ফুলবাড়ীতে সাবেক ছিটমহলের মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ

মাহাবুব রহমান সুমন, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০৫:০৫:৫৫ পিএম
ফুলবাড়ীতে সাবেক ছিটমহলের মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ভুয়া নিয়োগে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতি করার অভিযোগ সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সুপার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ছিটমহল বিনিময়ের পর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সাবেক সিটমহল দাসিয়ারছড়াডয় শিক্ষার আলো ছড়াতে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় একমাত্র ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসা।

কিন্তু তৎকালীন সুপার আমিনুল ইসলাম নিয়োগ বাণিজ্য, দূর্নীতি, মাদ্রাসার জমি নিজের নামে করে নেয়াসহ বিভিন্ন অপকর্মের কারণে চরম বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি ও প্রাথমিক অনুমোদন অর্জন করতে পারেনি। তিনি নিজে উপজেলার মধ্য কাশিপুর দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভি পদে কর্মরত রয়েছেন। যাহার ইনডেক্স নং R-2006528। তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত থাকায় নতুন প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ কম ছিল বলে অভিযোগ অন্যান্য শিক্ষকদের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক সুপার আমিনুল ইসলাম ১২ জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও মাদ্রাসার তহবিলের টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুপারের বিভিন্ন দূর্নীতির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিটমহল আন্দোলনের নেতা আলতাফ হোসেন ও তৎকালীন সহ সুপার শাহানুর আলম ৩ মার্চ, ২০১৮ তারিখে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ২০ জুন, ২০১৮ তারিখে সরেজমিনে অভিযোগ তদন্ত করেন তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাদের কাজী।

তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি ৩২ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ, মাদ্রাসার ২৭ শতাংশ জমি নিজের নামে রেকর্ড, অবৈধ প্রভাব খাটনোসহ নিজের পরিবারের লোকদের নিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগের প্রমাণ পান মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি প্রহসনমূলক ভাবে গঠিত কমিটি ভেঙ্গে দেয়ারও সুপারিশ করেন। এমতাবস্থায় সুপার আমিনুল ইসলাম ৩০ জুন, ২০১৮ তারিখে পদত্যাগ পত্র জমা দেন যা মাদ্রাসার ৭ জুলাই, ২০১৮ তারিখের ম্যানেজিং কমিটির সভায় গৃহীত হয়।

ওই বছরের ৪ জুলাই সহ সুপার শাহানুর আলমকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১ নভেম্বর সুপার হিসেবে যোগদান করেন শাহানুর আলম। এরপর ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে মাদ্রাসাটি জাতীয়করণের ঘোষণায় আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন সাবেক সুপার আমিনুল ইসলাম। এর দু’দিন পর তিন শতাধিক স্থানীয় লোক নিয়ে মাদ্রাসা জবরদখলের চেষ্টা করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের নির্দেশে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয় বলে জানান বর্তমান সুপার।

জানা গেছে, ২ জুলাই, ২০১৮ তারিখের দৈনিক জনতা পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে ব্যাকডেটে পুনরায় তৎকালীন কমিটির কাছে সুপার হিসেবে নিয়োগ নেন তিনি। উল্লেখ্য, সেই কমিটিতে তার বাবা ছিলেন সভাপতি। এরপর আরো আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। ভুয়া রেজুলেশন ও কাগজপত্র তৈরি করে পূর্বে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আবারো লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

বর্তমানে সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন সহ কয়েকজন ছিটমহল আন্দোলনের নেতা সাবেক সুপার আমিনুল ইসলামের সাথে মিলে পুরোনো শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষকগণ। সেই সাথে ব্যাহত হয়ে পড়েছে সদ্য জাতীয়করণের ঘোষণা হওয়া মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম। উদ্ভুত পরিস্থিতি সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ ব্যাপারে সাবেক সুপার আমিনুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সাবেক সুপার আমিনুল ইসলাম নিজ ইচ্ছায় ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন। পরবর্তীতে আবারও যোগদানের জন্য পত্রিকায় যে বিজ্ঞপ্তি রয়েছে সেটা মূল পত্রিকায় পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, সাবেক সুপার আমিনুল ইসলাম অন্য একটি মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন