সীমান্তে মানুষ হত্যা হচ্ছে, সরকার নিশ্চুপ : রিজভী

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | রাজনীতি
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০৬:০৯:৪০ পিএম
সীমান্তে মানুষ হত্যা হচ্ছে, সরকার নিশ্চুপ : রিজভী
সীমান্তে মানুষ হত্যা হচ্ছে, সরকার ‘নিশ্চুপ’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ রোববার দুপুরে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এত করুণ অবস্থা, দেশের সার্বভৌমত্ব এত দুর্বল যে প্রায় দুই দিন-তিন দিন পর বর্ডারে মানুষকে মারছে, মানুষ হত্যা করছে, দেশের মানুষ রক্তাক্ত হচ্ছে। আজ পর্যন্ত ৩৩ জনকে হত্যা করেছে বিএসএফ (ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী)। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সীমান্ত অঞ্চল হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের এই সীমান্ত। আপনি এত নতজানু সরকার যে একটা প্রতিবাদও করতে পারছেন না এটার জন্য।’

রিজভী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে চাপাই নবাবগঞ্জের বর্ডারে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে, সুনামগঞ্জের বর্ডারে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে, লারমনিরহাটের বর্ডারে একজন গুলিবিদ্ধ হচ্ছে, না হলে মেরে ফেলা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, “ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক।” স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক থাকলে সীমান্তে মানুষ মারা যায় কিনা? অর্থাৎ এই কথাটার মধ্যে আপনাদের যে আনুগত্য কত হেয় টাইপের এটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।’

বিএনপি সব দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির  নীতি হচ্ছে, পার্শ্ববর্তী  দেশ, দূরবর্তী দেশ সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাথতে চায়। কিন্তু নিজের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করে নয়। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য নিজের দেশের স্বার্থকেও তিনি বিসর্জন দিচ্ছেন। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আইন, বিচার, প্রশাসন, আইনি প্রক্রিয়া- সব কিছু সরকার প্রধানের নির্দেশে হয়, সব কিছু তার কথায় হয়। অর্থাৎ সে যাকে পছন্দ করে না তাকে জেলে যেতে হবে, তাকে মামলায় পড়তে হবে, সে নিরুদ্দেশ হবে, সে গুম হবে। আর যে তার প্রিয় লোকজন তা শত শত কোটি টাকা দুর্নীতি হোক, পর্দাকাণ্ড, বালিশকাণ্ড হোক-তাদের সাত খুন মাফ, সব কিছু মাফ। আজকে লুটেরা লীগে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ। এটা আজকে বাস্তবতা। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললে তার প্রমাণ দেখবেন ‘

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্মরণে মাদ্রাসার এতিম  শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রদানে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানটি বাড্ডার একটি মাদ্রাসায় হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের বাধার কারণে এটি নয়া পল্টনের কার্যালয়ে হয়। উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ও যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামান বক্তব্য দেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন