুবাদে কোনো ঝামেলা হলেই সে পায়ের রগ কাটার ভয় দেখাত। সে প্রায় সময় ছুরি, ক্ষুর ইত্যাদি সঙ্গেহ রাখত। পায়ের রগ কাটার হুমকি দেয় বলেই সমবয়সী সবাই তাকে ‘কাটার রাসেল’ নামে ডাকতে শুরু করে এবং সে ওই নামেই এলাকায় পরিচিত হয়। ঘটনার পর রাসেল গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। কোনো স্থানেই সে এক-দুই দিনের বেশি অবস্থান করত না। একপর্যায়ে সে দেশত্যাগ করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।

গ্রেপ্তার অপর আসামি মো. হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, সে ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করার পর পড়াশোনা বাদ দিয়ে উত্তরায় একটি ওয়ার্কশপে কাজ শুরু করে। তার সঙ্গে রাসেল, নাদিম, সানি, মেহেদী, সাদ, সাব্বিরসহ এলাকার উঠতি বয়সের কিশোরদের সু-সম্পর্ক থাকায় সবাইকে নিয়ে কিশোর গ্যাং ‘দ্য বস’ প্রতিষ্ঠা করে এবং তার নেতৃত্ব দেয়। এই গ্যাংয়ের লিডার হিসেবে তার নামে হৃদয় গ্যাং নামেও এটি বহুল পরিচিত। এই গ্রুপের সদস্য প্রায় ১০-১২ জন। ঘটনার পর থেকে সকলকে আত্মগোপনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে সে আত্মগোপন করেছিল। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তারা দেশ ত্যাগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় এসেছিল বলে জানায় র‌্যাব।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন