বুড়িগঙ্গার কেরানীগঞ্জ অংশে বিআইডব্লিটিএ'র উচ্ছেদ অভিযান

টিটু আহম্মেদ, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০৭:০৯:২৭ পিএম
বুড়িগঙ্গার কেরানীগঞ্জ অংশে বিআইডব্লিটিএ'র উচ্ছেদ অভিযান
বুড়িগঙ্গা নদীর উচ্ছেদ হওয়া অংশে পুনরায় দখল করে বসানো স্থাপনা উচ্ছেদে নেমেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিটিএ)। এ অভিযানে একটি পাকা একতলা মার্কেটসহ বেশকিছু টংঘর, কয়েকটি ইটাবালু বিক্রির গদি সহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং সরকারি জমিতে ইট,বালু রাখায় তা নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ই সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নীচে হাসনাবাদে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বে, বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব জামিল অভিযানটি পরিচালনা করেন।

এসময় সরকারি জায়গায় রাখা ইটা, বালু, লাল বালু, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ৮ লক্ষ ৬২ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় দু'জনকে আটক করা হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে এক্সকেভেটর দিয়ে একটি একতলা বিল্ডিং ভাঙ্গার সময় ছাদ চাপা পড়ে নাদিম (৪০) নামের বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে এম্বুলেন্স যুগে দ্রুত তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব জামিল বলেন, স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী কাউকেই সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেয়া হবে না।আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে চলে যাওয়ার পর তা পুনরায় আবার দখল হয়ে যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে কিভাবে স্থায়ী সমাধান করা যায় সে ব্যাপারে একটা সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এখন থেকে উদ্ধার হওয়া অংশ যেন পুনরায় দখল হতে না পারে সেজন্য আমরা এখানে গাছের চারা রোপণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক ও ঢাকা নদী বন্দরের ইনচার্জ এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান, এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অনেক দিন যাবত এখানে সরকারি জায়গা দখল করে ইট, বালুর ব্যবসা করে আসছে। আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার পরপরই তা আবার দখল হয়ে যায়। এখন থেকে দখলদারদের কোনো প্রকার সুযোগ নেই। দখলকৃত পাকা ও আধাপাকা সকল স্থাপনা যা পূর্বে ভাঙা সম্ভব হয়নি তা আজ ভেঙে দেয়া হয়েছে।
 
বিআইডব্লিউটিএ’র  উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। কোন প্রকার প্রভাব-প্রতিপত্তি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে আমলে নেয়া হয়নি, আর হবেও না। তিনি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন‌।

বাংলাপত্রিকা/এসএ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন