৩ দিনে ভারতে গেলো ১৯৭ টন ইলিশ, বন্ধ হলো পেঁয়াজ

নিলয় হাসান | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০৯:৩১:২৪ পিএম
৩ দিনে ভারতে গেলো ১৯৭ টন ইলিশ, বন্ধ হলো পেঁয়াজ
গত তিন দিনে বাংলাদেশের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ১৯৭ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ভারতে গেলেও বন্ধ হয়ে গেছে পেঁয়াজ রপ্তানি। এতে বাংলাদেশের বাজারে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। বাজারে ১০০ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। ধারণা করা হচ্ছে, এখনও পেঁয়াজের লাগান না ধরলে গত বারের মত দাম টাবল সেঞ্চুরিও ছাড়বে।

জানা গেছে, প্রথম দিনে দু’টি ট্রাকে গেছে ৪১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন, দ্বিতীয় দিন ৬৩ মেট্রিক টন এবং বুধবার রপ্তানি হয়েছে ৯৩ দশমিক ৬ মেট্রিক টন ইলিশ। এদিন রপ্তানিমূল্য ছিল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫০ ডলার। বুধবার ইলিশের চালানটির রপ্তানিকারক ছিলো ঢাকার রিপা এন্টারপ্রাইজ ও খুলনার জাহানাবাদ সি ফিশ লিমিটেড। প্রতিকেজি ইলিশের রপ্তানি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মার্কিন ডলার হিসেবে আটশ’ টাকা। এই দরে রপ্তানি করা প্রতিটি ইলিশের সাইজ ছিলো এক কেজি থেকে ১২শ’ গ্রাম ওজনের।

মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও বেনাপোলের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার নয়জন রপ্তানিকারককে মোট ১ হাজার ৪৭৫ টন ইলিশ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। প্রতিকেজি ১০ মার্কিন ডলার দরে মোট ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর ভারতে মোট ১ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রপ্তানি করা হবে। বেনাপোল কাস্টমস থেকে মাছগুলো ছাড়িয়ে রপ্তানির দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছে সিএন্ডএফ এজেন্ট নিলা এন্টারপ্রাইজ।

সিএন্ডএফ এজেন্ট মহিতুল হক জানান, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের কলকাতায় ইলিশ নিয়ে যাচ্ছেন। পরে সেখানকার বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে। কলকাতা ছাড়াও এই ইলিশ বিক্রি হবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে।

অপরদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বেনাপোল বন্দর দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল পেঁয়াজ আমদানি। গত সোমবার বিকেলে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। ফলে বেনাপোলের ওপারের পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে পেঁয়াজভর্তি প্রায় দেড়শ ট্রাক।

বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল রপ্তানিকারক সমিতির পক্ষে ব্যবসায়ী কার্তিক ঘোষ বলেন, আমদানি বাণিজ্য শুরুর পর থেকে ২৫০ ডলারে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়ে আসছে। কিন্তু বন্যার কারণে ভারতের নাসিকে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা স্থানীয় বাজারদর হিসাবে ৭৫০ ডলারের নিচে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর আটকে দেয়া হয় বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাকগুলো।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, ভারত কোন ঘোষণা ছাড়াই মূল্যবৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। পারস্পারিক বাণিজ্য সমঝোতার বিকল্প নেই। তারা রপ্তানি বন্ধ না করে পেঁয়াজের আমাদানিকারকদের সময় বেধে দিতে পারতেন। হঠাৎ নেয়া এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন এপারের আমদানিকারকরা।

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে ভারতের হিলির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শংকর দাস বলেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অবস্থায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে রপ্তানি বন্ধে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ভারত সরকার হিলি কাস্টমসে নির্দেশনা দিয়েছে। সে মোতাবেক কাস্টমস কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আজ থেকে সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে।

শংকর দাস জানান, এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি। তবে অচিরেই জারি হবে। একইসঙ্গে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খোলা রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর বিপরীতেও কোনো পেঁয়াজ প্তানি হবে না।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর গতবছর শারদীয়া দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা হিসেবে ৬ মার্কিন ডলার হিসেবে ৫০৭ টাকা কেজি দরে পাঁচশ’ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। ওই বছরের ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছের সর্বশেষ চালান ভারতে প্রবেশ করে।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন