নওগাঁর বদলগাছীতে রাস্তা পাকাকরণে বালুর পরিবর্তে মাটি

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০৭:১৭:৩৭ পিএম
নওগাঁর বদলগাছীতে রাস্তা পাকাকরণে বালুর পরিবর্তে মাটি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা সদরের ছোট যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের চেলাকালি মোড় হতে ডাঙ্গিসারা গ্রামের রাস্তাটি পাকাকরণ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ন এ রাস্তাটির পাকাকরণ কাজের শুরু থেকেই করা হচ্ছে বিভিন্ন অনিময়ম। উপজেলা কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের যোগসাজসে বালুর পরিবর্তে দেয়া মাটি এবং রাস্তার প্রস্থ্য পরিমাপেও কম করা হয়েছে এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। গুরুত্বপূর্ন এ রাস্তাটি সংস্কারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারী দাবী করা হয়েছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোট যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের চেলাকালি মোড় হতে ডাঙ্গিসারা গ্রামের ভিতর পর্যন্ত ১১শ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রাস্তার কাজ হচ্ছে। যেখানে প্রস্থতা রয়েছে ১০ ফুট ৪ ইঞ্চি। কাজটি করছেন নওগাঁ ঠিকাদার রনি টের্ডাস এর প্রোপাইর সাবেদুল ইসলাম রনি।

কাজের শুরু থেকেই চলছিল বিভিন্ন অনিয়ম। বালুর বদলে উপজেলা চেয়ারম্যানের পুকুর হতে মাটি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাস্তার প্রস্থতায় ১০ ফুট ৪ ইঞ্চির পরিবর্তে ১০ ফুট করা হয়েছে। শুরু থেকেই কাজের অনিয়ম হওয়ায় এলাকাবাসীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। পরিবর্ততে রাস্তা শিডিউল মোতাবেক করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষরা বলছেন।

ডাঙিসারা গ্রামের নাসির উদ্দিন বলেন, ইটের মধ্যে অধিকাংশ পিকেট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। বাঁধের রাস্তাটি শক্ত ও মজবুত হওয়া দরকার। কিন্তু সেখানে বলতে গেলে নিন্মমানের কাজ হচ্ছে।

রাজু আহমেদ বলেন, প্রথম থেকেই কাজের সমস্যা। শুরুতেই বালুর পরিবতে পুখুর থেকে মাটি দেয়া হয়েছিল। জনগনের চাপে পরে সামান্য কিছু বিট বালু দেয়া হয়েছে।

ঠিকাদারের ম্যানেজার রবিউল বলেন, আগে রাস্তার দৈর্ঘ্যরে পরিমান একটু কম ছিল। পরে ঠিক করে দেয়া হয়েছে। রাস্তায় পিকেট ব্যবহার করা যাবে। কোন সমস্যা নাই।

ঠিকাদার সাবেদুল ইসলাম (রনি) বলেন, কাজের শুরুতে পুখুর হতে সামান্য কিছু বালু দেওয়া হয়েছে পরে ইউএনও স্যার নিষেদ করার তা আর দেওয়া হয়নি। এছাড়া সর্ম্পন নিয়ম মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান বলেন, প্রথম দিকে বালুর পরিবর্তে মাটি এবং রাস্তার প্রস্থতায় কম ছিল। পরে আবার বালু দিয়ে সেগুলো সংস্কার করে এবং ল্যাবে পরীক্ষার পর কাজের অনুমোতি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কোন ধরনের সমস্যা নাই। এছাড়া শিডিউলে পিটেক ইট (কালো ইট) ব্যবহার করা যাবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

বদলগাছী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোতি ছাড়া কোন মন্তব্য করা যাবে না।

বাংলাপত্রিকা/এসএ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন