খেয়াঘাট সংস্কারে বিআইডব্লিউটিএর ধীরগতি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

টিটু আহম্মেদ, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধ | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০৬:৫৯:৪১ পিএম
খেয়াঘাট সংস্কারে বিআইডব্লিউটিএর ধীরগতি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ও আগানগর ইউনিয়ন এর বিভিন্ন খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী খেয়ানৌকা, ট্রলার ও বিআইডব্লিউটিসি চালিত ওয়াটার বাস দিয়ে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ করে। এই পারাপারে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই। গত পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে নৌ নিরাপত্তা কথা বলে বিআইডব্লিটিএ উল্লেখযোগ্য তিনটি ঘাট বন্ধ করায় নৌ পারাপারে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

বর্তমানে জেলা পরিষদ ঘাট, আলম টাওয়ার ঘাট, খাজার ঘাট সহ বেশ কয়েকটি ঘাটের নৌকা সদরঘাট অংশের বিনা স্মৃতি(ডাব ঘাট) ঘাটে এসে ভিড়তে হচ্ছে। কয়েকটি ঘাটের নৌকা একটি ঘাটে ভিড়ার কারণে সেখানে নৌকার জটলা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থায়ী কোন সিঁড়ি না থাকায় ওঠানামায় ও ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। উঠানামার স্থানটি ঢালু হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে মাটি পিচ্ছিল হয়ে পা পিছলে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত ৯ই সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকের পর বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান স্থায়ীভাবে ঘাট নির্মাণ করে পল্টুন স্থাপন করতে কয়েক মাস সময় চেয়ে, অস্থায়ী ঘাট পারাপার উপযোগী করতে সংস্কার কার্যক্রম করার ঘোষণা দিলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার যাত্রী সাধারনকে। 

এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হওয়া যাত্রী মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন আমি প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে পারাপার হই।নতুন করে ঘাটে স্থানান্তর হওয়ায় সেখানে কোন সিঁড়ির ব্যবস্থা না থাকায় অনেক অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়।সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে কাদার সৃষ্টি হয় এবং কাদামাটি থাকায় রাস্তা অনেক পিচ্ছিল হয়ে যায়। গতকাল এক মুরুব্বী আমার চোখের সামনেই কাদায় পিছলে পড়ে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পায় আমরা কয়েকজনে ধরে তাকে টেনে তুলেছি। একেতো ঘাট স্থানান্তর হওয়ায় পারাপারে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে, তার উপর আবার ওঠানামায় বিরাট অসুবিধা, তাই বি আই ডব্লিউ টি কে অনুরোধ করছি ওঠানামার জন্যে একটি ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য।

খাজা সুপার মার্কেটের ঘাট দিয়ে পার হওয়া প্রতিদিনের যাত্রী আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন ঘাট দিয়ে পারাপার হতে বিআইডব্লিউটি কে ঘাট খাজনা বাবদ ৪ টাকা করে দিতে হয়। এই খাজনার বিপরীতে আমাদের যে নাগরিক সুবিধা পাওয়ার কথা তা তো পাচ্ছিনা। ঘাটের কোন সংস্কার নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘাটের চতুর্পাশে কাদার সৃষ্টি হয় আর এই কাদা পেরিয়েই প্রতিদিন আমাদের যাতায়াত করতে হয়। তাই বিআইডব্লিউটি কাছে আবেদন আমাদের ঘাট সংস্কার করে দেয়া হোক না হলে আগে আমরা যে ঘাট ব্যবহার করতাম তা ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক ও ঢাকা নদী বন্দরের ইনচার্জ একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি অস্থায়ী ঘাটে উঠানামার সিঁড়ির ব্যবস্থা করতে, আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয় যখন কথা দিয়েছেন কাজ হয়ে যাবে। কবে নাগাদ হবে জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এখন জনমনে প্রশ্ন তাহলে কি এ ঘাট গিয়ে ওঠা নামা করতে গিয়ে কারো হাত পা ভাঙলে বা বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এরপর টনক নড়বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

বাংলাপত্রিকা/এসএ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন